ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গ্রামের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে না পারলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়: ভূমি প্রতিমন্ত্রী একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতার অবসান ঘটিয়ে জবাবদিহিমূলক সংসদ চাই: হুইপ নিজান অকার্যকর ও সরকারনিয়ন্ত্রিত মানবাধিকার কমিশন চাপিয়ে দিলে তা আত্মঘাতী হবে: টিআইবি সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল শাপলা চত্বরে হত্যা মামলায় এবার আসামি হচ্ছেন ইনু: চিফ প্রসিকিউটর মহাসচিবের কাছে পদবঞ্চিতদের নালিশ- ‘একসময়ের প্রভাবশালী যুবদল এখন মৃতপ্রায়’ ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা, ৩ আগস্ট ছাত্রসমাবেশে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার এক ব্যক্তি বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী সৌদি আরব

ময়মনসিংহে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ময়মনসিংহে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ (১৫) হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলায় অপর দুই আসামিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো. সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নাজমুল হক (২৬) ও এনামুল হক। এছাড়া মামলার অপর দুই আসামি নাজমুল ও এনামুলের বাবা জিয়াউল হক (৫৭) এবং তাদের চাচা জুলহাস উদ্দিনকে (৩৭) সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভূগলী নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জিয়াউল হক, জুলহাস উদ্দিন ও নাজমুল হক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে এনামুল হক পলাতক রয়েছেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. আবু হানিফ খান এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম খান।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়তেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াউল হকের মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়েটির পরিবার তা মেনে নেয়নি। এর জের ধরে ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে মেয়েটির মাধ্যমে সৈকতকে কৌশলে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তাকে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। ঘটনার দুইদিন পর ২১ মে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আকরাম হোসেন বাদী হয়ে ২২ মে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর আজ আদালত এ রায় ঘোষণা করলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পীরজাদা মোস্তাছিনুর রহমান জানান, রায় ঘোষণার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উপস্থিত আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

গ্রামের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে না পারলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৯:৫০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ময়মনসিংহে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ (১৫) হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলায় অপর দুই আসামিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো. সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নাজমুল হক (২৬) ও এনামুল হক। এছাড়া মামলার অপর দুই আসামি নাজমুল ও এনামুলের বাবা জিয়াউল হক (৫৭) এবং তাদের চাচা জুলহাস উদ্দিনকে (৩৭) সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভূগলী নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জিয়াউল হক, জুলহাস উদ্দিন ও নাজমুল হক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে এনামুল হক পলাতক রয়েছেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. আবু হানিফ খান এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম খান।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়তেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াউল হকের মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়েটির পরিবার তা মেনে নেয়নি। এর জের ধরে ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে মেয়েটির মাধ্যমে সৈকতকে কৌশলে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তাকে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। ঘটনার দুইদিন পর ২১ মে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আকরাম হোসেন বাদী হয়ে ২২ মে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর আজ আদালত এ রায় ঘোষণা করলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পীরজাদা মোস্তাছিনুর রহমান জানান, রায় ঘোষণার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উপস্থিত আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।