ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাদেরের বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি না এলেও দলের কেউ এলে তা ঠেকানো যাবে না-ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যে সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা জিজ্ঞাসা ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

কাদের কী বুঝাতে চাইছেন, সেই বিষয়টি জানার, বুঝার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা দক্ষিণ মহানগর বিএনপির একটি ওয়ার্ডের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরাও নানা জনের কাছে নানা কথা শুনি। দল নির্বাচনে যাবে কি না, এই বিষয়টি নিয়ে গত বারের মতো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না থাকায় নানা কানাঘুষা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ওবায়দুল কাদের সাহেব যেটা বলে দিলেন, সেটাকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।’

‘আমাদের শীর্ষ নেতাদের উচিত, সরকারের সঙ্গে কোনো পর্যায়ের কেউ যোগাযোগ করছে কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখার’-বলেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের ওই নেতা।

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি আগামী নির্বাচনেও অংশ নেয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলছে না। তবে গত নির্বাচনে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা চেষ্টা থাকলেও এবার তার কিছুই নেই।

এর মধ্যে গত ৩ মে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আবারও বলেন, বিএনপিকে ভোটে আনতে তাদের কোনো উদ্যোগ নেই, এ ব্যাপারে কোনো চেষ্টা থাকবেও না।

‘তবে (বিএনপির) যদি কেউ নির্বাচনে আসতে চায় তাহলে তাকে তো আর কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।’

কাদেরের বক্তব্যের এই অংশ নিয়েই তৈরি হয়েছে জিজ্ঞাসা। কারণ, গত কয়েক মাস ধরেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকবে কি না, এ নিয়ে কথাবার্তা বলছেন। আবার বিএনপিও বারবার দলীয় ঐক্য অটুট আছে, এই বার্তা দিচ্ছে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদেরকে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের পাঁচ দিন আগে দলের নির্বাহী কমিটির সভাতেও দলীয় ঐক্যের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। খালেদা জিয়া সেদিন স্পষ্টতই বলেন, ‘বেইমানদের’ ওপর নজর রাখছেন তিনি। কেউ অন্য রকম কিছু করার চেষ্টা করলে পার পাবে না।

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার তিন মাস হয়ে গেছে এরই মধ্যে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘মেলামেশার’ অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির একজন নেতা এবং স্থানীয় সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কারণ তিনি প্রকাশ্যেই মেয়র পদে ভোট চাইছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের হয়ে।

তবে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে এখন পর্যন্ত কারও মধ্যে প্রকাশ্যে ‘বেইমানি’র লক্ষ্য পাওয়া যায়নি। যদিও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলে যাচ্ছেন, বিএনপির একটি বড় অংশ তাদের দলে যোগ দিতে যাচ্ছে।

এর মধ্যেই আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রচার শুরু করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। কিন্তু বিএনপি তাকিয়ে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দিকে।

অবশ্য খালেদা জিয়া মুক্ত হলেই বিএনপি ভোটে যাবে-এটা নিশ্চিত করে বলছেন না নেতারা। চার বছর আগের মতোই নির্বাচনকালীন সরকার থেকে শেখ হাসিনার সরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন তারা।

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি সেটা এমন কথা বলে বেড়ায়, তার অর্থ হলো বিএনপিকে খণ্ড বিখণ্ড করার একটি প্রচেষ্টা আওয়ামী লীগের। তার অংশ হিসেবে তারা এই সব কথা বলছে।’

বিএনপি ভোটে গেলে এক চিত্র, আর না গেলে দলের কেউ যাবে না, এ বিষয়েও নিশ্চিত দুদু। বলেন, ‘তারা বিএনপিকে ভাঙার দিবাস্বপ্ন দেখছেন। গত নয় দশ বছর থেকেই তারা বিএনপিকে ধ্বংসের স্বপ্ন দেখে যাচ্ছেন। কিন্তু ধ্বংস করতে পারে নাই, বিএনপিকে ধ্বংস করা এত সহজ নয়।’

‘আসলে বাস্তবতা হলো, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর ভয়ে এই সব বলছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে ক্ষমতা হারানো ভয় আছে তাদের, আর সেই জায়গা থেক্ তারা উল্টাপাল্টা বলছে।’

তবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সুরেই কথা বললেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। দৈনিক আকাশকে তিনি বলেন, বলেন, ‘বিএনপির কমিটিতে ৫০০ এর উপরে নেতা। সবার কথার জবাব তো দেয়া যাবে না। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেই দিয়েছেন, সংবিধান মতে আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে। এর বাইরে কে আসল কে আসল না সেটা দেখার বিষয় না।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘বিএনপি যদি বাস্তব ভিত্তিতে চিন্তা করে তবে তারা নির্বাচনে আসবে। আর যদি ইমোশনালি (আবেগ) ভাবে, তবে তারা নির্বাচনে আসবে না।’

‘গতবার নির্বাচনে ক্ষতি কার হয়েছে? সবচেয়ে ক্ষতি বেশি হয়েছে বিএনপির, দ্বিতীয় ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের, আর তৃতীয় ক্ষতি হয়েছে গণতন্ত্রের। তারা যদি বিরোধী দলেও থাকতো তবে ভালো রোল প্লে (ভূমিকা পালন) করতে পারত।’

‘বিএনপিতে সবাই তো আর একভাবে ভাবে না। কেউ কেউ তো অন্যভাবেও চিন্তা করে। দেখা যাক। নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই সব কিছু স্পষ্ট হবে’-বলেন ফারুক খান।

এক প্রশ্নে আওয়ামী লীগের আগের আমলের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার কোনো উদ্যোগ থাকবে না।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাদেরের বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা

আপডেট সময় ১১:০৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি না এলেও দলের কেউ এলে তা ঠেকানো যাবে না-ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যে সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা জিজ্ঞাসা ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

কাদের কী বুঝাতে চাইছেন, সেই বিষয়টি জানার, বুঝার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা দক্ষিণ মহানগর বিএনপির একটি ওয়ার্ডের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরাও নানা জনের কাছে নানা কথা শুনি। দল নির্বাচনে যাবে কি না, এই বিষয়টি নিয়ে গত বারের মতো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না থাকায় নানা কানাঘুষা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ওবায়দুল কাদের সাহেব যেটা বলে দিলেন, সেটাকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।’

‘আমাদের শীর্ষ নেতাদের উচিত, সরকারের সঙ্গে কোনো পর্যায়ের কেউ যোগাযোগ করছে কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখার’-বলেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের ওই নেতা।

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি আগামী নির্বাচনেও অংশ নেয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলছে না। তবে গত নির্বাচনে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা চেষ্টা থাকলেও এবার তার কিছুই নেই।

এর মধ্যে গত ৩ মে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আবারও বলেন, বিএনপিকে ভোটে আনতে তাদের কোনো উদ্যোগ নেই, এ ব্যাপারে কোনো চেষ্টা থাকবেও না।

‘তবে (বিএনপির) যদি কেউ নির্বাচনে আসতে চায় তাহলে তাকে তো আর কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।’

কাদেরের বক্তব্যের এই অংশ নিয়েই তৈরি হয়েছে জিজ্ঞাসা। কারণ, গত কয়েক মাস ধরেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকবে কি না, এ নিয়ে কথাবার্তা বলছেন। আবার বিএনপিও বারবার দলীয় ঐক্য অটুট আছে, এই বার্তা দিচ্ছে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদেরকে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের পাঁচ দিন আগে দলের নির্বাহী কমিটির সভাতেও দলীয় ঐক্যের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। খালেদা জিয়া সেদিন স্পষ্টতই বলেন, ‘বেইমানদের’ ওপর নজর রাখছেন তিনি। কেউ অন্য রকম কিছু করার চেষ্টা করলে পার পাবে না।

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার তিন মাস হয়ে গেছে এরই মধ্যে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘মেলামেশার’ অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির একজন নেতা এবং স্থানীয় সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কারণ তিনি প্রকাশ্যেই মেয়র পদে ভোট চাইছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের হয়ে।

তবে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে এখন পর্যন্ত কারও মধ্যে প্রকাশ্যে ‘বেইমানি’র লক্ষ্য পাওয়া যায়নি। যদিও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলে যাচ্ছেন, বিএনপির একটি বড় অংশ তাদের দলে যোগ দিতে যাচ্ছে।

এর মধ্যেই আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রচার শুরু করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। কিন্তু বিএনপি তাকিয়ে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দিকে।

অবশ্য খালেদা জিয়া মুক্ত হলেই বিএনপি ভোটে যাবে-এটা নিশ্চিত করে বলছেন না নেতারা। চার বছর আগের মতোই নির্বাচনকালীন সরকার থেকে শেখ হাসিনার সরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন তারা।

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি সেটা এমন কথা বলে বেড়ায়, তার অর্থ হলো বিএনপিকে খণ্ড বিখণ্ড করার একটি প্রচেষ্টা আওয়ামী লীগের। তার অংশ হিসেবে তারা এই সব কথা বলছে।’

বিএনপি ভোটে গেলে এক চিত্র, আর না গেলে দলের কেউ যাবে না, এ বিষয়েও নিশ্চিত দুদু। বলেন, ‘তারা বিএনপিকে ভাঙার দিবাস্বপ্ন দেখছেন। গত নয় দশ বছর থেকেই তারা বিএনপিকে ধ্বংসের স্বপ্ন দেখে যাচ্ছেন। কিন্তু ধ্বংস করতে পারে নাই, বিএনপিকে ধ্বংস করা এত সহজ নয়।’

‘আসলে বাস্তবতা হলো, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর ভয়ে এই সব বলছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে ক্ষমতা হারানো ভয় আছে তাদের, আর সেই জায়গা থেক্ তারা উল্টাপাল্টা বলছে।’

তবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সুরেই কথা বললেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। দৈনিক আকাশকে তিনি বলেন, বলেন, ‘বিএনপির কমিটিতে ৫০০ এর উপরে নেতা। সবার কথার জবাব তো দেয়া যাবে না। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেই দিয়েছেন, সংবিধান মতে আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে। এর বাইরে কে আসল কে আসল না সেটা দেখার বিষয় না।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘বিএনপি যদি বাস্তব ভিত্তিতে চিন্তা করে তবে তারা নির্বাচনে আসবে। আর যদি ইমোশনালি (আবেগ) ভাবে, তবে তারা নির্বাচনে আসবে না।’

‘গতবার নির্বাচনে ক্ষতি কার হয়েছে? সবচেয়ে ক্ষতি বেশি হয়েছে বিএনপির, দ্বিতীয় ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের, আর তৃতীয় ক্ষতি হয়েছে গণতন্ত্রের। তারা যদি বিরোধী দলেও থাকতো তবে ভালো রোল প্লে (ভূমিকা পালন) করতে পারত।’

‘বিএনপিতে সবাই তো আর একভাবে ভাবে না। কেউ কেউ তো অন্যভাবেও চিন্তা করে। দেখা যাক। নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই সব কিছু স্পষ্ট হবে’-বলেন ফারুক খান।

এক প্রশ্নে আওয়ামী লীগের আগের আমলের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার কোনো উদ্যোগ থাকবে না।’