অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, আমাদের দেশে জঙ্গিবাদ আমদানি করা হয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও পথচলাকে বাধাগ্রস্ত করতেই আমাদের দেশে জঙ্গিবাদ ঢোকানো হয়েছে। কিন্তু জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে পুলিশ।
বুধবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জঙ্গি ও মাদক প্রতিরোধবিষয়ক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের উন্নয়নে মাদক ও জঙ্গিবাদ প্রধান প্রতিবন্ধকতা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, সারা বিশ্বে জঙ্গিবাদ প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদ দমনে নানান পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আমরা জঙ্গিবাদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি পালন করছি।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় জঙ্গিবাদ ও মাদক। পুলিশের একার পক্ষে জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। দেশের সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। জঙ্গিরা যতই শক্তিশালী হোক কখনোই মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, মাদক ও জঙ্গিবাদের মূল টার্গেট শিক্ষার্থীরা। তাই শিক্ষার্থীদের সচেতন হতে হবে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের দলে ভেড়ানো হচ্ছে। তাই সচেতনতাসহ বন্ধু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের সজাগ হতে হবে।
মাদককে মরণব্যাধি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক এমনই একটা সমাজের ব্যাধি যে ক্রমে ক্রমে পরিবার, সমাজ ধ্বংস করে দিচ্ছে। সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করে দিচ্ছে।
মাদক ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে মাদক ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। মাদকসেবনে যেন কেউ পা না রাখে সেদিকে আমরা লক্ষ রাখছি। জঙ্গিবাদ যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে সে জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
পুলিশপ্রধান বলেন, মাদকের মতো যন্ত্রণার জীবন থেকে যারা ফিরে আসতে চায় তাদের জন্য সব সময় সহযোগিতার হাত খোলা থাকবে। সবার সহযোগিতা পেলে মাদক নির্মূলে আমরা বিশ্বে রোল মডেল হতে পারব।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ার কারণে সামাজিক ব্যাধি মাদক ও জঙ্গিবাদ এসব কাজে জড়িয়ে পড়ছে। অভিভাবকের উচিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে তার দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে নজর রাখা।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধানের সঞ্চালনায় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক জনাব খন্দকার গোলাম ফারুক।
উপমহাপরিদর্শক বলেন, ইসলাম ধর্মকে বিতর্কিত করতেই জঙ্গিরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পারি তা দূর করতে। ছাত্র-শিক্ষক সবাইকে দেশের স্বার্থে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক না থাকলে কোনোকিছুই ঠিকভাবে চলবে না।
মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু প্রশাসন চাইলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব না। সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক ব্যবসা থেকে সরিয়ে এনে তাদের নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছি। যারা আত্মসমর্পণ করবে তাদের জন্য এই সুযোগ সব সময় থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মানুষ নিজেরাই মাদকমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করেছে। আমরা চাই এক এক করে প্রতিটি উপজেলা মাদকমুক্ত করতে আর মানুষজন যেন স্বেচ্ছায় তাদের স্থানকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এর উপ-উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. এম আবুল কাশেম মজুমদার। তিনি বক্তব্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লাখো বাঙালির জীবনদানের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। সুপরিকল্পনার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্বের বন্ধনে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের মতো ঘৃণিত কাজ থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থেকে নিজস্ব মেধা ও মনন কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনকে সুন্দর করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে হবে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বেরোবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. গাজী মাজহারুল আনোয়ার, প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু কালাম মো. ফরিদ-উল ইসলাম, রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, বেরোবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















