ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চীন ও মালয়েশিয়া ঐকমত্য পোষণ করেছে: মাহদী আমিন ভিসা চালুর ঘোষণা: স্বাগত জানাল পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও বিধায়করা ফ্যামিলি কার্ড আপনাকে খুঁজতে হবে না, পৌঁছে যাবে আপনার দোরগোড়ায়’ মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ ভূমিমন্ত্রীর চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ৪ জনের বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপে খেলবে: আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশবাসীকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের শুভেচ্ছা টাঙ্গাইলে ‘জনতার সংযোগ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার: আমান উল্লাহ আমান

কবে ফিরবে রোহিঙ্গারা, এবারও মিলল না জবাব

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে দেশটি থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে সেটি এখনও প্রশ্ন হয়ে রইল।

তবে যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সমাজকল্যাণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ে।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মিয়ানমারের মন্ত্রী।

মিয়াত আয়ে বলেন, ‘সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে যত দ্রুত সম্ভব আমরা তাদের ফিরিয়ে নেব। আমরা আশা করছি প্রত্যাবাসন খুবই দ্রুতই হবে। আমি মনে করি আমরা এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব। আমি আশস্ত করছি, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেব।’

তবে বাংলাদেশে আশ্রয় শিবিরে থাকা সবাই রোহিঙ্গা কি না সে বিষয়ে সংশয়ের কথাও জানান মিয়ানমারের মন্ত্রী। বলেন, প্রমাণ দেখিয়েই তারা দেশে ফিরতে পারবে।

মিয়াত আয়ে বলেন, ‘মিয়ানমারের আইন অনুযায়ী যত তাড়াতাড়ি তারা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড নেবে, তত দ্রুত তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে। আইন অনুযায়ী তাদের জাতীয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে আসতে হবে, যাতে তারপরে তারা নাগরিকত্ব পেতে পারে।’

‘তবে আইন অনুযায়ী নিবন্ধন করতে তাদের প্রমাণ দেখিয়ে নাগরিকত্ব নিতে হবে।’

এর আগে বুধবার কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন সমাজকল্যাণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ে।

রেহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে মানতে নারাজ হলেও সর্বশেষ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত নিতে রাজি হয়।

চার মাস আগে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি সম্মতিপত্র সই হলেও এরপর তার অগ্রগতি নেই। এই প্রক্রিয়ায় দেরি দেখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে টেলি আলাপে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা চেয়েছেন।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের কাছে আট হাজার ৩২ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। এই তালিকা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যাচাইয়ের পরই প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তবে সেই তারিখ জানার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর সেনা অভিযানের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ফিজিক্যাল অ্যারাঞ্জমেন্ট চু্ক্তি হয়েছে জানুয়ারিতে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘খুবই ফ্রুটফুল বৈঠক হয়েছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে নেবেন।’

মন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআর ও জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিল-ইউএনডিপির সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। তারা এদের সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের ফেরত যাবে।

মিয়ানমারের মন্ত্রীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানা সমস্যার মধ্যে আছি। যত দ্রুত সম্ভব তাদের ফিরিয়ে নিন।’

সীমান্তের নিরাপত্তার স্বার্থে আগে শূন্য রেখার মধ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চীন ও মালয়েশিয়া ঐকমত্য পোষণ করেছে: মাহদী আমিন

কবে ফিরবে রোহিঙ্গারা, এবারও মিলল না জবাব

আপডেট সময় ০২:১৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে দেশটি থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে সেটি এখনও প্রশ্ন হয়ে রইল।

তবে যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সমাজকল্যাণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ে।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মিয়ানমারের মন্ত্রী।

মিয়াত আয়ে বলেন, ‘সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে যত দ্রুত সম্ভব আমরা তাদের ফিরিয়ে নেব। আমরা আশা করছি প্রত্যাবাসন খুবই দ্রুতই হবে। আমি মনে করি আমরা এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব। আমি আশস্ত করছি, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেব।’

তবে বাংলাদেশে আশ্রয় শিবিরে থাকা সবাই রোহিঙ্গা কি না সে বিষয়ে সংশয়ের কথাও জানান মিয়ানমারের মন্ত্রী। বলেন, প্রমাণ দেখিয়েই তারা দেশে ফিরতে পারবে।

মিয়াত আয়ে বলেন, ‘মিয়ানমারের আইন অনুযায়ী যত তাড়াতাড়ি তারা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড নেবে, তত দ্রুত তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে। আইন অনুযায়ী তাদের জাতীয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে আসতে হবে, যাতে তারপরে তারা নাগরিকত্ব পেতে পারে।’

‘তবে আইন অনুযায়ী নিবন্ধন করতে তাদের প্রমাণ দেখিয়ে নাগরিকত্ব নিতে হবে।’

এর আগে বুধবার কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন সমাজকল্যাণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ে।

রেহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে মানতে নারাজ হলেও সর্বশেষ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত নিতে রাজি হয়।

চার মাস আগে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি সম্মতিপত্র সই হলেও এরপর তার অগ্রগতি নেই। এই প্রক্রিয়ায় দেরি দেখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে টেলি আলাপে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা চেয়েছেন।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের কাছে আট হাজার ৩২ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। এই তালিকা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যাচাইয়ের পরই প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তবে সেই তারিখ জানার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর সেনা অভিযানের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ফিজিক্যাল অ্যারাঞ্জমেন্ট চু্ক্তি হয়েছে জানুয়ারিতে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘খুবই ফ্রুটফুল বৈঠক হয়েছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে নেবেন।’

মন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআর ও জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিল-ইউএনডিপির সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। তারা এদের সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের ফেরত যাবে।

মিয়ানমারের মন্ত্রীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানা সমস্যার মধ্যে আছি। যত দ্রুত সম্ভব তাদের ফিরিয়ে নিন।’

সীমান্তের নিরাপত্তার স্বার্থে আগে শূন্য রেখার মধ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।