ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে, এটাই আমাদের স্বপ্ন: পার্থ নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো নিরপেক্ষতা দেখছি না: জি এম কাদের সংবিধানের দুর্বলতা দূর করতেই গণভোট: আলী রীয়াজ নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন: আসিফ নজরুল ওরা দেশকে ভালোবাসার নামে আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে: চরমোনাই পীর বিশ্বকাপে বাংলাদেশে বাদকে দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিলো আইসিসি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে সংলাপ জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা আমার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, যা প্রয়োজন তাই করব: মির্জা আব্বাস নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না : সুজন

নৌকা ছাড়া জাতির গতি নাই: সাংসদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচক’ রুস্তম আলী ফরাজীর প্রস্তাবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক স্বীকৃতিপত্র পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সংসদ।

বৃহস্পতিবার রাতে এই প্রস্তাব তোলা হয় সংসদে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, ১৪ দলের শরিক জাসদ, তরীকত ফেডারেশন এবং বিএনএফ এর বেশ কয়েকজন সদস্য এই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখেন। ১৪ দলের নেতারা সবাই শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনতে জনগণকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। বলেন, নৌকা ছাড়া এই জাতির গতি নাই।

আর বক্তব্য উপস্থাপনের পর স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী প্রস্তাবটি ভোটে দেন। এ সময় সব দলের সংসদ সদস্যরাই প্রস্তাবটিকে সমর্থন করেন। বিরুদ্ধে একটিও ভোট পড়েনি।

গত ১৫ মার্চ জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রাথমিক স্বীকৃতিপত্র দেয়। যে তিনটি সূচকের ভিত্তিতে এই স্বীকৃতি পাওয়া যায়, তার তিনটিই পূরণ করেছে বাংলাদেশ যদিও যে কোনো দুটি পূরণ হলেই এই স্বীকৃতিপত্র পাওয়া যায়।

জাতিসংঘ পৃথিবীর দেশগুলোকে উন্নয়নের দিক থেকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে। সবার নিচে আছে স্বল্পোন্নত দেশ। এরপর উন্নয়নশীল এবং সবার শেষে উন্নত দেশ।

অবশ্য স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক স্বীকৃতিপত্র মিললেও এই উত্তরণ শেষ হবে ২০২৪ সালে। এর আগে ২০২১ সালে এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তাব দেবে জাতিসংঘ কমিটি। অর্থাৎ বাংলাদেশ যে অর্জনগুলো করেছে, সেগুলো ধরে রাখলেই উত্তরণ নিশ্চিত।

জাতীয় পার্টির পিরোজপুরের সংসদ সদস্য আসনের রুস্তম আলী ফরাজীর সংসদে প্রস্তাবটি তোলেন। তার প্রস্তাবটি ছিল এমন: ‘সংসদের অভিমত এই যে, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটি সিডিপি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের অভিযাত্রায় যুক্ত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জনগণকে এই সংসদ অভিনন্দন জানাচ্ছে।’

শুরুতেই প্রস্তাবের পক্ষে জনাব ফরাজী দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন। বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকার ফলেই বাংলাদেশ এই অর্জন করতে পেরেছে।

পরে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, ‘বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার প্রাথমিক স্বীকৃতিপত্র পেলেও এটি পুরোপুরি পাওয়ার জন্য অগ্রগতি ধরে রাখতে হবে। আমরা সবাই মিলে এক থাকলে এটা সম্ভব।’

তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ১০টি বিশেষ উদ্যোগের জন্য শেখ হাসিনা সফল হয়েছেন। মেগা প্রকল্প, বিদ্যুৎ গ্যাসের ঘাটতি পূরণ, তথ্য প্রযুক্তি উন্নয়ন, কৃষিতে ভর্তুকি, গ্রামীণ অর্থনীতির বহুমূখীকরণ, চর, হাওর উপকূলীয় উন্নয়ন, শিল্পায়নে নতুন গতির সঞ্চারণ, সরাকরি বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়া, আমদানি রপ্তানি বৃদ্ধি করাসহ নানা কারণে মানব উন্নয়ন সূচক বেড়েছে বাংলাদেশের।

ইনু বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন সক্ষম এবং সবল। প্রধানমন্ত্রী কেবল উন্নয়ন করেননি, জঙ্গি সন্ত্রাসী, আগুন সন্ত্রাসীদেরকে তিনি কঠোর হাতে দমন করেছেন।’

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘জাতিসংঘের প্রতিটি সদস্য বলেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের পথে আছে। এই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আবার শেখ হাসিনার সরকার। শতভাগ আলোকিত বাংলাদেশ গঠন করার জন্য আবার শেখ হাসিনার সরকার দরকার।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে ২৪ ঘণ্টা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছেন।…একাদশতম সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ দলমত নির্বিশেষে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘বিএনপির আমলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল, আজকে মানুষ লোডশেডিং ভুলে গেছে। আমাদের ১০টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এগুলোর কাজ শেষ হলে প্রবৃদ্ধি হবে ১০ শতাংশ।’

ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘ভৌত অবকাঠামো, সামাজিক অবকাঠামোসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন বাংলাদেশ চিরদিন গরিব দেশ থাকবে। কেউ কেউ বলেছিলেন বাংলাদেশ টিকে থাকতে পারবে না। এখন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ এসে বলেন, আমি বাংলাদেশে এসেছি উন্নয়নের কাহিনি শোনার জন্য।’

সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘শেখ হাসিনা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তার প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার কারণে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। এই উন্নয়ন ধরে রাখার জন্য আমাদের যা যা প্রয়োজন করতে হবে।’

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলী আশরাফ বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে পৃথিবীকে চমকে গিয়েছিল। আর উন্নয়নেরে জন্য শেখ হাসিনার দক্ষ এবং সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে প্রসার হচ্ছে, সেটা জাতির জন্য গর্বের।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২০ বছর আগে বাংলাদেশে পুরনো কাপড় আমদানি হতো। নিম্ন আয়ের এমনকি মধ্যবিত্তরাও এই কাপড় পরত। আর আজ আমাদের কাপড় বিশ্বের নামিদামি দোকানে পাওয়া যায়। এটাই বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ আরও বদলে যাবে যদি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকবে।’

আওয়ামী লীগের খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘রুস্তম আলী ফরাজী আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচক। তিনিও আজ বুঝেছেন, শেখ হাসিনার বিকল্প বাংলাদেশে নাই। বঙ্গবন্ধুর যারা সমালোচনা করেছেন, তারাও আজ বুঝতে পারছেন কী ভুল তারা করেছেন।’

যশোর-২ আসনের মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাদেরকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। আজ আমরা উন্নয়নের দিক থেকে সব সূচকে পাকিস্তানের থেকে এগিয়ে। পাকিস্তান আমাদের দাবায়ে রাখতে পারেনি।’

জয়পুরহাটের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘শেখ হাসিনার হাত দিয়ে কেবল উন্নয়নশীল দেশ নয়, তার হাতে বাংলাদেশ থাকলে একদিন উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করবেন। তিনি এর সব ভিত্তি রচনা করেছেন।’

জাসদের শিরীন আখতার বলেন, ‘আমি একজন সালেহাকে চিনি, কিছুই ছিল না। মানুষের বাড়িতে কাজ করত। গত নয় বছরে তার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হয়েছে, সে এখন ইউপি মেম্বার হয়েছে। এ রকম সালেহা একজন নয়, লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি সালেহা এখন বাংলাদেশে।’

‘আজকে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। শুধু বিদ্যুৎ নয়, সামাজিক নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, শিল্পায়নসহ সব দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে বিস্ময়কর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

১৪ দলের শরিক তরীকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘আমাদের প্রতীক ফুলের মালা। কিন্তু নৌকায় না উঠলে আমাদের গতি নাই। তাই আমরা নৌকায় উঠেছি। নৌকা ছাড়া জাতির গতি নাই।’

কোটা আন্দোলনের কথা তুলে ধরে মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘এই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য তারেক রহমান উস্কানি দিয়েছেন। যারা এই কাজ করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

বিএনএফ এর এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এখন আমি বলি, এক নেতার এক দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, এক নেতার এক দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।’

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুণ, মৃণাল কান্তি, তাজুল ইসলাম,আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সানজিদা খানম, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী, সাবিনা আক্তার তুহিন, আমাতুল্লাহ কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী প্রমুখ এই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে, এটাই আমাদের স্বপ্ন: পার্থ

নৌকা ছাড়া জাতির গতি নাই: সাংসদ

আপডেট সময় ০১:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচক’ রুস্তম আলী ফরাজীর প্রস্তাবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক স্বীকৃতিপত্র পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সংসদ।

বৃহস্পতিবার রাতে এই প্রস্তাব তোলা হয় সংসদে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, ১৪ দলের শরিক জাসদ, তরীকত ফেডারেশন এবং বিএনএফ এর বেশ কয়েকজন সদস্য এই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখেন। ১৪ দলের নেতারা সবাই শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনতে জনগণকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। বলেন, নৌকা ছাড়া এই জাতির গতি নাই।

আর বক্তব্য উপস্থাপনের পর স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী প্রস্তাবটি ভোটে দেন। এ সময় সব দলের সংসদ সদস্যরাই প্রস্তাবটিকে সমর্থন করেন। বিরুদ্ধে একটিও ভোট পড়েনি।

গত ১৫ মার্চ জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রাথমিক স্বীকৃতিপত্র দেয়। যে তিনটি সূচকের ভিত্তিতে এই স্বীকৃতি পাওয়া যায়, তার তিনটিই পূরণ করেছে বাংলাদেশ যদিও যে কোনো দুটি পূরণ হলেই এই স্বীকৃতিপত্র পাওয়া যায়।

জাতিসংঘ পৃথিবীর দেশগুলোকে উন্নয়নের দিক থেকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে। সবার নিচে আছে স্বল্পোন্নত দেশ। এরপর উন্নয়নশীল এবং সবার শেষে উন্নত দেশ।

অবশ্য স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক স্বীকৃতিপত্র মিললেও এই উত্তরণ শেষ হবে ২০২৪ সালে। এর আগে ২০২১ সালে এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তাব দেবে জাতিসংঘ কমিটি। অর্থাৎ বাংলাদেশ যে অর্জনগুলো করেছে, সেগুলো ধরে রাখলেই উত্তরণ নিশ্চিত।

জাতীয় পার্টির পিরোজপুরের সংসদ সদস্য আসনের রুস্তম আলী ফরাজীর সংসদে প্রস্তাবটি তোলেন। তার প্রস্তাবটি ছিল এমন: ‘সংসদের অভিমত এই যে, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটি সিডিপি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের অভিযাত্রায় যুক্ত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জনগণকে এই সংসদ অভিনন্দন জানাচ্ছে।’

শুরুতেই প্রস্তাবের পক্ষে জনাব ফরাজী দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন। বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকার ফলেই বাংলাদেশ এই অর্জন করতে পেরেছে।

পরে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, ‘বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার প্রাথমিক স্বীকৃতিপত্র পেলেও এটি পুরোপুরি পাওয়ার জন্য অগ্রগতি ধরে রাখতে হবে। আমরা সবাই মিলে এক থাকলে এটা সম্ভব।’

তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ১০টি বিশেষ উদ্যোগের জন্য শেখ হাসিনা সফল হয়েছেন। মেগা প্রকল্প, বিদ্যুৎ গ্যাসের ঘাটতি পূরণ, তথ্য প্রযুক্তি উন্নয়ন, কৃষিতে ভর্তুকি, গ্রামীণ অর্থনীতির বহুমূখীকরণ, চর, হাওর উপকূলীয় উন্নয়ন, শিল্পায়নে নতুন গতির সঞ্চারণ, সরাকরি বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়া, আমদানি রপ্তানি বৃদ্ধি করাসহ নানা কারণে মানব উন্নয়ন সূচক বেড়েছে বাংলাদেশের।

ইনু বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন সক্ষম এবং সবল। প্রধানমন্ত্রী কেবল উন্নয়ন করেননি, জঙ্গি সন্ত্রাসী, আগুন সন্ত্রাসীদেরকে তিনি কঠোর হাতে দমন করেছেন।’

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘জাতিসংঘের প্রতিটি সদস্য বলেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের পথে আছে। এই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আবার শেখ হাসিনার সরকার। শতভাগ আলোকিত বাংলাদেশ গঠন করার জন্য আবার শেখ হাসিনার সরকার দরকার।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে ২৪ ঘণ্টা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছেন।…একাদশতম সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ দলমত নির্বিশেষে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘বিএনপির আমলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল, আজকে মানুষ লোডশেডিং ভুলে গেছে। আমাদের ১০টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এগুলোর কাজ শেষ হলে প্রবৃদ্ধি হবে ১০ শতাংশ।’

ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘ভৌত অবকাঠামো, সামাজিক অবকাঠামোসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন বাংলাদেশ চিরদিন গরিব দেশ থাকবে। কেউ কেউ বলেছিলেন বাংলাদেশ টিকে থাকতে পারবে না। এখন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ এসে বলেন, আমি বাংলাদেশে এসেছি উন্নয়নের কাহিনি শোনার জন্য।’

সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘শেখ হাসিনা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তার প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার কারণে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। এই উন্নয়ন ধরে রাখার জন্য আমাদের যা যা প্রয়োজন করতে হবে।’

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলী আশরাফ বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে পৃথিবীকে চমকে গিয়েছিল। আর উন্নয়নেরে জন্য শেখ হাসিনার দক্ষ এবং সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে প্রসার হচ্ছে, সেটা জাতির জন্য গর্বের।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২০ বছর আগে বাংলাদেশে পুরনো কাপড় আমদানি হতো। নিম্ন আয়ের এমনকি মধ্যবিত্তরাও এই কাপড় পরত। আর আজ আমাদের কাপড় বিশ্বের নামিদামি দোকানে পাওয়া যায়। এটাই বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ আরও বদলে যাবে যদি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকবে।’

আওয়ামী লীগের খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘রুস্তম আলী ফরাজী আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচক। তিনিও আজ বুঝেছেন, শেখ হাসিনার বিকল্প বাংলাদেশে নাই। বঙ্গবন্ধুর যারা সমালোচনা করেছেন, তারাও আজ বুঝতে পারছেন কী ভুল তারা করেছেন।’

যশোর-২ আসনের মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাদেরকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। আজ আমরা উন্নয়নের দিক থেকে সব সূচকে পাকিস্তানের থেকে এগিয়ে। পাকিস্তান আমাদের দাবায়ে রাখতে পারেনি।’

জয়পুরহাটের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘শেখ হাসিনার হাত দিয়ে কেবল উন্নয়নশীল দেশ নয়, তার হাতে বাংলাদেশ থাকলে একদিন উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করবেন। তিনি এর সব ভিত্তি রচনা করেছেন।’

জাসদের শিরীন আখতার বলেন, ‘আমি একজন সালেহাকে চিনি, কিছুই ছিল না। মানুষের বাড়িতে কাজ করত। গত নয় বছরে তার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হয়েছে, সে এখন ইউপি মেম্বার হয়েছে। এ রকম সালেহা একজন নয়, লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি সালেহা এখন বাংলাদেশে।’

‘আজকে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। শুধু বিদ্যুৎ নয়, সামাজিক নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, শিল্পায়নসহ সব দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে বিস্ময়কর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

১৪ দলের শরিক তরীকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘আমাদের প্রতীক ফুলের মালা। কিন্তু নৌকায় না উঠলে আমাদের গতি নাই। তাই আমরা নৌকায় উঠেছি। নৌকা ছাড়া জাতির গতি নাই।’

কোটা আন্দোলনের কথা তুলে ধরে মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘এই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য তারেক রহমান উস্কানি দিয়েছেন। যারা এই কাজ করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

বিএনএফ এর এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এখন আমি বলি, এক নেতার এক দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, এক নেতার এক দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।’

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুণ, মৃণাল কান্তি, তাজুল ইসলাম,আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সানজিদা খানম, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী, সাবিনা আক্তার তুহিন, আমাতুল্লাহ কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী প্রমুখ এই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখেন।