অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের ছেলে সুমন জাহিদের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করেছে ঢাকা রেলওয়ে থানার পুলিশ। আর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে মাঠে নামার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে সুমনের জাহিদের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ তিনটি শিশুর জবানবন্দী শোনার পর আর কিছুই করছে না।
সুমন জাহিদের মরদেহ শুক্রবার দুপুরে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার সময়ে রাজধানীর শাহজাহানপুরের বাগানবাড়ির রেললাইনের উপর থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সুমনের পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিতভাবে হত্যা। নিহতের শ্যালক কাজী সারোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই হুমকি আসছিল। মুঠেফোনে তাকে বলা হয়েছে আসছিল ভালো হয়ে যান। আপনি অনেক বেড়ে গেছেন।’
‘দুই বছর ধরে তিনি অনেকবার হুমকি পেয়েছেন। তাই আমরা ধারণা করছি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
সুমন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একাত্তরের খুনি বাহিনী আলবদরের দুই নেতা চৌধুরী মুইনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্য আর যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক একাত্তরের দুই খুনির ফাঁসির আদেশ হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। আর বিচার চলাকালে নানা সময় সাক্ষীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সামনে এসেছে। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে এক সাক্ষীকে পিরোজপুরে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
আর এ কারণে সেলিনা পারভীনের ছেলেন গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের খবরটি হত্যা কি না, সে বিষয়ে নানা কথা বলাবলি হচ্ছে।
আজ ফেনীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সুমন জাহিদের মৃত্যুর ঘটনায় অধিকতর তদন্ত করা হবে।
সুমনের পরিবার জানায়, গত কয়েকদিন ধরে তাকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। ‘ভালো’ না হয়ে গেলে পরিণতি ভালো হবে না-বলছিল হুমকিদাতারা। আর এ কারণে এই মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যা বলেছেন তার একজন স্বজন। তাদের ধারণা, খুন করে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে মনে হয় এটি একটি দুর্ঘটনা।
সুমন জাহিদের শ্যালক কাজী সারোয়ার হোসেন দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ইয়াাসিন আরাফাতসহ কয়েকজন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা দুই থেকে তিন সাত আট বছর বয়সী বাচ্চার জবানবন্দি নেন। পরে তারা সেখান থেকে ফিরে আসেন। এরপর পুলিশ আর কিছু করেছে কি না তা আমাদের জানা নেই।’
সারওয়ার বলেন, ‘সুমন জাহিদ কেন আত্মহত্যা করতে যাবেন? তাকে একাধিকবার ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বাকিটা আপনারাই বুঝে দেখেন পুলিশ কী বলতে চায় আর কী করতে চায়।’
এ ব্যাপারে ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী ইয়াসিন আরাফাত দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এ ঘটনায় ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। আজ শুক্রবার ঢাকা রেলওয়ের পুলিশ সুপার, মতিঝিল বিভাগের পুলিশের উপ কমিশনার এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ক্রাইম অ্যান্ড অপস স্যারের ঘটনাস্থল এবং নিহত সুমন জাহিদের পরিবারের কাছে যাওয়ার কথা।’
সুমন জাহিদের মৃত্যুর ঘটনায় কী তদন্ত করা হচ্ছে এমন প্রশ্নে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার আনোয়ার হোসেন দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না। আপনি ঢাকা রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন, সরি।’
সুমন জাহিদ ফারমার্স ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার সেকেন্ড অফিসার ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী। তার দুটি সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে বড় সন্তান স্মরণ টিঅ্যান্ডটি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আরেক ছেলে সুমন্দ্র আইডিয়াল স্কুলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















