ঢাকা ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে সরকারি কমিটির প্রতিবেদনকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী দাবি করে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে একটি সংগঠন।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা তুলে নেয়ার সুপারিশ প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। একই দাবিতে শাহবাগ চত্বরে মহাসমাবেশ করবে তারা।

সোমবার দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘কোটা বাতিল করতে হলে সব শ্রেণির চাকরিতে করতে হবে আর কোটা বহাল রাখতে হলেও সব শ্রেণির চাকরিতে রাখতে হবে।’

‘সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের যে সুপারিশ করা হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই প্রতিবেদন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। এই ধরনের প্রতিবেদনের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের অপমান করা হয়েছে।

‘তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে কোটা থাকবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে না, সমাজে কোটার প্রয়োজন নেই।’

কোটা সুবিধার প্রয়োজনীয়তা রাষ্ট্রে এখনও শেষ হয়নি উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।’

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএসসহ সব চাকরি পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি থেকেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তিকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়ার দাবিও জানানো হয়।

কেবল মুক্তিযোদ্ধা কোটা নয়, নারী, জেলা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী কোটাও বহাল থাকুক-এই দাবিও জানান মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তারা কখনও হামলা করেননি তারা হামলা ঠেকিয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে এ বিষয়ে গঠন করা কমিটি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিলের সুপারিশ করেছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই সুপারিশ পৌঁছে দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ৫৬ শতাংশ কোটা আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩০ শতাংশ কোটা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সংরক্ষিত। ১০ শতাংশ করে আছে জেলা ও নারী কোটা এবং পাঁচ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আর এক শতাংশ রয়েছে প্রতিবন্ধী কোটা।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সন্তানদেরকে অন্তর্ভুক্ত করার পর এই কোটা বাতিলের দাবিতে রাজপথে নামার চেষ্টা করে শিবিরপন্থীরা। এরপর আরও তিন দফা সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনে সব মিলিয়ে কোটা ১০ শতাংশ করার দাবি তুলে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় ০৫:১৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে সরকারি কমিটির প্রতিবেদনকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী দাবি করে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে একটি সংগঠন।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা তুলে নেয়ার সুপারিশ প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। একই দাবিতে শাহবাগ চত্বরে মহাসমাবেশ করবে তারা।

সোমবার দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘কোটা বাতিল করতে হলে সব শ্রেণির চাকরিতে করতে হবে আর কোটা বহাল রাখতে হলেও সব শ্রেণির চাকরিতে রাখতে হবে।’

‘সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের যে সুপারিশ করা হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই প্রতিবেদন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। এই ধরনের প্রতিবেদনের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের অপমান করা হয়েছে।

‘তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে কোটা থাকবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে না, সমাজে কোটার প্রয়োজন নেই।’

কোটা সুবিধার প্রয়োজনীয়তা রাষ্ট্রে এখনও শেষ হয়নি উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।’

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএসসহ সব চাকরি পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি থেকেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তিকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়ার দাবিও জানানো হয়।

কেবল মুক্তিযোদ্ধা কোটা নয়, নারী, জেলা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী কোটাও বহাল থাকুক-এই দাবিও জানান মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তারা কখনও হামলা করেননি তারা হামলা ঠেকিয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে এ বিষয়ে গঠন করা কমিটি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিলের সুপারিশ করেছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই সুপারিশ পৌঁছে দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ৫৬ শতাংশ কোটা আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩০ শতাংশ কোটা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সংরক্ষিত। ১০ শতাংশ করে আছে জেলা ও নারী কোটা এবং পাঁচ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আর এক শতাংশ রয়েছে প্রতিবন্ধী কোটা।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সন্তানদেরকে অন্তর্ভুক্ত করার পর এই কোটা বাতিলের দাবিতে রাজপথে নামার চেষ্টা করে শিবিরপন্থীরা। এরপর আরও তিন দফা সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনে সব মিলিয়ে কোটা ১০ শতাংশ করার দাবি তুলে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।