ঢাকা ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ কোনও ধরনের চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না : ইলিয়াসপত্নী লুনা অবশেষে মুক্তি পেলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম, স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত ইসলামী নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করব: চরমোনাই পীর পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত ধানের শীষ প্রতীক তারেক রহমানের আমানত : রাশেদ খাঁন ফান্ড তৈরি করে বেকার শিক্ষার্থীদের জন্য পুঁজির ব্যবস্থা করব: তাসনিম জারা উত্তরায় ফার্নিচার মার্কেটে আগুন নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বপ্নের স্যাটেলাইট নির্মাণ ও সফল উৎক্ষেপণে আমি গর্বিত: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সুদূরপ্রসারী কার্যক্রম ও গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলেই বিগত ৯ বছরে সর্বক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ অর্জন বাংলার জনগণের। এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ আহ্বান জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমাম ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য বেগম আখতার জাহান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের দীর্ঘ ৬ বছরের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ জয় সম্ভব হয়েছে। মহাকাশে আজ বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে। এ গৌরব আমাদের সরকারের, এ গৌরব দেশের ১৬ কোটি মানুষের। স্যাটেলাইট টেকনোলজি ও সেবা প্রসারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। স্পেস টেকনোলজির জ্ঞান সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল জাতি গঠনে অনবদ্য ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশীল, স্বনির্ভর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট যোগাযোগের সূচনা করেন।

তিনি আরও জানান, আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়ের উদ্যোগে মহাশূন্যে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পদক্ষেপ গ্রহণ করি। স্বপ্নের স্যাটেলাইট নির্মাণ ও এর সফল উৎক্ষেপণে আমি গর্বিত এবং আনন্দিত।

সংসদ নেতা জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবার পাশাপাশি টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-এডুকেশন, ডিটিএইচ, ভিস্যাট প্রভৃতি সেবা প্রদান, সমগ্র বাংলাদেশের স্থল ও জলসীমায় নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার নিশ্চিত হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা বহাল রাখা যাবে।

তিনি আরও জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এ মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার আছে। এর মধ্যে ২০টি বাংলাদেশের জন্য এবং ২০টি ট্রান্সপন্ডার লিজ দেয়া যাবে। ট্রান্সপন্ডার লিজ দিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বর্তমানে প্রদেয় বার্ষিক প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বাধিক গুরুত্ব: জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের দক্ষ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ফলে রাজস্ব আহরণে ঊর্ধ্বগতি এবং ঋণগ্রহণে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। মূল্যস্ফীতিও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। প্রবৃদ্ধির সুফল সুষমভাবে বণ্টিত হওয়ায় একদিকে যেমন মাথাপিছু আয় বেড়েছে, অন্যদিকে দারিদ্র্য ও অসমতা কমেছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। প্রতিবেশী ও সমমানের রাষ্ট্রগুলোর তুলনায় সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অভূতপূর্ব সাফল্যে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। সর্বক্ষেত্রে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দেশ আজ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছি। দেশে অদক্ষ জনগোষ্ঠীকে আধা ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরে নানামুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি।

অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক কোটি কর্মসংস্থান: প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উন্নয়ন ও সফলতার বিবরণ তুলে ধরতে গিয়ে আরও বলেন, রফতানিকেন্দ্রিক উৎপাদনে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করতে হবে। অপ্রচলিত পণ্য রফতানির মাধ্যমে অধিক পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। দেশে রফতানি আয় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পাবে।

জনসংখ্যাকে বোঝার বদলে সম্পদে পরিণত: প্রধানমন্ত্রী জানান, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের বিপুল জনসংখ্যাকে বোঝার বদলে সম্পদে পরিণত করতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সুদূরপ্রসারী কার্যক্রম ও গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলেই বিগত ৯ বছরে সর্বক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ অর্জন বাংলার জনগণের। এই সাফল্যের ধারাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আর এরই ধারাবাহিকতায় ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি সুখীসমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ।

বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি: এম এ মালেকের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করে তোলার জন্য বিনিয়োগসংক্রান্ত সুবিধাদি সৃষ্টি করা হচ্ছে, গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা। ফলে ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৭ সালে ২.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রকৃত বৈদেশিক বিনিয়োগ পাওয়া গেছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি ওয়ান স্টপ সার্ভিস সম্পূর্ণরূপে চালু হলে বর্তমানে জিডিপিতে বেসরকারি বিনিয়োগের অবদান প্রায় ২৩ শতাংশ হতে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ

স্বপ্নের স্যাটেলাইট নির্মাণ ও সফল উৎক্ষেপণে আমি গর্বিত: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:১৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সুদূরপ্রসারী কার্যক্রম ও গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলেই বিগত ৯ বছরে সর্বক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ অর্জন বাংলার জনগণের। এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ আহ্বান জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমাম ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য বেগম আখতার জাহান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের দীর্ঘ ৬ বছরের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ জয় সম্ভব হয়েছে। মহাকাশে আজ বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে। এ গৌরব আমাদের সরকারের, এ গৌরব দেশের ১৬ কোটি মানুষের। স্যাটেলাইট টেকনোলজি ও সেবা প্রসারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। স্পেস টেকনোলজির জ্ঞান সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল জাতি গঠনে অনবদ্য ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশীল, স্বনির্ভর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট যোগাযোগের সূচনা করেন।

তিনি আরও জানান, আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়ের উদ্যোগে মহাশূন্যে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পদক্ষেপ গ্রহণ করি। স্বপ্নের স্যাটেলাইট নির্মাণ ও এর সফল উৎক্ষেপণে আমি গর্বিত এবং আনন্দিত।

সংসদ নেতা জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবার পাশাপাশি টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-এডুকেশন, ডিটিএইচ, ভিস্যাট প্রভৃতি সেবা প্রদান, সমগ্র বাংলাদেশের স্থল ও জলসীমায় নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার নিশ্চিত হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা বহাল রাখা যাবে।

তিনি আরও জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এ মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার আছে। এর মধ্যে ২০টি বাংলাদেশের জন্য এবং ২০টি ট্রান্সপন্ডার লিজ দেয়া যাবে। ট্রান্সপন্ডার লিজ দিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বর্তমানে প্রদেয় বার্ষিক প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বাধিক গুরুত্ব: জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের দক্ষ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ফলে রাজস্ব আহরণে ঊর্ধ্বগতি এবং ঋণগ্রহণে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। মূল্যস্ফীতিও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। প্রবৃদ্ধির সুফল সুষমভাবে বণ্টিত হওয়ায় একদিকে যেমন মাথাপিছু আয় বেড়েছে, অন্যদিকে দারিদ্র্য ও অসমতা কমেছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। প্রতিবেশী ও সমমানের রাষ্ট্রগুলোর তুলনায় সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অভূতপূর্ব সাফল্যে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। সর্বক্ষেত্রে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দেশ আজ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছি। দেশে অদক্ষ জনগোষ্ঠীকে আধা ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরে নানামুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি।

অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক কোটি কর্মসংস্থান: প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উন্নয়ন ও সফলতার বিবরণ তুলে ধরতে গিয়ে আরও বলেন, রফতানিকেন্দ্রিক উৎপাদনে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করতে হবে। অপ্রচলিত পণ্য রফতানির মাধ্যমে অধিক পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। দেশে রফতানি আয় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পাবে।

জনসংখ্যাকে বোঝার বদলে সম্পদে পরিণত: প্রধানমন্ত্রী জানান, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের বিপুল জনসংখ্যাকে বোঝার বদলে সম্পদে পরিণত করতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সুদূরপ্রসারী কার্যক্রম ও গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলেই বিগত ৯ বছরে সর্বক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ অর্জন বাংলার জনগণের। এই সাফল্যের ধারাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আর এরই ধারাবাহিকতায় ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি সুখীসমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ।

বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি: এম এ মালেকের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করে তোলার জন্য বিনিয়োগসংক্রান্ত সুবিধাদি সৃষ্টি করা হচ্ছে, গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা। ফলে ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৭ সালে ২.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রকৃত বৈদেশিক বিনিয়োগ পাওয়া গেছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি ওয়ান স্টপ সার্ভিস সম্পূর্ণরূপে চালু হলে বর্তমানে জিডিপিতে বেসরকারি বিনিয়োগের অবদান প্রায় ২৩ শতাংশ হতে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।