ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শুরু হয়েছে খামেনির দাফন প্রক্রিয়া, শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিশ্ব নেতারা গ্রামের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে না পারলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়: ভূমি প্রতিমন্ত্রী একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতার অবসান ঘটিয়ে জবাবদিহিমূলক সংসদ চাই: হুইপ নিজান অকার্যকর ও সরকারনিয়ন্ত্রিত মানবাধিকার কমিশন চাপিয়ে দিলে তা আত্মঘাতী হবে: টিআইবি সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল শাপলা চত্বরে হত্যা মামলায় এবার আসামি হচ্ছেন ইনু: চিফ প্রসিকিউটর মহাসচিবের কাছে পদবঞ্চিতদের নালিশ- ‘একসময়ের প্রভাবশালী যুবদল এখন মৃতপ্রায়’ ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা, ৩ আগস্ট ছাত্রসমাবেশে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার এক ব্যক্তি

ওয়াসার পানি বোতলজাত করে বিক্রি, ১০ জনকে কারাদণ্ড

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর ফার্মগেটে অবৈধভাবে ওয়াসার পানি বোতলজাত করে বিক্রির অভিযোগে ৪টি কারখানার ১০ ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ‘ফেইথ ড্রিংকিং ওয়াটার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ টাকা জারিমানা করা হয়।

পরে কারওয়ান বাজার ও শিল্পাঞ্চল এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিএসটিআই এবং র‌্যাব যৌথভাবে এ অভিযান শুরু করে। এ সময় বিপুল পরিমাণ পানির জার, বোতল, বিএসটিআইয়ের স্টিকার এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

আটককৃতদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী, জসিম উদ্দিন, কামাল হোসেন, মো. জলিলকে এক বছর এবং মো. সোহেল, রহমত উল্লাহ, সজিব, ফয়সাল হোসেন, রবিউল ইসলাম, জামাল উদ্দিন এবং আনিসকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক সরদার আবুল কালাম, র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম, র‌্যাব এবং বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা অভিযানে নামেন।

প্রথমে তারা ফার্মগেট রেল ক্রসিং এলাকায় তিনটি পানির কারখানায় অভিযান চালান। এ সময় তারা ওই কারখানা থেকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পানি বাজারজাতকরণের কাজে ব্যবহৃত পানির ড্রাম, জার এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি জব্দ করেন। সেখান থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে আটক ব্যক্তিদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেয়া হয়।

একই অভিযোগে ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের পাশে কাসুন্দি রেস্তোরাঁর নিচে ‘ফেইথ ড্রিংকিং ওয়াটার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ খালি বোতল, তৈরিকৃত স্টিকার, বিএসটিআইয়ের স্টিকার এবং পানির জার জব্দ করা হয়।

পরে দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, ফার্মগেট লেভেল ক্রসিং এলাকায় ৪ মাস আগেও এই একই কারখানায় অভিযান চালিয়ে ওয়াসার পানি বিক্রির দায়ে কয়েকজনকে আটক ও জরিমানা করে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও গোপনে নোংরা পরিবেশে ওয়াসার পানি বোতলজাত করে বিক্রি করে আসছিলেন কারখানা মালিকরা।

এর আগেও এই তিনটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দিয়েছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিষ্ঠান তিনটি কোনো রকমের পরিশোধন যন্ত্র ছাড়াই পানি বাজারজাত করে আসছিল এত দিন।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে তারা ওয়াসার পানি পরিশোধন ছাড়াই বাজারজাত করে আসছে। আর পানির জারগুলো এতই অস্বাস্থ্যকর যে এ পানি কোনো সুস্থ মানুষ পান করলেও অসুস্থ হয়ে পড়বেন। এবং এর মাধ্যমে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) সরদার আবুল কালাম সাংবাদিকদের জানান, কোনো প্রকার প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়াই ওয়াসান পানি থেকে ড্রামের মাধ্যমে পানি বিক্রি করা হচ্ছে। যেটা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আমরা এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

শুরু হয়েছে খামেনির দাফন প্রক্রিয়া, শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিশ্ব নেতারা

ওয়াসার পানি বোতলজাত করে বিক্রি, ১০ জনকে কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৯:২৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর ফার্মগেটে অবৈধভাবে ওয়াসার পানি বোতলজাত করে বিক্রির অভিযোগে ৪টি কারখানার ১০ ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ‘ফেইথ ড্রিংকিং ওয়াটার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ টাকা জারিমানা করা হয়।

পরে কারওয়ান বাজার ও শিল্পাঞ্চল এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিএসটিআই এবং র‌্যাব যৌথভাবে এ অভিযান শুরু করে। এ সময় বিপুল পরিমাণ পানির জার, বোতল, বিএসটিআইয়ের স্টিকার এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

আটককৃতদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী, জসিম উদ্দিন, কামাল হোসেন, মো. জলিলকে এক বছর এবং মো. সোহেল, রহমত উল্লাহ, সজিব, ফয়সাল হোসেন, রবিউল ইসলাম, জামাল উদ্দিন এবং আনিসকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক সরদার আবুল কালাম, র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম, র‌্যাব এবং বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা অভিযানে নামেন।

প্রথমে তারা ফার্মগেট রেল ক্রসিং এলাকায় তিনটি পানির কারখানায় অভিযান চালান। এ সময় তারা ওই কারখানা থেকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পানি বাজারজাতকরণের কাজে ব্যবহৃত পানির ড্রাম, জার এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি জব্দ করেন। সেখান থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে আটক ব্যক্তিদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেয়া হয়।

একই অভিযোগে ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের পাশে কাসুন্দি রেস্তোরাঁর নিচে ‘ফেইথ ড্রিংকিং ওয়াটার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ খালি বোতল, তৈরিকৃত স্টিকার, বিএসটিআইয়ের স্টিকার এবং পানির জার জব্দ করা হয়।

পরে দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, ফার্মগেট লেভেল ক্রসিং এলাকায় ৪ মাস আগেও এই একই কারখানায় অভিযান চালিয়ে ওয়াসার পানি বিক্রির দায়ে কয়েকজনকে আটক ও জরিমানা করে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও গোপনে নোংরা পরিবেশে ওয়াসার পানি বোতলজাত করে বিক্রি করে আসছিলেন কারখানা মালিকরা।

এর আগেও এই তিনটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দিয়েছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিষ্ঠান তিনটি কোনো রকমের পরিশোধন যন্ত্র ছাড়াই পানি বাজারজাত করে আসছিল এত দিন।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে তারা ওয়াসার পানি পরিশোধন ছাড়াই বাজারজাত করে আসছে। আর পানির জারগুলো এতই অস্বাস্থ্যকর যে এ পানি কোনো সুস্থ মানুষ পান করলেও অসুস্থ হয়ে পড়বেন। এবং এর মাধ্যমে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) সরদার আবুল কালাম সাংবাদিকদের জানান, কোনো প্রকার প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়াই ওয়াসান পানি থেকে ড্রামের মাধ্যমে পানি বিক্রি করা হচ্ছে। যেটা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আমরা এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।