ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খোলেনি বাংলাদেশ ভবন, ফিরে যাচ্ছেন পর্যটকরা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত। আজও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাত ছুঁয়ে উদ্বোধন হওয়া শান্তিনিকেতনের ‘বাংলাদেশ ভবন’ জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলো না। শান্তিনিকেতন বা বিশ্বভারতী এবং কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাস কর্তৃপক্ষ দু তরফে কবে ওই ভবন খুলে দেওয়া হতে পারে- এই তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

২৫ মে শুক্রবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যৌথভাবে বিশ্বকবির পা রাখা পুণ্যভূমি শান্তিনিকেতনের বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেছেন।

দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের হাত ছুঁয়ে আলোচিত এই ভবন উদ্বোধন হওয়া স্বাভাবিকভাবেই শান্তিনিকেতনের অধ্যয়নরত বাংলাদেশ-সহ বিদেশি শিক্ষার্থীরা যেমন ভবনে প্রবেশ করে জ্ঞান আরোহণে উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে, শান্তিনিকেতনে যাওয়া দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক প্রতিদিন বাংলাদেশ ভবনের সামনে গিয়ে ভবনে না ঢুকতে পেরে হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশ্বভারতী উপাচার্য সবুজকলি সেন দৈনিক আকাশকে জানিয়েছেন, ‘কবে খুলে দিতে পারবো সেটা তো পাওয়ার পর বুঝতে পারবো আমরা। কেননা এখনও আমরা জিনিসপত্রের তালিকা সহ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ভবনের দায়িত্ব বুঝে পায়নি।’

একই বিষয় নিয়ে কথা হলে সময়নিউজ.টিভিকে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের হেড অব চ্যান্সারি বিএম জামালও বলেন, ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ এখন ‘বাংলাদেশ ভবন’ সুতরাং তারাই কবে খুলে দেবেন সেটা চূড়ান্ত করবেন।’

তবে, বাংলাদেশ সরকার ভবনের অভ্যন্তরে জাদুঘর এবং লাইব্রেরি নিজেদের তত্ত্বাবধানে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সেটা উল্লেখ করেন ওই উপ-দূতাবাসের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘লাইব্রেরি ও জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক কোন পক্ষ নিয়োগ করবেন সেটা এখনো ঠিক হয়নি।’

এদিকে, গত ২৫ মে এ বিষয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরও শান্তিনিকেতনের সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, ‘পুরো বাংলাদেশ ভবনের দায়িত্ব বিশ্বভারতীকে না দিয়ে জাদুঘর ও লাইব্রেরির দুটি শাখার দায়িত্ব আমরা নিজেদের হাতে রাখতেই আগ্রহী।’

বাংলাদেশ সরকারের অর্থ এবং ভারত সরকারের জমি’; এই দুই সরকারের উদ্যোগেই শান্তিনিকেতনে প্রায় দুই বিঘা জমির ওপর ১৮ মাসে নির্মিত হয় ৪ হাজার ১০০ বর্গ মিটারের ’বাংলাদেশ ভবন’।

ভবনের অভ্যন্তরে একটি লাইব্রেরি, একটি জাদুঘর ছাড়াও দুটি সেমিনার হল এবং একটি অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম রয়েছে।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা যাবে এক ছাদের নিচে বসে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে পারেন-সেই লক্ষ্যেই এই ভবন নির্মিত হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খোলেনি বাংলাদেশ ভবন, ফিরে যাচ্ছেন পর্যটকরা

আপডেট সময় ১১:৩১:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত। আজও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাত ছুঁয়ে উদ্বোধন হওয়া শান্তিনিকেতনের ‘বাংলাদেশ ভবন’ জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলো না। শান্তিনিকেতন বা বিশ্বভারতী এবং কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাস কর্তৃপক্ষ দু তরফে কবে ওই ভবন খুলে দেওয়া হতে পারে- এই তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

২৫ মে শুক্রবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যৌথভাবে বিশ্বকবির পা রাখা পুণ্যভূমি শান্তিনিকেতনের বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেছেন।

দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের হাত ছুঁয়ে আলোচিত এই ভবন উদ্বোধন হওয়া স্বাভাবিকভাবেই শান্তিনিকেতনের অধ্যয়নরত বাংলাদেশ-সহ বিদেশি শিক্ষার্থীরা যেমন ভবনে প্রবেশ করে জ্ঞান আরোহণে উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে, শান্তিনিকেতনে যাওয়া দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক প্রতিদিন বাংলাদেশ ভবনের সামনে গিয়ে ভবনে না ঢুকতে পেরে হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশ্বভারতী উপাচার্য সবুজকলি সেন দৈনিক আকাশকে জানিয়েছেন, ‘কবে খুলে দিতে পারবো সেটা তো পাওয়ার পর বুঝতে পারবো আমরা। কেননা এখনও আমরা জিনিসপত্রের তালিকা সহ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ভবনের দায়িত্ব বুঝে পায়নি।’

একই বিষয় নিয়ে কথা হলে সময়নিউজ.টিভিকে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের হেড অব চ্যান্সারি বিএম জামালও বলেন, ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ এখন ‘বাংলাদেশ ভবন’ সুতরাং তারাই কবে খুলে দেবেন সেটা চূড়ান্ত করবেন।’

তবে, বাংলাদেশ সরকার ভবনের অভ্যন্তরে জাদুঘর এবং লাইব্রেরি নিজেদের তত্ত্বাবধানে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সেটা উল্লেখ করেন ওই উপ-দূতাবাসের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘লাইব্রেরি ও জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক কোন পক্ষ নিয়োগ করবেন সেটা এখনো ঠিক হয়নি।’

এদিকে, গত ২৫ মে এ বিষয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরও শান্তিনিকেতনের সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, ‘পুরো বাংলাদেশ ভবনের দায়িত্ব বিশ্বভারতীকে না দিয়ে জাদুঘর ও লাইব্রেরির দুটি শাখার দায়িত্ব আমরা নিজেদের হাতে রাখতেই আগ্রহী।’

বাংলাদেশ সরকারের অর্থ এবং ভারত সরকারের জমি’; এই দুই সরকারের উদ্যোগেই শান্তিনিকেতনে প্রায় দুই বিঘা জমির ওপর ১৮ মাসে নির্মিত হয় ৪ হাজার ১০০ বর্গ মিটারের ’বাংলাদেশ ভবন’।

ভবনের অভ্যন্তরে একটি লাইব্রেরি, একটি জাদুঘর ছাড়াও দুটি সেমিনার হল এবং একটি অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম রয়েছে।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা যাবে এক ছাদের নিচে বসে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে পারেন-সেই লক্ষ্যেই এই ভবন নির্মিত হয়েছে।