অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার বিরোধিতা করেছেন রুহুল কবির রিজভী। তার দাবি, এই হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব নয়।
রবিবার নয়াপল্টনে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। তিনি আবারও তার নেত্রীকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করার দাবি জানান।
শনিবার খালেদা জিয়ার চারজন চিকিৎসক কারাগারে দেখা করে এসে দাবি করেন বিএনপি নেত্রীর মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছিল। তাকে হাসপাতালে আনা না হলে বড় ধরনের স্ট্রোক হতে পারে।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের এই দাবি সত্য নয়। রোজা রাখার পর খালেদা জিয়ার ব্লাড সুগার লেভেল পড়ে গিয়েছিল। পরে তাকে চকলেট খাওয়ানোর পর ঠিক হয়ে যায়।
তারপরও বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা জানান দুই মন্ত্রী। এর আগে গত ৭ এপ্রিলও তাকে এই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের পরীক্ষা নিরীক্ষা বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে সম্ভব নয় দাবি করে রিজভী বলেন, ‘আধুনিক যন্ত্রপাতির সকল ব্যবস্থা ইউনাটেড হাসপাতালে রয়েছে।’
‘অতীতেও আওয়ামী লীগের সভানেত্রীসহ অনেক নেতাকে কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর পছন্দ মতো চিকিৎসা করতে না দেওয়া একজন বন্দীর প্রতি চরম মানবধিকার লঙ্ঘন নয় কী?-প্রশ্ন রাখেন রিজভী।
কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতাকে আরও গুরুতর করে তাকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুগভীর চক্রান্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এ নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
বর্তমানে তার (খালেদা জিয়া) যে শারীরিক অবস্থা তাতে দ্রুত চিকিৎসা না দিলে তার বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন রিজভী।
রিজভীর দাবি, কারাগারে পড়ে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া কিছুক্ষণ অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কারা কর্তৃপক্ষের কিছু জানা না থাকাটা তার চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। খালেদা জিয়ার সুগার লেভেল পড়ে গিয়েছিল। পরে চকলেট খাওয়ানোর পর ঠিক হয়ে যায়।
রিজভী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া যে পড়ে গিয়েছিলেন সেই সম্পর্কে কারা কর্তৃপক্ষ অবগত নয়। তার চিকিৎসা ও অসুস্থতা নিয়ে কতটা অবহেলা করা হচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সেটা পরিস্কার হয়ে গেল।’
‘কারা কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে বলেই বন্দী খালেদা জিয়ার গুরুতর শারীরিক অসুস্থার বিষয়ে ভ্রুক্ষেপহীন থেকেছে-সেটিই প্রমানিত হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে।’
‘দেশনেত্রী কারাগারে অজ্ঞান হয়ে ৫-৭ মিনিট পড়েছিলেন, অথচ সেটি কারা কর্তৃপক্ষ জানে না। তার মানে এটাই প্রমাণিত হয়-বেগম জিয়া কারা কর্তৃপক্ষের কতখানি অবহেলার শিকার।’
‘সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি কতটা অমানবিক তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ফুটে ওঠেছে।’
রিজভী বলেন, ‘আমরা বারবার দেশনেত্রী অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাঁর কোন কোন বিষয়ে জরুরি চিকিৎসা দরকার সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আহ্বান জানালেও সরকার এবং কারা কর্তৃপক্ষ সব সময় এড়িয়ে চলছে। এ বিষয়ে এখনও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’
অবিলম্বে অর্থাৎ ঈদের আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার দাবিও জানান রিজভী। সেই সঙ্গে দলীয় প্রধানের অসুস্থতা নিয়ে সরকারের ‘ষড়যন্ত্রের’ সজাগ দৃষ্টি রাখতে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















