ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কেনিয়ায় স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ শিক্ষার্থীর প্রাণহানি, আহত ৭৯

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে একটি আবাসিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে আরো ৭৯ জন আহত হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।

কেনিয়া রেড ক্রস ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোররাতে রাজধানী থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমের গিলগিল এলাকায় উতুমিশি গার্লস স্কুলের একটি ডরমিটরিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ছাত্রাবাসে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ডরমিটরিতে প্রায় ২২০ শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। ঘটনাাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, আহতদের দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানা গেছে। আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখনো।

তবে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জরুরি সহায়তা দিতে কাজ করছেন কেনিয়া রেড ক্রসের সদস্যরা।

পুলিশ কমান্ডার মাসউদ মুইনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। পুরো স্কুল এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধু অভিভাবকদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে আসা অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ওয়াম্বুই নদেরিতু নামে এক নারী, যার ভাতিজি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বলেন, আমরা স্কুলে পৌঁছানোর পর আমাদের সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়াতে বলা হয়। তখন সবাই আতঙ্কিত ছিল। কারণ শুনেছিলাম কিছু শিক্ষার্থী মারা গেছে এবং অনেকে হাসপাতালে ভর্তি। তিনি জানান, আগুন থেকে বাঁচতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ওপরতলা থেকে লাফ দেয়। এতে গুরুতর আহত হয় অনেকে। তার ভাতিজি আগুন থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও ভেঙে গেছে একটি পা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেনিয়ার আবাসিক বিদ্যালয়গুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা একাধিক ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাত্রাবাসে অতিরিক্ত ভিড় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণেই হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায় অগ্নিকাণ্ডে। ২০০১ সালে নাইরোবির অদূরে কিয়াঙ্গুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল, অগ্নিসংযোগের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল বলে দাবি করেছিল কর্তৃপক্ষ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

কেনিয়ায় স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ শিক্ষার্থীর প্রাণহানি, আহত ৭৯

আপডেট সময় ০৩:২০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে একটি আবাসিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে আরো ৭৯ জন আহত হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।

কেনিয়া রেড ক্রস ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোররাতে রাজধানী থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমের গিলগিল এলাকায় উতুমিশি গার্লস স্কুলের একটি ডরমিটরিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ছাত্রাবাসে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ডরমিটরিতে প্রায় ২২০ শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। ঘটনাাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, আহতদের দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানা গেছে। আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখনো।

তবে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জরুরি সহায়তা দিতে কাজ করছেন কেনিয়া রেড ক্রসের সদস্যরা।

পুলিশ কমান্ডার মাসউদ মুইনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। পুরো স্কুল এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধু অভিভাবকদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে আসা অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ওয়াম্বুই নদেরিতু নামে এক নারী, যার ভাতিজি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বলেন, আমরা স্কুলে পৌঁছানোর পর আমাদের সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়াতে বলা হয়। তখন সবাই আতঙ্কিত ছিল। কারণ শুনেছিলাম কিছু শিক্ষার্থী মারা গেছে এবং অনেকে হাসপাতালে ভর্তি। তিনি জানান, আগুন থেকে বাঁচতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ওপরতলা থেকে লাফ দেয়। এতে গুরুতর আহত হয় অনেকে। তার ভাতিজি আগুন থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও ভেঙে গেছে একটি পা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেনিয়ার আবাসিক বিদ্যালয়গুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা একাধিক ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাত্রাবাসে অতিরিক্ত ভিড় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণেই হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায় অগ্নিকাণ্ডে। ২০০১ সালে নাইরোবির অদূরে কিয়াঙ্গুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল, অগ্নিসংযোগের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল বলে দাবি করেছিল কর্তৃপক্ষ।