ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত হলে মূল্যশৃঙ্খলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা সহজ হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে জনপ্রশাসন হবে জনবান্ধব: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বন্ধ কারখানা চালু ও বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে: জামায়াত আমির তারেক রহমান এখন শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন: সারজিস আলম

সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের প্রস্তাব

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গ্রাহকদের মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তনের (এমএনপি) সেবা ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে।

এতে গ্রাহকদের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে অপারেটরগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে সিম ট্যাক্স বাবদ ১০০ টাকা ও এমএনপির ক্লিয়ারিং ফি ৫০ টাকাসহ সর্বমোট ১৫৮ টাকা আদায় করছে।

এ কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক গ্রাহক এ সেবা গ্রহণ করছেন না। গত ৭ অক্টোবর অর্থমন্ত্রীকে পাঠানো এক আধা সরকারিপত্রে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এমএনপি সার্ভিস প্রসারে এ বাধার কথা তুলে ধরেন।

চিঠিতে তিনি সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন।

চিঠিতে তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, এমএনপি সেবা দিতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের নাম ও নম্বরের পরিবর্তন হচ্ছে না। সেবাটিতে শুধু আগের অপারেটর থেকে নতুন অপারেটরে যাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কারিগরি প্রয়োজনে নতুন সিম গ্রহণ করতে হচ্ছে।

সার্বিক বিবেচনায় এমএনপি সেবা কার্যকরভাবে চালু করতে গ্রাহক পর্যায়ে ধার্যকৃত ১০০ টাকা সিম ট্যাক্স প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এমএনপি সেবা কার্যকরভাবে চালু না হলে একাধিক অপারেটরদের মধ্যে গ্রাহক সেবা ও বাজার ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী এনবিআরকে একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাব অনুযায়ী আমরা এ ক্ষেত্রে কর না নিতে পারি। কিন্তু টেকনিক্যাল কারণে কোন সিমকার্ড বদলাচ্ছে সে হিসাবটি তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করবে।’

এরপর ১৪ অক্টোবর বিটিআরসি এনবিআরে চিঠি দিয়ে জানায়, এমএনপি সেবার আড়ালে সিম ট্যাক্স ফাঁকির সুযোগ নেই। কারণ গ্রাহক নতুন অপারেটরের সিম গ্রহণ করলেও নম্বর অপরিবর্তিত থাকছে।

আর এমএনপি সার্ভিস দেয়ার জন্য মোবাইল অপারেটর গ্রাহককে যে সিম দেবে তার তথ্য পৃথকভাবে স্টকে সংরক্ষণ সম্ভব। নতুন সিম ও প্রতিস্থাপন সিমের মতো এনবিআর এমএনপির জন্য সরবরাহকৃত সিমের হিসাব বা তথ্য সংশ্লিষ্ট অপারেটরের স্টক রেজিস্টার থেকে সংগ্রহ করতে পারবে।

প্রয়োজনে সেসব তথ্য বিটিআরসি ও এমএনপি সার্ভিস প্রদানকারী সংস্থা ইনফোজিলিয়ন লিমিটেড থেকে যাচাই-বাছাই করতে পারবে।

এ ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে বিটিআরসি। এগুলো হচ্ছে- মোবাইল অপারেটরদের প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আগের মাসে তাদের নেটওয়ার্কে কী পরিমাণ গ্রাহক যুক্ত হয়েছে তার সংখ্যা ও সিমের তথ্য এনবিআরে পাঠানোর বিধান চালু করা যেতে পারে।

অপরটি হচ্ছে- এমএনপি সার্ভিস প্রদানকারী সংস্থা ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বিডি লিমিটেডও একইভাবে সব অপারেটরের গ্রাহক যুক্ত ও বেরিয়ে যাওয়ার তথ্য এনবিআর ও বিটিআরসিকে মাসিক ভিত্তিতে পাঠাবে।

এ দুই পদ্ধতি অবলম্বন করা হলে এমএনপি সেবার আড়ালে সিম ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, এমএনপি সেবার ওপর সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের আবেদনটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

অচিরেই এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠিয়ে নির্দেশনা চাওয়া হবে। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। বিটিআরসির প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, এমএনপি চালু হওয়ার পর গত ১৮ দিনে ৪৭ হাজার ৯০ জন গ্রাহক অপারেটর পরিবর্তনের আবেদন করেছেন।

২৬ হাজার ৮১৭ জন গ্রাহক অপারেটর বদলাতে সফল হয়েছেন। ২০ হাজার ২৫৫ জন গ্রাহক আবেদন করেও অপারেটর বদলাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমএনপি সেবার আওতায় অপারেটর পরিবর্তনের জন্য ওই গ্রাহকের অপারেটরের কাছে কোনো বকেয়া আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০

সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের প্রস্তাব

আপডেট সময় ০৫:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গ্রাহকদের মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তনের (এমএনপি) সেবা ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে।

এতে গ্রাহকদের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে অপারেটরগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে সিম ট্যাক্স বাবদ ১০০ টাকা ও এমএনপির ক্লিয়ারিং ফি ৫০ টাকাসহ সর্বমোট ১৫৮ টাকা আদায় করছে।

এ কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক গ্রাহক এ সেবা গ্রহণ করছেন না। গত ৭ অক্টোবর অর্থমন্ত্রীকে পাঠানো এক আধা সরকারিপত্রে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এমএনপি সার্ভিস প্রসারে এ বাধার কথা তুলে ধরেন।

চিঠিতে তিনি সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন।

চিঠিতে তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, এমএনপি সেবা দিতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের নাম ও নম্বরের পরিবর্তন হচ্ছে না। সেবাটিতে শুধু আগের অপারেটর থেকে নতুন অপারেটরে যাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কারিগরি প্রয়োজনে নতুন সিম গ্রহণ করতে হচ্ছে।

সার্বিক বিবেচনায় এমএনপি সেবা কার্যকরভাবে চালু করতে গ্রাহক পর্যায়ে ধার্যকৃত ১০০ টাকা সিম ট্যাক্স প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এমএনপি সেবা কার্যকরভাবে চালু না হলে একাধিক অপারেটরদের মধ্যে গ্রাহক সেবা ও বাজার ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী এনবিআরকে একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাব অনুযায়ী আমরা এ ক্ষেত্রে কর না নিতে পারি। কিন্তু টেকনিক্যাল কারণে কোন সিমকার্ড বদলাচ্ছে সে হিসাবটি তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করবে।’

এরপর ১৪ অক্টোবর বিটিআরসি এনবিআরে চিঠি দিয়ে জানায়, এমএনপি সেবার আড়ালে সিম ট্যাক্স ফাঁকির সুযোগ নেই। কারণ গ্রাহক নতুন অপারেটরের সিম গ্রহণ করলেও নম্বর অপরিবর্তিত থাকছে।

আর এমএনপি সার্ভিস দেয়ার জন্য মোবাইল অপারেটর গ্রাহককে যে সিম দেবে তার তথ্য পৃথকভাবে স্টকে সংরক্ষণ সম্ভব। নতুন সিম ও প্রতিস্থাপন সিমের মতো এনবিআর এমএনপির জন্য সরবরাহকৃত সিমের হিসাব বা তথ্য সংশ্লিষ্ট অপারেটরের স্টক রেজিস্টার থেকে সংগ্রহ করতে পারবে।

প্রয়োজনে সেসব তথ্য বিটিআরসি ও এমএনপি সার্ভিস প্রদানকারী সংস্থা ইনফোজিলিয়ন লিমিটেড থেকে যাচাই-বাছাই করতে পারবে।

এ ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে বিটিআরসি। এগুলো হচ্ছে- মোবাইল অপারেটরদের প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আগের মাসে তাদের নেটওয়ার্কে কী পরিমাণ গ্রাহক যুক্ত হয়েছে তার সংখ্যা ও সিমের তথ্য এনবিআরে পাঠানোর বিধান চালু করা যেতে পারে।

অপরটি হচ্ছে- এমএনপি সার্ভিস প্রদানকারী সংস্থা ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বিডি লিমিটেডও একইভাবে সব অপারেটরের গ্রাহক যুক্ত ও বেরিয়ে যাওয়ার তথ্য এনবিআর ও বিটিআরসিকে মাসিক ভিত্তিতে পাঠাবে।

এ দুই পদ্ধতি অবলম্বন করা হলে এমএনপি সেবার আড়ালে সিম ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, এমএনপি সেবার ওপর সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের আবেদনটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

অচিরেই এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠিয়ে নির্দেশনা চাওয়া হবে। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। বিটিআরসির প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, এমএনপি চালু হওয়ার পর গত ১৮ দিনে ৪৭ হাজার ৯০ জন গ্রাহক অপারেটর পরিবর্তনের আবেদন করেছেন।

২৬ হাজার ৮১৭ জন গ্রাহক অপারেটর বদলাতে সফল হয়েছেন। ২০ হাজার ২৫৫ জন গ্রাহক আবেদন করেও অপারেটর বদলাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমএনপি সেবার আওতায় অপারেটর পরিবর্তনের জন্য ওই গ্রাহকের অপারেটরের কাছে কোনো বকেয়া আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করা হয়।