ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বামীর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে স্ত্রীসহ নিহত ২ রামিসা হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার সোহেলের, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের আ.লীগের এক নেতাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন হান্নান মাসউদ: রাশেদ ‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্রশিবিরকে তরুণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান সন্তানেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক, তবুও একা ঘরে মরতে হলো বৃদ্ধ মাকে ‘ইরান সরকারের ভিত্তি নড়ে গেছে, এটি ভেঙে পড়তে বাধ্য’ খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত

মরা পশুর মাংস বেচে কোটিপতি বিশু

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

দমদম বিমানবন্দর ও বাঁকরা সংলগ্ন একটি বড় খাটালে থাকা মৃত পশুগুলো তুলে নিয়ে দুটো ভাঙা বাড়িতে রাখা হতো। এর পর গাড়িতে করে সেগুলিকে মধ্যমগ্রাম থেকে রাতের অন্ধকারে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হতো।

তারপর ভাগারের মাংস বিক্রির জন্য চলে যেত বাজারে। এভাবে সহযোগীদের সাহায্যে ভাগারের মাংস বেচে কোটিপতি হয়েছেন বিশ্বনাথ ঘড়ুই ওরফে বিশু।

সোনারপুরের গঙ্গাজোয়ারার কাটিপোতা গ্রামে বিশুর আসল বাড়ি। এই ব্যবসায় প্রচুর লাভের ফলে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন প্রান্তে ৪টি বাড়ির মালিকও হয়েছেন তিনি।

সোনারপুরের গড়িয়া পাঁচপোতা লাগোয়া পূর্ব তেঁতুলবেড়িয়ায় তার তিনতলা বাড়ি রয়েছে। এই বাড়ি থেকেই বিশুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া গড়িয়া স্টেশনের কাছেও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। মোটরবাইক এবং চার চাকার বড় গাড়িও রয়েছে তার।

বিশ্বনাথ ঘড়ুই ওরফে বিশুকে জিজ্ঞাসাদের পর পাচার চক্রের এই জালের কথা জানতে পেরেছে পুলিশ।

বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে এই পাচার চক্র সক্রিয় ছিল। সে-সব জায়গায় নিয়োগ করা হত বিশেষ ব্যক্তি। তাদের নামও উঠে আসছে পুলিশের কাছে। আর তাতেই পরিষ্কার, এই পাচারচক্র গোটা উত্তর ২৪ পরগনা জুড়েই সক্রিয় ছিল। কাঁকিনাড়া, জগদ্দল থেকে দমদম বিমানবন্দর লাগোয়া ভাগাড়েও এই পাচার চক্রের সহযোগীরা রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার উল্টোডাঙা এলাকা থেকে মহম্মদ আকমল নামের এ বিষয়ে এক জড়িত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। পাশাপাশি গঙ্গানগর ও মধ্যমগ্রাম সংলগ্ন বাঁকরায় তল্লাশি চালিয়ে ওই দিন রাতে শেখ সিকন্দর আলিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সারাফত ও বিশুর অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন সিকন্দার।

পুলিশ জানায়, প্রায় ২০ বছর ধরে এই কাজ করে হতদরিদ্র থেকে আজ সিকন্দর বেশ কয়েকটি গাড়ির মালিক। তাকেও জিঞ্জাসাবাদের পর আরও জড়িত কয়েকজনকে খুঁজছে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিশু জানিয়েছে, ১০ বছর ধরে এই ব্যবসা করছেন তিনি। মাছ ব্যবসার আড়ালে এই ব্যবসায় তার হাতেখড়ি। গড়িয়াহাট ও রাজাবাজারে তার মাছের আড়ত রয়েছে। সেই মাছ বিক্রি করতে গিয়েই ভাগাড়ের পচা মাংস পাচারের কাজ শুরু করেছিল বিশু।

সোনারপুরের গড়িয়া পাঁচপোতা লাগোয়া পূর্ব তেঁতুলবেড়িয়ায় তার তিনতলা বাড়ি রয়েছে। এই বাড়ি থেকেই বিশুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া গড়িয়া স্টেশনের কাছেও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। মোটরবাইক এবং চার চাকার বড় গাড়িও রয়েছে তার।

স্থানীয়রা জানান, বিশুর ছেলে ও মেয়ের মধ্যে মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।

জানা গেছে, সহযোগী ও চেলাদের ভাগ দিয়েও বিশু মোটা টাকাই লাভ করতেন। বিশু ও তার সহযোগী সানি ও সিকন্দর এবং সারাফতকে মুখোমুখি বসিয়ে জিঞ্জাসাবাদ করা হবে। তবেই আসল তথ্য উঠে আসবে বলে জানান পুলিশ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বামীর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে স্ত্রীসহ নিহত ২

মরা পশুর মাংস বেচে কোটিপতি বিশু

আপডেট সময় ০৪:২১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ মে ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

দমদম বিমানবন্দর ও বাঁকরা সংলগ্ন একটি বড় খাটালে থাকা মৃত পশুগুলো তুলে নিয়ে দুটো ভাঙা বাড়িতে রাখা হতো। এর পর গাড়িতে করে সেগুলিকে মধ্যমগ্রাম থেকে রাতের অন্ধকারে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হতো।

তারপর ভাগারের মাংস বিক্রির জন্য চলে যেত বাজারে। এভাবে সহযোগীদের সাহায্যে ভাগারের মাংস বেচে কোটিপতি হয়েছেন বিশ্বনাথ ঘড়ুই ওরফে বিশু।

সোনারপুরের গঙ্গাজোয়ারার কাটিপোতা গ্রামে বিশুর আসল বাড়ি। এই ব্যবসায় প্রচুর লাভের ফলে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন প্রান্তে ৪টি বাড়ির মালিকও হয়েছেন তিনি।

সোনারপুরের গড়িয়া পাঁচপোতা লাগোয়া পূর্ব তেঁতুলবেড়িয়ায় তার তিনতলা বাড়ি রয়েছে। এই বাড়ি থেকেই বিশুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া গড়িয়া স্টেশনের কাছেও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। মোটরবাইক এবং চার চাকার বড় গাড়িও রয়েছে তার।

বিশ্বনাথ ঘড়ুই ওরফে বিশুকে জিজ্ঞাসাদের পর পাচার চক্রের এই জালের কথা জানতে পেরেছে পুলিশ।

বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে এই পাচার চক্র সক্রিয় ছিল। সে-সব জায়গায় নিয়োগ করা হত বিশেষ ব্যক্তি। তাদের নামও উঠে আসছে পুলিশের কাছে। আর তাতেই পরিষ্কার, এই পাচারচক্র গোটা উত্তর ২৪ পরগনা জুড়েই সক্রিয় ছিল। কাঁকিনাড়া, জগদ্দল থেকে দমদম বিমানবন্দর লাগোয়া ভাগাড়েও এই পাচার চক্রের সহযোগীরা রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার উল্টোডাঙা এলাকা থেকে মহম্মদ আকমল নামের এ বিষয়ে এক জড়িত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। পাশাপাশি গঙ্গানগর ও মধ্যমগ্রাম সংলগ্ন বাঁকরায় তল্লাশি চালিয়ে ওই দিন রাতে শেখ সিকন্দর আলিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সারাফত ও বিশুর অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন সিকন্দার।

পুলিশ জানায়, প্রায় ২০ বছর ধরে এই কাজ করে হতদরিদ্র থেকে আজ সিকন্দর বেশ কয়েকটি গাড়ির মালিক। তাকেও জিঞ্জাসাবাদের পর আরও জড়িত কয়েকজনকে খুঁজছে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিশু জানিয়েছে, ১০ বছর ধরে এই ব্যবসা করছেন তিনি। মাছ ব্যবসার আড়ালে এই ব্যবসায় তার হাতেখড়ি। গড়িয়াহাট ও রাজাবাজারে তার মাছের আড়ত রয়েছে। সেই মাছ বিক্রি করতে গিয়েই ভাগাড়ের পচা মাংস পাচারের কাজ শুরু করেছিল বিশু।

সোনারপুরের গড়িয়া পাঁচপোতা লাগোয়া পূর্ব তেঁতুলবেড়িয়ায় তার তিনতলা বাড়ি রয়েছে। এই বাড়ি থেকেই বিশুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া গড়িয়া স্টেশনের কাছেও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। মোটরবাইক এবং চার চাকার বড় গাড়িও রয়েছে তার।

স্থানীয়রা জানান, বিশুর ছেলে ও মেয়ের মধ্যে মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।

জানা গেছে, সহযোগী ও চেলাদের ভাগ দিয়েও বিশু মোটা টাকাই লাভ করতেন। বিশু ও তার সহযোগী সানি ও সিকন্দর এবং সারাফতকে মুখোমুখি বসিয়ে জিঞ্জাসাবাদ করা হবে। তবেই আসল তথ্য উঠে আসবে বলে জানান পুলিশ।