ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উত্তরায় কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ড ঢাকাসহ তিন জেলায় নামছে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি নির্বাচিত হলে নাগরিক সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি ইশরাকের নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে কুমিল্লাকে বিভাগ করা হবে প্রতিশ্রুতি আসিফ মাহমুদের ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের কথা বলা জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি: সালাহউদ্দিন প্লেব্যাক থেকে বিদায় নিলেন অরিজিৎ, জানালেন একাধিক কারণ কোন উস্কানিমূলক কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডে পা দিবে না বিএনপির: মির্জা আব্বাস জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে: প্রধান উপদেষ্টা গতকালের ঘটনার পরে অসহিষ্ণুতা দেখতে পাচ্ছি: নাহিদ ইসলাম কাজ দেওয়ার নামে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে

গ্রেনেড হামলা বিএনপির উদ্দেশ্য ছিল আ’লীগকে নিশ্চিহ্ন করা: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

১৪ বছর আগে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা মামলায় ‘তাড়াতাড়ি’ রায় ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এই মামলায় ‘ন্যায়বিচার’ চেয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে এই হামলায় নিহতদের স্বজন এবং আহতদের মধ্যে সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি এই কথা জানান।

বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে এই গ্রেনেড হামলায় মানববর্ম তৈরি করে নেতা-কর্মীরা শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলেও ২৪ জনের প্রাণহানি এবং শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

এই হামলায় সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান এবং সে সময়ের মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ রকম ঘটনা কখনও ঘটেনি যেখানে একটা হামলা হয়েছে অথচ হামলার শিকার নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে পুলিশ।’ ‘তারা হামলার পর আলামত নষ্ট করেছে এরপর জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে। যারা এমন ঘটনা ঘটাতে পারে…’

‘আমি তখন বিরোধীদলীয় নেতা, আমাকে হত্যার জন্য যদি তখনকার সরকারের প্রধান ও তার ছেলে মিলে ষড়যন্ত্র করে তাহলে সে দেশ কী ভাবে চলে আপনারা চিন্তা করতে পারেন।’

এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও এই মামলার বিচারের রায় ঘোষণা না হওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আক্ষেপ আছে। তবে বিচারিক আদালতে এখন যুক্তি উপস্থাপন শেষ পর্যায়ে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রায় ঘোষণা হতে পারে বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই হত্যার বিচার চলছে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি এটার বিচারের রায় হবে। এবং এই ঘটনের ঘটনার সথে যারা জড়িত, তারা উপযুক্ত শাস্তি পাক, সেটাই আমরা চাই, অর্থাৎ ন্যায়বিচার চাই।’

সেই হামলার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতগুলো মানুষের জীবন নিল এভাবে আক্রমণ করে, একটা দলকেই সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা, এটাই ছিল বিএনপির উদ্দেশ্য।’

‘খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী, তার কেবিনেটের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, তারা এটার সাথে জড়িত। এটা খুব স্পষ্ট বুঝা যায় তাদের উদ্দেশ্যই ছিল আমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করা।’

সে সময় যারা যারা আহত ছিলেন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।

‘দীর্ঘ সময় গেছে, অনেকের বয়স হয়ে গেছে, অনেকের শরীরে স্প্লিন্টার, অনেকেই এ রকম মানবেতন জীবন যাপন করছে, অনেকেই মারা গেছে। আমরা চেষ্টা করছি কিছু সহযোগিতা দিতে।’

যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন এই হামলায় নিহতদের স্বজন এবং আহতদের সহায়তা করে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, কেবল এই হামলা না। বিএনপি-জামায়াত আমলে আওয়ামী লীগের যত নেতা-কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে, সবার পাশে থাকবেন তিনি।

বিচার কোন পর্যায়ে

বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই মামলাটি ইচ্ছা করেই ভিন্নখাতে নেয়ার অভিযোগ আছে। নিরীহ জজ মিয়াকে এই মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করে পুলিশ। পরে জজ মিয়ার মা সব ফাঁস করে দেন গণমাধ্যমে।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই মামলায় বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। আর ২০০৮ সালের ২৯ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচার।

এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অধিকতর তদন্ত করে তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে নতুন করে অভিযুক্ত করা হয়। ২০১২ সালের ১৮ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয় তাদের বিরুদ্ধে।

এই মামলার মোট ৫২ জন আসামিদের মধ্যে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ওই সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ প্রমুখ। এদের সবার মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

৫২ আসামির মধ্যে তিন জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। ফলে ৪৯ জনের যুক্তি উপস্থাপন শেষ ঘোষণা করা হবে রায়। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩৫ জনের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। অর্থাৎ আর ১৪ জনের যুক্তি উপস্থপন শেষে যে কোনো দিন রায়ের তারিখ ঘেঅষণা হতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ড

গ্রেনেড হামলা বিএনপির উদ্দেশ্য ছিল আ’লীগকে নিশ্চিহ্ন করা: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:২০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

১৪ বছর আগে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা মামলায় ‘তাড়াতাড়ি’ রায় ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এই মামলায় ‘ন্যায়বিচার’ চেয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে এই হামলায় নিহতদের স্বজন এবং আহতদের মধ্যে সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি এই কথা জানান।

বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে এই গ্রেনেড হামলায় মানববর্ম তৈরি করে নেতা-কর্মীরা শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলেও ২৪ জনের প্রাণহানি এবং শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

এই হামলায় সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান এবং সে সময়ের মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ রকম ঘটনা কখনও ঘটেনি যেখানে একটা হামলা হয়েছে অথচ হামলার শিকার নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে পুলিশ।’ ‘তারা হামলার পর আলামত নষ্ট করেছে এরপর জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে। যারা এমন ঘটনা ঘটাতে পারে…’

‘আমি তখন বিরোধীদলীয় নেতা, আমাকে হত্যার জন্য যদি তখনকার সরকারের প্রধান ও তার ছেলে মিলে ষড়যন্ত্র করে তাহলে সে দেশ কী ভাবে চলে আপনারা চিন্তা করতে পারেন।’

এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও এই মামলার বিচারের রায় ঘোষণা না হওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আক্ষেপ আছে। তবে বিচারিক আদালতে এখন যুক্তি উপস্থাপন শেষ পর্যায়ে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রায় ঘোষণা হতে পারে বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই হত্যার বিচার চলছে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি এটার বিচারের রায় হবে। এবং এই ঘটনের ঘটনার সথে যারা জড়িত, তারা উপযুক্ত শাস্তি পাক, সেটাই আমরা চাই, অর্থাৎ ন্যায়বিচার চাই।’

সেই হামলার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতগুলো মানুষের জীবন নিল এভাবে আক্রমণ করে, একটা দলকেই সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা, এটাই ছিল বিএনপির উদ্দেশ্য।’

‘খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী, তার কেবিনেটের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, তারা এটার সাথে জড়িত। এটা খুব স্পষ্ট বুঝা যায় তাদের উদ্দেশ্যই ছিল আমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করা।’

সে সময় যারা যারা আহত ছিলেন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।

‘দীর্ঘ সময় গেছে, অনেকের বয়স হয়ে গেছে, অনেকের শরীরে স্প্লিন্টার, অনেকেই এ রকম মানবেতন জীবন যাপন করছে, অনেকেই মারা গেছে। আমরা চেষ্টা করছি কিছু সহযোগিতা দিতে।’

যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন এই হামলায় নিহতদের স্বজন এবং আহতদের সহায়তা করে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, কেবল এই হামলা না। বিএনপি-জামায়াত আমলে আওয়ামী লীগের যত নেতা-কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে, সবার পাশে থাকবেন তিনি।

বিচার কোন পর্যায়ে

বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই মামলাটি ইচ্ছা করেই ভিন্নখাতে নেয়ার অভিযোগ আছে। নিরীহ জজ মিয়াকে এই মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করে পুলিশ। পরে জজ মিয়ার মা সব ফাঁস করে দেন গণমাধ্যমে।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই মামলায় বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। আর ২০০৮ সালের ২৯ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচার।

এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অধিকতর তদন্ত করে তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে নতুন করে অভিযুক্ত করা হয়। ২০১২ সালের ১৮ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয় তাদের বিরুদ্ধে।

এই মামলার মোট ৫২ জন আসামিদের মধ্যে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ওই সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ প্রমুখ। এদের সবার মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

৫২ আসামির মধ্যে তিন জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। ফলে ৪৯ জনের যুক্তি উপস্থাপন শেষ ঘোষণা করা হবে রায়। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩৫ জনের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। অর্থাৎ আর ১৪ জনের যুক্তি উপস্থপন শেষে যে কোনো দিন রায়ের তারিখ ঘেঅষণা হতে পারে।