ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

আবারও বাংলাদেশের জিএসপির আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শ্রমিকদের কাজের পরিবেশের প্রতি উদ্বেগ জানিয়ে আবারও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপির আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড কোঅপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট (টিকফা) এর চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই পক্ষ পারস্পরিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার কথা বললেও জেনারাইলজড সিস্টেমস অব প্রেফারেন্স বা জিএসপি নিয়ে কোনও অবস্থান পরিবর্তনের আভাস মেলেনি।

শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ২০১৩ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র।বিশেষ করে রানা প্লাজা ধসের কারণে এই পদক্ষেপ নেয় তারা। এরপর থেকে এই জিএসপি পুনর্বহালের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নানা পদক্ষেপ নিলেও এখনও পর্যন্ত সুফল মেলেনি।

ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়,‘কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়সহ সামগ্রিক শ্রম সংস্কারের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে তারা আশা করে দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির আরও অগ্রগতি হবে।
জিএসপি হল জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা। পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বে শুল্কমুক্ত অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাওয়াকেই জিএসপি বলে। শুল্ক মুক্ত অগ্রাধিকারমূলক থাকলে, যে দেশে পোশাক যাবে, সে দেশে কোন প্রকার ভ্যাট, ট্যাক্স দিতে হয় না। এই জন্য উৎপাদন খরচ কম হয়, ফলে তারা বেশি দামে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনতে পারে। এতে বাংলাদেশি মালিকদের লাভ বেশি হয়। সাধারনত বিদেশি ক্রেতারা ঐ সব দেশ থেকে পোশাক কেনে, যে দেশে জিএসপি সুবিধা আছে।

মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই সুবিধা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের ১২৯টি দেশের ৪ হাজার ৮০০ পণ্য জিএসপি সুবিধা পায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই সবচেয়ে বড় অংকের বাণিজ্য হয় বাংলাদেশের। ২০১৭ দুই দেশের মধ্যে ৭২০ কোটি ডলারের আমদানি-রফতানি হয়।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বাংলাদেশে টিকফা চুক্তির বাস্তবায়ন দাবি করে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য সম্প্রসারিত করারও অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বালি মিনিস্ট্রিয়াল সিদ্ধান্তের আলোকে ডিউটি-ফ্রি বাজারের সুবিধার কথাও জানানো হয়।

বাংলাদেশি দূতাবাসের মুখপাত্র শামিম আহমাদ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বাংলাদেশের নার্স ও ধাত্রীদের অন্যান্য সেবামূলক খাতে অংশগ্রহণ করার প্রক্রিয়া সহজ করার আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারাও বাংলাদেশে পণ্য রফতানির বিষয়ে আলোচনা করেছে, বিশেষ করে তুলা ও ওষুধ। এছাড়া বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ রক্ষা, সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল অর্থনীতি তৈরির ওপরে জোর দিয়েছে তারা।

২০১৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র টিকফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে দুই দেশ।

বৃহস্পতিবারর বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন উপ বাণিজ্য প্রতিনিধি মার্ক লিনেোট ও বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব শুভাশিষ বোস। বাংলাদেশের ১২ সদস্যের প্রতিনিধির মধ্যে আরও ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান, বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন সচিব মইনুল ইসলাম, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সেল এর মহাপরিচালক মুনির চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য প্রকাশ দেওয়ান এবং বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আবারও বাংলাদেশের জিএসপির আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ০৮:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শ্রমিকদের কাজের পরিবেশের প্রতি উদ্বেগ জানিয়ে আবারও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপির আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড কোঅপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট (টিকফা) এর চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই পক্ষ পারস্পরিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার কথা বললেও জেনারাইলজড সিস্টেমস অব প্রেফারেন্স বা জিএসপি নিয়ে কোনও অবস্থান পরিবর্তনের আভাস মেলেনি।

শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ২০১৩ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র।বিশেষ করে রানা প্লাজা ধসের কারণে এই পদক্ষেপ নেয় তারা। এরপর থেকে এই জিএসপি পুনর্বহালের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নানা পদক্ষেপ নিলেও এখনও পর্যন্ত সুফল মেলেনি।

ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়,‘কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়সহ সামগ্রিক শ্রম সংস্কারের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে তারা আশা করে দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির আরও অগ্রগতি হবে।
জিএসপি হল জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা। পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বে শুল্কমুক্ত অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাওয়াকেই জিএসপি বলে। শুল্ক মুক্ত অগ্রাধিকারমূলক থাকলে, যে দেশে পোশাক যাবে, সে দেশে কোন প্রকার ভ্যাট, ট্যাক্স দিতে হয় না। এই জন্য উৎপাদন খরচ কম হয়, ফলে তারা বেশি দামে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনতে পারে। এতে বাংলাদেশি মালিকদের লাভ বেশি হয়। সাধারনত বিদেশি ক্রেতারা ঐ সব দেশ থেকে পোশাক কেনে, যে দেশে জিএসপি সুবিধা আছে।

মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই সুবিধা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের ১২৯টি দেশের ৪ হাজার ৮০০ পণ্য জিএসপি সুবিধা পায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই সবচেয়ে বড় অংকের বাণিজ্য হয় বাংলাদেশের। ২০১৭ দুই দেশের মধ্যে ৭২০ কোটি ডলারের আমদানি-রফতানি হয়।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বাংলাদেশে টিকফা চুক্তির বাস্তবায়ন দাবি করে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য সম্প্রসারিত করারও অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বালি মিনিস্ট্রিয়াল সিদ্ধান্তের আলোকে ডিউটি-ফ্রি বাজারের সুবিধার কথাও জানানো হয়।

বাংলাদেশি দূতাবাসের মুখপাত্র শামিম আহমাদ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বাংলাদেশের নার্স ও ধাত্রীদের অন্যান্য সেবামূলক খাতে অংশগ্রহণ করার প্রক্রিয়া সহজ করার আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারাও বাংলাদেশে পণ্য রফতানির বিষয়ে আলোচনা করেছে, বিশেষ করে তুলা ও ওষুধ। এছাড়া বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ রক্ষা, সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল অর্থনীতি তৈরির ওপরে জোর দিয়েছে তারা।

২০১৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র টিকফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে দুই দেশ।

বৃহস্পতিবারর বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন উপ বাণিজ্য প্রতিনিধি মার্ক লিনেোট ও বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব শুভাশিষ বোস। বাংলাদেশের ১২ সদস্যের প্রতিনিধির মধ্যে আরও ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান, বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন সচিব মইনুল ইসলাম, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সেল এর মহাপরিচালক মুনির চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য প্রকাশ দেওয়ান এবং বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা।