ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুন্সীগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধসহ আহত ৯ বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে সরকার ‘সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’: প্রধান উপদেষ্টা মুরাদনগরে ২ লাখ টাকাসহ জামায়াত নেতা আটক টাকাসহ জামায়াত নেতা আটকের বিষয়টি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হওয়ার সুযোগ নেই: মাহদী আমিন ভোটকেন্দ্রে নাশকতার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা: র‍্যাব ডিজি একটি গোষ্ঠী ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত: জামায়াত আমির ভোটে নারীদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের আহ্বান টাকাসহ জামায়াত নেতাকে আটকের ঘটনা সাজানো নাটক: এহসানুল মাহবুব জোড়া সুপার ওভারে শেষ হাসি দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতের সঙ্গে বিসিবির দূরত্ব নেই, খেলার সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর: বুলবুল

৫ বছর কারাদণ্ড বহাল রেখে সড়ক পরিবহন বিলের রিপোর্ট চূড়ান্ত

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান বহাল রেখে সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ এর রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সোমবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন সংসদে রিপোর্ট উপস্থাপন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, কমিটির রিপোর্ট প্রণয়নে সহায়তা করার জন্য কমিটির সদস্যদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের যেসব কর্মচারী বিলটি পরীক্ষার কাজে কমিটিকে সহায়তা করেছেন কমিটির পক্ষ থেকে তাদেরকেও জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত অপরাধে বলা হয়েছে, এই আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন মোটরযান চালনাজনিত কোনো দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে কোনো ব্যক্তি আহত হইলে বা তার প্রাণহানি ঘটিলে তৎসংক্রান্ত অপরাদসমূহ পেনাল কোড ১৮৬০ (অ্যাক্ট নং এক্সএলভি অফ ১৮৬০) এর এতদসংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অপরাধ বলিয়া গণ্য হবে।

শাস্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘তবে শর্ত থাকে যে, ফৌজদারি কার্যবিধিতে যাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত মোটরযান চালানোর কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হলে বা তাহার প্রাণহানি ঘটলে ওই ব্যক্তি অনধিক ৫ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন’।

বিলে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে কাউকে আহত করলে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ট্রাফিক আইন অমান্য করলে পয়েন্ট কাটার ব্যবস্থাও থাকবে আইনে।

নির্ধারিত পয়েন্টের নিচে গেলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। চালককে নতুন করে আবার লাইসেন্স নিতে হবে। বিলে ব্যক্তিগত গাড়ি চালনার জন্য চালকের বয়স আগের মতোই অন্তত ১৮ বছর রাখা হয়েছে। তবে পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর।

সংসদে উত্থাপিত বিলে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চালকের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাসের শর্ত রাখা হয়েছে। আগের আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। নতুন আইনের সহকারী হতেও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে।

সহকারীর পঞ্চম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট থাকতে হবে। আগের অধ্যাদেশে সহকারীদের লাইসেন্সের কথা থাকলেও তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত ছিল না। এছাড়া সহকারী হতে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্সের বিধানও থাকছে।

বিলে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে অনধিক ছয় মাসের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সহকারীরও শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে বিলে। চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলের বিধান অনুযায়ী গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না চালক। এই বিধান অমান্য করলে এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে।

এছাড়া ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে- এমন অপরাধের ক্ষেত্রে চালককে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে পুলিশকে। নতুন আইনের বিধি অমান্য করলে পয়েন্ট কাটার বিধান রাখা হয়েছে বিলে।

বিলের বিধান অনুযায়ী লাইসেন্সে থাকবে মোট ১২ পয়েন্ট। বিভিন্ন বিধি অমান্যে কাটা যাবে এই পয়েন্ট। পয়েন্ট শূন্য হলে বাতিল হবে চালকের লাইসেন্স। এরপর চালকে নতুন করে লাইসেন্স নিতে হবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ এক বছর ঝুলে থাকার পর আলোচিত এই নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি গত ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়।

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সরকার ওই আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার অথবা বুধবার বিলটি পাসের কথা রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মুন্সীগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধসহ আহত ৯

৫ বছর কারাদণ্ড বহাল রেখে সড়ক পরিবহন বিলের রিপোর্ট চূড়ান্ত

আপডেট সময় ০৯:২৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান বহাল রেখে সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ এর রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সোমবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন সংসদে রিপোর্ট উপস্থাপন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, কমিটির রিপোর্ট প্রণয়নে সহায়তা করার জন্য কমিটির সদস্যদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের যেসব কর্মচারী বিলটি পরীক্ষার কাজে কমিটিকে সহায়তা করেছেন কমিটির পক্ষ থেকে তাদেরকেও জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত অপরাধে বলা হয়েছে, এই আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন মোটরযান চালনাজনিত কোনো দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে কোনো ব্যক্তি আহত হইলে বা তার প্রাণহানি ঘটিলে তৎসংক্রান্ত অপরাদসমূহ পেনাল কোড ১৮৬০ (অ্যাক্ট নং এক্সএলভি অফ ১৮৬০) এর এতদসংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অপরাধ বলিয়া গণ্য হবে।

শাস্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘তবে শর্ত থাকে যে, ফৌজদারি কার্যবিধিতে যাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত মোটরযান চালানোর কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হলে বা তাহার প্রাণহানি ঘটলে ওই ব্যক্তি অনধিক ৫ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন’।

বিলে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে কাউকে আহত করলে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ট্রাফিক আইন অমান্য করলে পয়েন্ট কাটার ব্যবস্থাও থাকবে আইনে।

নির্ধারিত পয়েন্টের নিচে গেলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। চালককে নতুন করে আবার লাইসেন্স নিতে হবে। বিলে ব্যক্তিগত গাড়ি চালনার জন্য চালকের বয়স আগের মতোই অন্তত ১৮ বছর রাখা হয়েছে। তবে পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর।

সংসদে উত্থাপিত বিলে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চালকের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাসের শর্ত রাখা হয়েছে। আগের আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। নতুন আইনের সহকারী হতেও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে।

সহকারীর পঞ্চম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট থাকতে হবে। আগের অধ্যাদেশে সহকারীদের লাইসেন্সের কথা থাকলেও তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত ছিল না। এছাড়া সহকারী হতে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্সের বিধানও থাকছে।

বিলে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে অনধিক ছয় মাসের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সহকারীরও শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে বিলে। চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলের বিধান অনুযায়ী গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না চালক। এই বিধান অমান্য করলে এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে।

এছাড়া ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে- এমন অপরাধের ক্ষেত্রে চালককে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে পুলিশকে। নতুন আইনের বিধি অমান্য করলে পয়েন্ট কাটার বিধান রাখা হয়েছে বিলে।

বিলের বিধান অনুযায়ী লাইসেন্সে থাকবে মোট ১২ পয়েন্ট। বিভিন্ন বিধি অমান্যে কাটা যাবে এই পয়েন্ট। পয়েন্ট শূন্য হলে বাতিল হবে চালকের লাইসেন্স। এরপর চালকে নতুন করে লাইসেন্স নিতে হবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ এক বছর ঝুলে থাকার পর আলোচিত এই নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি গত ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়।

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সরকার ওই আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার অথবা বুধবার বিলটি পাসের কথা রয়েছে।