ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এ নির্বাচন তাদের লড়াইয়ের ফসল যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে:নাহিদ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে: সালাহউদ্দিন ভুটানকে ১২ গোলে উড়িয়ে সাফে দারুণ শুরু বাংলাদেশের ভোলায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ২৭ তিন মাসের মাথায় ফের ‘শাটডাউনে’ মার্কিন সরকার মাঠে থাকুন, মানুষের পাশে দাঁড়ান: নেতাকর্মীদের তারেক রহমান বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফ্রি ইন্টারনেট পাবে সবাই: মাহদী আমিন ‘আমরা কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না’:জামায়াত আমীর শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর দেশে পৌঁছেছে এক লাখ ৪০ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, এখন সময় রুখে দাঁড়াবার: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের প্রাচীনতম দল আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করলেও এখন নিজেরাই ‘স্বৈরতন্ত্র’ কায়েম করেছে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আওয়ামী লীগের মতো দলের এই ‘পরিবর্তনে’ আক্ষেপ করেছেন তিনি।

শুক্রবার নয়াপল্টনে ভাসানী ভবনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে রচিত ‘রণধ্বনি’ গানের সিডি উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন দলের মহাসচিব।

এখন সময় ‘খারাপ’ উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘আজকাল বাসাতেও জড়ো হয়ে কথা বলতে পারে না মানুষ।’

‘আমরা পাকিস্তানের আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, এরশাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু তখন এতো ভয়াবহ সময় আজকের মতো ছিল না।’

‘অত্যাচার নির্যাতনের দিক থেকে এ সরকার অতীতের সকল স্বৈরাশাসককে হার মানিয়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগের মতো দল এভাবে শাসন করছে। অথচ আওয়ামী লীগ একটি পুরনো দল। তারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে এক সময়।’

‘কিন্তু আজ তারাই গণতন্ত্র ধ্বংস করে একদলীয় নয় শুধু, একব্যক্তির শাসন শুরু করেছে।’

‘বিএনপির হারানোর কিছু নেই’

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির আর কিছু হারানোর নেই মন্তব্য করে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেয়ারও আহ্বান জানান ফখরুল।

‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বক্তৃতার সময় শেষ। এখন সময় রুখে দাঁড়াবার।’

‘আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশনেত্রীকে যেভাবে আটক রাখা হয়েছে তা একেবারেই বেআইনি। হাইকোর্ট বেইল (জামিন) দিয়েছে। এরপরও নানা কৌশলে মাসের পর মাসে খালেদা জিয়াকে আটক রেখেছে। উচ্চতর আদালত ছুটির কথা বলে প্রলম্বিত করছে।’

তার দেয়া এই বক্তব্য আদালত অবমাননা হয় কি না- সে নিয়েও ভাবছিলেন ফখরুল। পরক্ষণেই বলেন, ‘হলেও কিছু যায় আসে না। হারানোর কিছু নেই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদেরকে দেশ রক্ষায় নামতে হবে। খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। গায়ের জোরে তাকে আটক রাখা মানে হলো গণতন্ত্র পুরোপুরি ধ্বংস করা; মানুষের অধিকার, মানুষের ভোটাধিকার নষ্ট করে এক ব্যক্তির শাসন নিশ্চিত করা।’

‘আমাদেরকে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। এ দানবকে প্রতিহত করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। একটি অর্থবহ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

সরকারকে আলোচনায় বসতে আবারও আহ্বান জানান ফখরুল। বলেন, ‘আমরা বহুবার আলোচনা করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু সরকার শুনেনি। তারা বলে সংবিধান অনুযায়ী সব করবে। যে সংবিধান তারা কেটে কুটে নিয়েছে সেটা দিয়েই তারা নির্বাচন করতে চায়।’

ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ারও আহ্বান জানানো হয় অনুষ্ঠানে।

মেহেরপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ নির্বাচন তাদের লড়াইয়ের ফসল যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে:নাহিদ

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, এখন সময় রুখে দাঁড়াবার: ফখরুল

আপডেট সময় ১২:২০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের প্রাচীনতম দল আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করলেও এখন নিজেরাই ‘স্বৈরতন্ত্র’ কায়েম করেছে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আওয়ামী লীগের মতো দলের এই ‘পরিবর্তনে’ আক্ষেপ করেছেন তিনি।

শুক্রবার নয়াপল্টনে ভাসানী ভবনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে রচিত ‘রণধ্বনি’ গানের সিডি উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন দলের মহাসচিব।

এখন সময় ‘খারাপ’ উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘আজকাল বাসাতেও জড়ো হয়ে কথা বলতে পারে না মানুষ।’

‘আমরা পাকিস্তানের আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, এরশাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু তখন এতো ভয়াবহ সময় আজকের মতো ছিল না।’

‘অত্যাচার নির্যাতনের দিক থেকে এ সরকার অতীতের সকল স্বৈরাশাসককে হার মানিয়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগের মতো দল এভাবে শাসন করছে। অথচ আওয়ামী লীগ একটি পুরনো দল। তারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে এক সময়।’

‘কিন্তু আজ তারাই গণতন্ত্র ধ্বংস করে একদলীয় নয় শুধু, একব্যক্তির শাসন শুরু করেছে।’

‘বিএনপির হারানোর কিছু নেই’

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির আর কিছু হারানোর নেই মন্তব্য করে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেয়ারও আহ্বান জানান ফখরুল।

‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বক্তৃতার সময় শেষ। এখন সময় রুখে দাঁড়াবার।’

‘আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশনেত্রীকে যেভাবে আটক রাখা হয়েছে তা একেবারেই বেআইনি। হাইকোর্ট বেইল (জামিন) দিয়েছে। এরপরও নানা কৌশলে মাসের পর মাসে খালেদা জিয়াকে আটক রেখেছে। উচ্চতর আদালত ছুটির কথা বলে প্রলম্বিত করছে।’

তার দেয়া এই বক্তব্য আদালত অবমাননা হয় কি না- সে নিয়েও ভাবছিলেন ফখরুল। পরক্ষণেই বলেন, ‘হলেও কিছু যায় আসে না। হারানোর কিছু নেই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদেরকে দেশ রক্ষায় নামতে হবে। খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। গায়ের জোরে তাকে আটক রাখা মানে হলো গণতন্ত্র পুরোপুরি ধ্বংস করা; মানুষের অধিকার, মানুষের ভোটাধিকার নষ্ট করে এক ব্যক্তির শাসন নিশ্চিত করা।’

‘আমাদেরকে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। এ দানবকে প্রতিহত করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। একটি অর্থবহ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

সরকারকে আলোচনায় বসতে আবারও আহ্বান জানান ফখরুল। বলেন, ‘আমরা বহুবার আলোচনা করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু সরকার শুনেনি। তারা বলে সংবিধান অনুযায়ী সব করবে। যে সংবিধান তারা কেটে কুটে নিয়েছে সেটা দিয়েই তারা নির্বাচন করতে চায়।’

ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ারও আহ্বান জানানো হয় অনুষ্ঠানে।

মেহেরপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার।