ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পরাজয় জেনেই ভোট স্থগিতে কারসাজিতে সরকার: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত জেনেই সরকার ‘কারসাজি’ করে গাজীপুর সিটি করপোরেশর নির্বাচন স্থগিত করিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর রবিবার সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিযোগ করেন। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রাত সাড়ে ৭টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠক করেন।

ফখরুল বলেন, ‘সরকার দেখেছে যে, এই নির্বাচনে একেবারে তাদের ভরাডুবি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং তারা নিশ্চিত পরাজয় জেনে তাদের লোক দিয়ে মামলা করিয়ে এবং কারসাজি করে গাজীপুরের নির্বাচনটিকে স্থগিত করিয়েছে। আপনারা জানেন, রিট মামলার পিটিশনার হচ্ছেন সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি শিমুলিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সম্পাদক না সভাপতিও।’

এই নির্বাচন স্থগিত করানোর মধ্য দিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে তারা সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আমি এটুকু বলতে চাই যে, তাদের যে অপচেষ্টা, তাদের যে খারাপ কাজ এর পেছনে তাদের হীন উদ্দেশ্য কাজ করছে যাতে জনগণকে তাদের যে ভোট দেবার সাংবিধানিক অধিকার, সেই অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই স্থগিতকে আমরা বড় বিজয় বলে মনে করি। সরকার বাধ্য হয়েছে তাদের নিশ্চিত পরাজয় জেনে এটি বন্ধ করতে।’

রবিবার দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার এবং বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চ এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুর সিটি করেপোরেশন নির্বাচন স্থগিত রাখার আদেশ দেয়।

সেই সঙ্গে আদালত ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারির গেজেট, ৪ মার্চের গেজেট এবং ৩ এপ্রিলের তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।

ঢাকার সাভারের এক নম্বর শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে ২০১৫ সালে এক নম্বর শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম আজহারুল ইসলাম সুরুজ ওই মৌজাগুলো গাজীপুর সিটি করপোরেশন থেকে বাদ দিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন। কিন্তু ইসি এ ব্যাপারে সাড়া না দেওয়ায় তার আবেদনের নিষ্পত্তি চেয়ে হাই কোর্টে রিট করেন আজহারুল ইসলাম। তখন হাই কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে তার আবেদনটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়ে রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেয়।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ মে এই সিটির ভোট করতে সব প্রস্তুতি চলছিল। প্রধান দুটি দলসহ সব দলের প্রার্থীরাই পুরোদমে প্রচার চালাচ্ছিলেন।

পুলিশি ঘেরাও ও গ্রেপ্তারের নিন্দা

ভোট স্থগিতের পরে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারের বাড়িতে পুলিশের ঘেরা ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানসহ ১৬ নেতা-কর্মীর গ্রেপ্তারের ঘটনার নিন্দা জানান ফখরুল। অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি ও হাসান উদ্দিন সরকারের বাড়ির সামনে থেকে পুলিশি ঘেরাও তুলে নেয়ার দাবিও জানান বিএনপি মহাসচিব।

ফখরুল বলেন, ‘সরকারের নির্বাচন ভীতি কাজ করছে বলে তারা এই নির্বাচন স্থগিত করিয়েছে। আমরা মনে করি সামনের যেসব নির্বাচন আছে সেগুলোর ভাগ্যেও একই অবস্থা হতে পারে।’

‘আমরা বারবার বলে এসেছি এই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। আমাদের সিনিয়র লিডার মওদুদ সাহেব দাবি করেছেন যে, এই কমিশন পুনর্গঠন হওয়া উচিত। কারণ নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে। ফলে সিটি নির্বাচনের মতো জাতীয় নির্বাচন নিয়েও আমরা শঙ্কায় আছি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরাজয় জেনেই ভোট স্থগিতে কারসাজিতে সরকার: ফখরুল

আপডেট সময় ০৯:৫১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত জেনেই সরকার ‘কারসাজি’ করে গাজীপুর সিটি করপোরেশর নির্বাচন স্থগিত করিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর রবিবার সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিযোগ করেন। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রাত সাড়ে ৭টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠক করেন।

ফখরুল বলেন, ‘সরকার দেখেছে যে, এই নির্বাচনে একেবারে তাদের ভরাডুবি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং তারা নিশ্চিত পরাজয় জেনে তাদের লোক দিয়ে মামলা করিয়ে এবং কারসাজি করে গাজীপুরের নির্বাচনটিকে স্থগিত করিয়েছে। আপনারা জানেন, রিট মামলার পিটিশনার হচ্ছেন সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি শিমুলিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সম্পাদক না সভাপতিও।’

এই নির্বাচন স্থগিত করানোর মধ্য দিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে তারা সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আমি এটুকু বলতে চাই যে, তাদের যে অপচেষ্টা, তাদের যে খারাপ কাজ এর পেছনে তাদের হীন উদ্দেশ্য কাজ করছে যাতে জনগণকে তাদের যে ভোট দেবার সাংবিধানিক অধিকার, সেই অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই স্থগিতকে আমরা বড় বিজয় বলে মনে করি। সরকার বাধ্য হয়েছে তাদের নিশ্চিত পরাজয় জেনে এটি বন্ধ করতে।’

রবিবার দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার এবং বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চ এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুর সিটি করেপোরেশন নির্বাচন স্থগিত রাখার আদেশ দেয়।

সেই সঙ্গে আদালত ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারির গেজেট, ৪ মার্চের গেজেট এবং ৩ এপ্রিলের তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।

ঢাকার সাভারের এক নম্বর শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে ২০১৫ সালে এক নম্বর শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম আজহারুল ইসলাম সুরুজ ওই মৌজাগুলো গাজীপুর সিটি করপোরেশন থেকে বাদ দিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন। কিন্তু ইসি এ ব্যাপারে সাড়া না দেওয়ায় তার আবেদনের নিষ্পত্তি চেয়ে হাই কোর্টে রিট করেন আজহারুল ইসলাম। তখন হাই কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে তার আবেদনটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়ে রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেয়।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ মে এই সিটির ভোট করতে সব প্রস্তুতি চলছিল। প্রধান দুটি দলসহ সব দলের প্রার্থীরাই পুরোদমে প্রচার চালাচ্ছিলেন।

পুলিশি ঘেরাও ও গ্রেপ্তারের নিন্দা

ভোট স্থগিতের পরে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারের বাড়িতে পুলিশের ঘেরা ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানসহ ১৬ নেতা-কর্মীর গ্রেপ্তারের ঘটনার নিন্দা জানান ফখরুল। অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি ও হাসান উদ্দিন সরকারের বাড়ির সামনে থেকে পুলিশি ঘেরাও তুলে নেয়ার দাবিও জানান বিএনপি মহাসচিব।

ফখরুল বলেন, ‘সরকারের নির্বাচন ভীতি কাজ করছে বলে তারা এই নির্বাচন স্থগিত করিয়েছে। আমরা মনে করি সামনের যেসব নির্বাচন আছে সেগুলোর ভাগ্যেও একই অবস্থা হতে পারে।’

‘আমরা বারবার বলে এসেছি এই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। আমাদের সিনিয়র লিডার মওদুদ সাহেব দাবি করেছেন যে, এই কমিশন পুনর্গঠন হওয়া উচিত। কারণ নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে। ফলে সিটি নির্বাচনের মতো জাতীয় নির্বাচন নিয়েও আমরা শঙ্কায় আছি।’