ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

প্রাইভেট না পড়ায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে অচেতন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রাইভেট না পড়ায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে অচেতন করেছেন এক শিক্ষক। শুধু তাই নয়; ওই শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের অন্যান্য ছাত্রদেরকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ওকে হাসপাতালে নিলে তাকেও মেরে হাসপাতালে পাঠাব।’

তাপস চন্দ্র তালুকদার নামে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করার এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণিতে পাঠদান চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষক তাপস চন্দ্র তালুকদারের দাবি, ক্লাসে দুষ্টুমি করার কারণে মো. রিফাতুল ইসলাম খাঁন নামে ওই শিক্ষার্থীকে সামান্য শাসন করা হয়েছে।

তবে ওই শিক্ষার্থীর বাবা জেলা জজ আদালতের এমএলএসএস মো. ইউসুফ হোসেন খানের দাবি, ওই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার ছেলেকে লাঠি দিয়ে বেদম পেটানো হয়েছে। এ ব্যাপারে রোববার ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন ওই ছাত্রের বাবা ইউসুফ আলী খান।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্ররা জানায়, তাদের ক্লাসের ২৭নং রোলধারী মো. রিফাতুল ইসলাম খাঁনকে শ্রেণিকক্ষে এসে শিক্ষক তাপস চন্দ্র কোনো কারণ ছাড়াই প্রথমে বেতের লাঠি দিয়ে পেটানো শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে রিফাতকে লাথিও মারেন।

এ সময় রিফাত অচেতন হয়ে মেঝেতে পড়ে থাকলে শিক্ষক তাপস চন্দ্র অন্য ছাত্রদের হুমকি দিয়ে বলেন, কেউ যদি ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাও তাকেও মেরে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।

পরে রিফাতকে মেঝে থেকে তোলে তার সহপাঠিরা বেঞ্চের ওপর শুয়ে রাখে। এরপর অপর শিক্ষক মো. ফয়েজ ক্লাসে এসে রিফাতকে পানি খাইয়ে ও বাতাস দিয়ে কিছুটা সুস্থ করে তোলেন।

স্কুল ছুটির পর বিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রের সহযোগিতায় বাড়িতে ফিরে বাবা মাকে শিক্ষকের নির্যাতনের কথা জানায় রিফাত।ছেলের শারীরিক অবস্থা দেখে মো. ইউসুফ আলী খান দ্রুত তাকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।

রিফাতের বাবা মো. ইউসুফ আলী খান বলেন, এর আগেও আমার ছেলেকে ওই শিক্ষক পিটিয়েছেন। তখন আমরা বলেছি, শিক্ষক ছাত্রকে মারতে পারে লেখাপড়া না করলে। এখন দেখি শিক্ষক তাপস চন্দ্র কোচিং বাণিজ্য খুলেছেন। সে কোচিং এ আমার ছেলে না পড়ার কারণে ছেলেকে পিটিয়ে আহত করেছেন তিনি। আমি এই শিক্ষকের বিচার চাই। ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান হোসেন বলেন, ছাত্র পেটানোর অভিযোগ দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

প্রাইভেট না পড়ায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে অচেতন

আপডেট সময় ০৭:০৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রাইভেট না পড়ায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে অচেতন করেছেন এক শিক্ষক। শুধু তাই নয়; ওই শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের অন্যান্য ছাত্রদেরকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ওকে হাসপাতালে নিলে তাকেও মেরে হাসপাতালে পাঠাব।’

তাপস চন্দ্র তালুকদার নামে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করার এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণিতে পাঠদান চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষক তাপস চন্দ্র তালুকদারের দাবি, ক্লাসে দুষ্টুমি করার কারণে মো. রিফাতুল ইসলাম খাঁন নামে ওই শিক্ষার্থীকে সামান্য শাসন করা হয়েছে।

তবে ওই শিক্ষার্থীর বাবা জেলা জজ আদালতের এমএলএসএস মো. ইউসুফ হোসেন খানের দাবি, ওই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার ছেলেকে লাঠি দিয়ে বেদম পেটানো হয়েছে। এ ব্যাপারে রোববার ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন ওই ছাত্রের বাবা ইউসুফ আলী খান।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্ররা জানায়, তাদের ক্লাসের ২৭নং রোলধারী মো. রিফাতুল ইসলাম খাঁনকে শ্রেণিকক্ষে এসে শিক্ষক তাপস চন্দ্র কোনো কারণ ছাড়াই প্রথমে বেতের লাঠি দিয়ে পেটানো শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে রিফাতকে লাথিও মারেন।

এ সময় রিফাত অচেতন হয়ে মেঝেতে পড়ে থাকলে শিক্ষক তাপস চন্দ্র অন্য ছাত্রদের হুমকি দিয়ে বলেন, কেউ যদি ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাও তাকেও মেরে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।

পরে রিফাতকে মেঝে থেকে তোলে তার সহপাঠিরা বেঞ্চের ওপর শুয়ে রাখে। এরপর অপর শিক্ষক মো. ফয়েজ ক্লাসে এসে রিফাতকে পানি খাইয়ে ও বাতাস দিয়ে কিছুটা সুস্থ করে তোলেন।

স্কুল ছুটির পর বিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রের সহযোগিতায় বাড়িতে ফিরে বাবা মাকে শিক্ষকের নির্যাতনের কথা জানায় রিফাত।ছেলের শারীরিক অবস্থা দেখে মো. ইউসুফ আলী খান দ্রুত তাকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।

রিফাতের বাবা মো. ইউসুফ আলী খান বলেন, এর আগেও আমার ছেলেকে ওই শিক্ষক পিটিয়েছেন। তখন আমরা বলেছি, শিক্ষক ছাত্রকে মারতে পারে লেখাপড়া না করলে। এখন দেখি শিক্ষক তাপস চন্দ্র কোচিং বাণিজ্য খুলেছেন। সে কোচিং এ আমার ছেলে না পড়ার কারণে ছেলেকে পিটিয়ে আহত করেছেন তিনি। আমি এই শিক্ষকের বিচার চাই। ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান হোসেন বলেন, ছাত্র পেটানোর অভিযোগ দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।