ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল: মির্জা ফখরুল ক্ষমতায় গেলে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: তারেক রহমান একটা বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হবে না : আবুল কালাম শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প আত্মসাৎ: ৩১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নতুন যে বার্তা দিল জাতিসংঘ বিশ্বকাপ খেলতে চায় বাংলাদেশও, বন্ধ হয়নি সব দরজা : বুলবুল নিউজিল্যান্ডে ভয়াবহ ভূমিধস, বহু মানুষ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান জোরদার ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিল জার্মানি তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনি জনসভা, সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসমুদ্র ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী এখনো ওত পেতে আছে : উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

অঙ্গীকারের চেয়ে বেশি কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তার চেয়ে বেশি কাজ করার দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নের এই ধারা বজায় রাখতে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

রবিবার বিকালে চাঁদপুর সরকারি স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন শেখ হাসিনা। গত ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর ধারাবাহিক জনসভার অংশ হিসেবে এই সমাবেশ করা হয়।

দুপুরের পর জনসভা শুরু জলেও সকাল থেকে ঢাক-ঢোলের তালের নৃত্যে মেতে ওঠে চাঁদপুর শহর। ‘শেখ হাসিনার আগমণ, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ স্লোগানে মুখর হয় শহরের অলি-গলি পথ।

‘শেখ হাসিনার সরকার, বার বার দরকার’ স্লোগানে মিছিল নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন স্টেডিয়ামে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের সেবক। আমরা যা যা ওয়াদা দিয়েছিলাম, প্রত্যেকটা ওয়াদা রক্ষা করেছি। পাশাপাশি তার চেয়ে বেশি কাজ করেছি।’

সরকারের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিনা পয়সায় পাঠ্যব বিতরণ, শিক্ষা বৃত্তির, এক কোটি ৩০ লাখ মায়ের মোবাইল ফোনে ফোনে বৃত্তির টাকা পৌঁছে দেয়া, তথ্য প্রযুক্তির বিস্তারের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বলেছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব, সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ গড়ে তুলেছি। কর্মসংস্থার সৃষ্টি করা, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সমগ্র বাংলাদেশে ইন্টারনেট সার্ভিস করেছি। এখন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করছি, জেলায় জেলায় আইটি পার্ক করে দিচ্ছি।’

গত এক বছরেই বিদেশে ১০ লাখ মানুষের চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বাংলাদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে।

বেকারদের ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য অর্থায়ন করতে কর্মসংস্থান ব্যাংক করা, শ্রমিকদেরকে যেন জমি বিক্রি করে বিদেশে যেতে না হয়, সে জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করা, বর্গাচাষিদেরকে বিনা জামানতে ঋণ দেয়া, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রাম এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা দেয়া, সব হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধি, বয়স্ক, মহিলা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা চালু, দুই কোটি কৃষককে কৃষি উপকরণ কার্ড দেয়া, মাছ ধরা নিষিদ্ধের সময় মৎস্যজীবীদের সহায়তা, খাঁচায় মাছ চাষের প্রশিক্ষণসহ নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে মেয়ে, নাতি নাতনিদের চাকরির জন্য কোটার সুযোগ রাখার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এই মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন যুদ্ধ করে। অনেকে জীবন দিয়েছে, অনেকে পঙ্গু হয়ে আছেন, তাদের সম্মান করা। তাদের পরিবারকে সম্মান করা-এটা আমাদের কর্তব্য বলে মনে করেছি, তাই সম্মান করেছি।’

চাঁদপুরের উন্নয়নে কিছু দাবি করতে হবে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। জেলায় একটি মেডিকেল কলেজসহ নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

‘কেউ কুঁড়েঘরে থাকবে না, দরিদ্র থাকবে না’

একটা পরিবারও যেন দরিদ্র্য না থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প নেয়ার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে একটা মানুষও গৃহহারা থাকবে না।’ ‘যাদের জমি নাই, ভিটামাটি নাই, তাদেরকে আমরা ঘর করে দেব আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে। কুড়েঘরে কেউ বাস করবে না। নিদেনপক্ষে একটা টিনের ঘর আমরা দেব।’

‘কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না, প্রতি ঘরে আমরা আলো জ্বালব।’ ‘যেখানে বিদ্যুৎ লাইন নাই, সেখানে সোলার প্যানেল দিয়ে বিদ্যুৎ দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। আজকে ৯০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না আমার দেশের মানুষ ভিক্ষা করে চলুক। আমরা প্রত্যেকটা জেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রত্যেকটা মানুষ ভালোভাবে বাঁচবে। কারও কাছে হাত পেতে নয়।’

‘ঠিক সেভাবে বিশ্বে বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা মাথা উঁচু করে চলব। মাথা নত করে না, কারও কাছে হাত পেতে না, ভিক্ষা করে না। সে নীতি নিয়েই আমরা দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছি।’

২০০১ সালে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় ক্ষমতায় আসতে দেয়া হয়নি বলেও জানান শেখ হাসিনা। বলেন, আমেরিকার কোম্পানি ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রি করবে বলে মুচলেকা দিয়ে সে সময় খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেছিলেন। তবে গ্যাস তিনি বেচতে পারেননি।

নৌকায় ভোট দিয়ে জনগণে খালি হাতে ফেরে না

নৌকায় ভোট দিলে মানুষ সব সময় লাভবান হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ‘নৌকায় ভোট দিয়েই এ দেশের মানুষ মাতৃভাষায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়েই দেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। আর নৌকা যখন ক্ষমতায় আসে তখন উন্নয়ন হয়। আমরা উন্নয়নে বিশ্বাস করি।’

‘সে উন্নয়ন গ্রাম পর্যায় থেকে, সে উন্নয়ন সাধারণ মানুষের উন্নয়ন।’

‘আমরা দেশে শান্তি চাই, ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া শিখবে, সুপথে চলবে, মানুষের মতো মানুষ হবে।’

সরকারের ধারাবাহিকতায় গুরুত্বারোপ

২০০৮ সালের জন ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জেতায় জনগণ এখন উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। আর এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইলে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও এই মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ধারাবাহিকতা না থাকলে কী হয়, সেটিও স্মরণ করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। জানান ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের সময় দেশে বিদ্যুৎ ছিল ১৬০০ মেগাওয়াট। পাঁচ বছর পর সেটি ৪৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করেন। কিন্তু ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে না পারায় সেটা আর বাড়েনি, বরং কমে যায়।

বিএনপি জামায়াতের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা জাতির পিতার খুনিদেরকে পুরষ্কৃত করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেয়, ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসায়, যারা যুদ্ধাপরাধীদের হাতে লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা তুলে দেয়, তারা এ দেশের মানুষের উন্নয়নে বিশ্বাস করে না। এরা অতীতেও করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।’

বিএনপি-খালেদাকে ধিক্কার

স্বাধীনতাবিরোধীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিয়ে আসা, বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে বিদেশি দূতাবাসে চাকরি নিয়ে পুরষ্কৃত করারও সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

‘আমি ধিক্কার জানাই বিএনপি এবং খালেদা জিয়াকে। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যাদের ফাঁসি হয়েছে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু থাকতে পারে না।’

‘তবে ওদের লজ্জা শরম একটু কম। এ জন্যই বলব, ওরা তো স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, বাংলাদেশের সৃষ্টিতেই বিশ্বাস করে না।’

বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণকে ‘নিষিদ্ধ’ করার প্রসঙ্গটি তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সত্যকে কখনও মিথ্যা দিয়ে চাপা দেয়া যায় না। এটা বিএনপি জামায়াতের নেতা-কর্মীদের শিক্ষা নেয়া উচিত, জানা উচিত।’

কী উন্নতিটা করেছে বিএনপি?

৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় আসা জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদই আর খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে তো ওরা উন্নত করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

বলেন, ‘আপনার চাঁদপুরের অবস্থাই দেখেন, কী উন্নতিটা করেছে?’’

‘চাঁদপুরে নদী ভাঙন থেকে শুরু করে নানা সমস্যা ছিল। এমনকি ব্রিজ-সবগুলো আওয়ামী লীগের করে দেয়া। আওয়ামী লীগ আসলে করে, নৌকায় ভোট দিলেই করে। আর ওরা করে লুটপাট, দুর্নীতি, মানুষ পোড়ানো।’

‘হ্যাঁ, একটাই উন্নতি তারা করেছে, সেটা হচ্ছে দুর্নীতির উন্নতি। তারা বাংলাদেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। বাংলাদেশের মাথা হেট করেছে বিশ্বের বুকে।’

‘নিজেরা লুটপাট করেছে, টাকা পাচার করেছে বিদেশে। এটা আমার কথা না, খালেদা জিয়ার বড় ছেলের টাকা ধরা পড়েছে, ছোট ছেলের টাকা ধরা পড়েছে। ঘুষ নিয়েছে, ধরা পড়েছে।’

খালেদা জিয়ার সাজা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এতিমখানার জন্য আসা টাকা এতিমদের হাতে না দিয়ে তারা রেখে দিয়েছে।

‘কেয়ারটেকার সরকারের সময় মামলা করেছে। আজকে সে এতিমের টাকা চুরির দায়ে সাজা ভোট করছেন খালেদা জিয়া। আজকে তার জন্য নাকি আন্দোলন!’।

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ তাকে হত্যার নানা চেষ্টার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল: মির্জা ফখরুল

অঙ্গীকারের চেয়ে বেশি কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তার চেয়ে বেশি কাজ করার দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নের এই ধারা বজায় রাখতে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

রবিবার বিকালে চাঁদপুর সরকারি স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন শেখ হাসিনা। গত ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর ধারাবাহিক জনসভার অংশ হিসেবে এই সমাবেশ করা হয়।

দুপুরের পর জনসভা শুরু জলেও সকাল থেকে ঢাক-ঢোলের তালের নৃত্যে মেতে ওঠে চাঁদপুর শহর। ‘শেখ হাসিনার আগমণ, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ স্লোগানে মুখর হয় শহরের অলি-গলি পথ।

‘শেখ হাসিনার সরকার, বার বার দরকার’ স্লোগানে মিছিল নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন স্টেডিয়ামে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের সেবক। আমরা যা যা ওয়াদা দিয়েছিলাম, প্রত্যেকটা ওয়াদা রক্ষা করেছি। পাশাপাশি তার চেয়ে বেশি কাজ করেছি।’

সরকারের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিনা পয়সায় পাঠ্যব বিতরণ, শিক্ষা বৃত্তির, এক কোটি ৩০ লাখ মায়ের মোবাইল ফোনে ফোনে বৃত্তির টাকা পৌঁছে দেয়া, তথ্য প্রযুক্তির বিস্তারের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বলেছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব, সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ গড়ে তুলেছি। কর্মসংস্থার সৃষ্টি করা, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সমগ্র বাংলাদেশে ইন্টারনেট সার্ভিস করেছি। এখন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করছি, জেলায় জেলায় আইটি পার্ক করে দিচ্ছি।’

গত এক বছরেই বিদেশে ১০ লাখ মানুষের চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বাংলাদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে।

বেকারদের ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য অর্থায়ন করতে কর্মসংস্থান ব্যাংক করা, শ্রমিকদেরকে যেন জমি বিক্রি করে বিদেশে যেতে না হয়, সে জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করা, বর্গাচাষিদেরকে বিনা জামানতে ঋণ দেয়া, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রাম এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা দেয়া, সব হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধি, বয়স্ক, মহিলা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা চালু, দুই কোটি কৃষককে কৃষি উপকরণ কার্ড দেয়া, মাছ ধরা নিষিদ্ধের সময় মৎস্যজীবীদের সহায়তা, খাঁচায় মাছ চাষের প্রশিক্ষণসহ নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে মেয়ে, নাতি নাতনিদের চাকরির জন্য কোটার সুযোগ রাখার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এই মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন যুদ্ধ করে। অনেকে জীবন দিয়েছে, অনেকে পঙ্গু হয়ে আছেন, তাদের সম্মান করা। তাদের পরিবারকে সম্মান করা-এটা আমাদের কর্তব্য বলে মনে করেছি, তাই সম্মান করেছি।’

চাঁদপুরের উন্নয়নে কিছু দাবি করতে হবে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। জেলায় একটি মেডিকেল কলেজসহ নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

‘কেউ কুঁড়েঘরে থাকবে না, দরিদ্র থাকবে না’

একটা পরিবারও যেন দরিদ্র্য না থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প নেয়ার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে একটা মানুষও গৃহহারা থাকবে না।’ ‘যাদের জমি নাই, ভিটামাটি নাই, তাদেরকে আমরা ঘর করে দেব আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে। কুড়েঘরে কেউ বাস করবে না। নিদেনপক্ষে একটা টিনের ঘর আমরা দেব।’

‘কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না, প্রতি ঘরে আমরা আলো জ্বালব।’ ‘যেখানে বিদ্যুৎ লাইন নাই, সেখানে সোলার প্যানেল দিয়ে বিদ্যুৎ দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। আজকে ৯০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না আমার দেশের মানুষ ভিক্ষা করে চলুক। আমরা প্রত্যেকটা জেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রত্যেকটা মানুষ ভালোভাবে বাঁচবে। কারও কাছে হাত পেতে নয়।’

‘ঠিক সেভাবে বিশ্বে বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা মাথা উঁচু করে চলব। মাথা নত করে না, কারও কাছে হাত পেতে না, ভিক্ষা করে না। সে নীতি নিয়েই আমরা দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছি।’

২০০১ সালে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় ক্ষমতায় আসতে দেয়া হয়নি বলেও জানান শেখ হাসিনা। বলেন, আমেরিকার কোম্পানি ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রি করবে বলে মুচলেকা দিয়ে সে সময় খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেছিলেন। তবে গ্যাস তিনি বেচতে পারেননি।

নৌকায় ভোট দিয়ে জনগণে খালি হাতে ফেরে না

নৌকায় ভোট দিলে মানুষ সব সময় লাভবান হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ‘নৌকায় ভোট দিয়েই এ দেশের মানুষ মাতৃভাষায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়েই দেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। আর নৌকা যখন ক্ষমতায় আসে তখন উন্নয়ন হয়। আমরা উন্নয়নে বিশ্বাস করি।’

‘সে উন্নয়ন গ্রাম পর্যায় থেকে, সে উন্নয়ন সাধারণ মানুষের উন্নয়ন।’

‘আমরা দেশে শান্তি চাই, ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া শিখবে, সুপথে চলবে, মানুষের মতো মানুষ হবে।’

সরকারের ধারাবাহিকতায় গুরুত্বারোপ

২০০৮ সালের জন ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জেতায় জনগণ এখন উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। আর এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইলে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও এই মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ধারাবাহিকতা না থাকলে কী হয়, সেটিও স্মরণ করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। জানান ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের সময় দেশে বিদ্যুৎ ছিল ১৬০০ মেগাওয়াট। পাঁচ বছর পর সেটি ৪৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করেন। কিন্তু ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে না পারায় সেটা আর বাড়েনি, বরং কমে যায়।

বিএনপি জামায়াতের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা জাতির পিতার খুনিদেরকে পুরষ্কৃত করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেয়, ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসায়, যারা যুদ্ধাপরাধীদের হাতে লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা তুলে দেয়, তারা এ দেশের মানুষের উন্নয়নে বিশ্বাস করে না। এরা অতীতেও করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।’

বিএনপি-খালেদাকে ধিক্কার

স্বাধীনতাবিরোধীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিয়ে আসা, বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে বিদেশি দূতাবাসে চাকরি নিয়ে পুরষ্কৃত করারও সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

‘আমি ধিক্কার জানাই বিএনপি এবং খালেদা জিয়াকে। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যাদের ফাঁসি হয়েছে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু থাকতে পারে না।’

‘তবে ওদের লজ্জা শরম একটু কম। এ জন্যই বলব, ওরা তো স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, বাংলাদেশের সৃষ্টিতেই বিশ্বাস করে না।’

বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণকে ‘নিষিদ্ধ’ করার প্রসঙ্গটি তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সত্যকে কখনও মিথ্যা দিয়ে চাপা দেয়া যায় না। এটা বিএনপি জামায়াতের নেতা-কর্মীদের শিক্ষা নেয়া উচিত, জানা উচিত।’

কী উন্নতিটা করেছে বিএনপি?

৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় আসা জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদই আর খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে তো ওরা উন্নত করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

বলেন, ‘আপনার চাঁদপুরের অবস্থাই দেখেন, কী উন্নতিটা করেছে?’’

‘চাঁদপুরে নদী ভাঙন থেকে শুরু করে নানা সমস্যা ছিল। এমনকি ব্রিজ-সবগুলো আওয়ামী লীগের করে দেয়া। আওয়ামী লীগ আসলে করে, নৌকায় ভোট দিলেই করে। আর ওরা করে লুটপাট, দুর্নীতি, মানুষ পোড়ানো।’

‘হ্যাঁ, একটাই উন্নতি তারা করেছে, সেটা হচ্ছে দুর্নীতির উন্নতি। তারা বাংলাদেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। বাংলাদেশের মাথা হেট করেছে বিশ্বের বুকে।’

‘নিজেরা লুটপাট করেছে, টাকা পাচার করেছে বিদেশে। এটা আমার কথা না, খালেদা জিয়ার বড় ছেলের টাকা ধরা পড়েছে, ছোট ছেলের টাকা ধরা পড়েছে। ঘুষ নিয়েছে, ধরা পড়েছে।’

খালেদা জিয়ার সাজা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এতিমখানার জন্য আসা টাকা এতিমদের হাতে না দিয়ে তারা রেখে দিয়েছে।

‘কেয়ারটেকার সরকারের সময় মামলা করেছে। আজকে সে এতিমের টাকা চুরির দায়ে সাজা ভোট করছেন খালেদা জিয়া। আজকে তার জন্য নাকি আন্দোলন!’।

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ তাকে হত্যার নানা চেষ্টার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।