অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনীতি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই জাপানের ব্যবসায়ীরা এদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমি। তবে এ ক্ষেত্রে এখানকার বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ইজুমি বেলন, ‘বিনিয়োগের পরিবেশ হয়রানিমুক্ত থাকলে জাপানের ব্যবসায়ী সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করবে এবং জাপানি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ঢেউ আসবে।’ এক্ষেত্রে সেদেশের বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে সোমবার দুপুরে জাপানের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আসে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে। এসময় দুপক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা হয়।
আলোচনার এক পর্যায়ে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ সমুন্নত রাখতে দুদকের নিজস্ব অবস্থানের চিত্র তুলে ধরে ইকবাল মাহমুদ জাপানের ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ বিনিয়োগে বিষয়ে ইজুমিকে আশ্বস্ত করেন।
দুদক প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এসে যদি কোনো জাপানি কোম্পানি ঘুষ বা দুর্নীতির শিকার হন বা হতে যাচ্ছেন এমন কোনো ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে কমিশনকে জানালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এধরনের হয়রানি প্রতিহত করতে দুদক কেন্দ্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের হটলাইন নম্বরটি- (১০৬) জাপানের রাষ্ট্রদূতকে দেন দুদক প্রধান।
রাষ্ট্রদূতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘প্রয়োজন হলে আমার নিজের ফোনেও আপনি অভিযোগ জানাতে পারেন।’
দেশের উন্নয়নে জাপান এককভাবে সর্বোচ্চ উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘কমিশনের সবধরনের প্রতিকারমূলক কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা হয়।’
‘এক্ষেত্রে ব্যক্তির রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাগত বা অন্য কোনো পরিচয়কে কমিশন ন্যূনতম গুরুত্ব দেয় না। বরং অভিযোগের বস্তুনিষ্ঠতাই কমিশনের একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’
দুদকের উল্ল্যেখযোগ্য কার্যক্রমের বিষয়গুলো জাপানের প্রতিনিধি দলের কাছে তুলে ধরেন দুদক প্রধান। তিনি বলেন, ‘বিগত দুই বছরে ছয় শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, প্রতিনিয়তই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এবং ফাঁদ মামলা পরিচালনা করা হচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কমিশন ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি অবলম্বন করেছে।’
জাইকার সহযোগিতায় পরিচালিত গণশুনানিসহ বিভিন্ন দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অবহিত করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘কমিশন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সততা ও নিষ্ঠাবোধ প্রোথিত করার জন্য দেশের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সততা সংঘ’, আট শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সততা স্টোর’ স্থাপন, এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিভিন্ন সু-বচন সংবলিত শিক্ষা উপকরণ যেমন-খাতা, কলম, জ্যামিতি বক্স, স্কেল, ছাতা ইত্যাদি বিতরণ করছে।’
নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিনির্মাণেই কমিশন এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে প্রতিনিধি দলকে জানান তিনি। কমিশনের কর্মকর্তাদের তদন্তের সক্ষমতা আরও বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রদানে জাপানের সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন দুদক চেয়ারম্যান।
দুদক চেয়ারম্যানের সব কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণের বিবরণে দেখে দুদকের সার্বিক কার্যক্রমে জাপানের সহযোগিতারও আশ্বাস দেন জাপানের রাষ্ট্রদূত।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ জাপানের রাষ্ট্রদূতের কার্যালয়ের ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড কো-অপারেশন ইউনিটের দ্বিতীয় সচিব মাসাতোশি হিগুচি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















