অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
খুলনা সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র হিসেবে মনিরুজ্জামান মনি আবার বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত বলে দাবি করছেন তার সমর্থকরা। তবে দলের আরেক নেতা শফিকুল আলম মনাও ভোটে দাঁড়াতে আগ্রহী। তিনি এবার ছাড় দিতে নারাজ।
২০১৩ সালের নির্বাচনেও মনা দলের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে মনিকে সমর্থন দিয়ে মনাকে তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট বানানো হয়।
মনা দাবি করছেন, পাঁচ বছর আগে তাকে সমর্থন না দিয়ে পরের ভোটে তার দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। সেই হিসেবে এবার তার দাবি আরও বড় হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
গত ২৬ মার্চ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন খুলনায় বর্তমান মেয়র মনিকে আবার মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তারপরও মনা প্রার্থী হতে কেন্দ্রে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।
গত নির্বাচনে প্রার্থীরা লড়েছিলেন দলীয় প্রতীক ছাড়া। তবে এবার ভোট হবে দলীয় প্রতীকে। আর আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচন হয়ে উঠেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ। শহরে ভোটের হাওয়া গ্রামেও প্রভাব ফেলে বলে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই ভোটকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
আজ ৩১ মার্চ খুলনা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা আছে। এর আগেই দুই নগরে সম্ভাব্য প্রার্থী এর তাদের সমর্থকরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
খুলনায় বর্তমান মেয়র মনি আবার মনোনয়ন পাচ্ছেন ধরে নিয়েই আগাচ্ছেন। তবে নগরে তার চেয়ে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মনার পক্ষেই প্রচার দেখা যায় বেশি। নিজের আগ্রহের জানান দিতে নগর জুড়ে পোস্টার, ব্যানারসহ নানা প্রচারপত্র ঝুলিয়েছেন তিনি।
২০১৩ সালের নির্বাচনে জয়ী মেয়র মনি আগের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের মতো অতো কাজ করতে পারেননি। এ নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে নানা কথা আছে। মনার সমর্থকরা এটাই কাজে লাগাতে চাইছেন।
বর্তমান মেয়রকে বাদ দিয়ে কেন আপনাকে মনোনয়ন দেবে-এমন প্রশ্নে বিএনপি নেতা মনা বলেন, ‘আমি তো গত নির্বাচনেই মনোনয়ন চেয়েছিলাম। তখন আমাকে বলা হয়েছিল, আমার দাবি পরের নির্বাচনে বিবেচনা করা হবে।’
‘এই আশ্বাসের পর আমি মেয়র মনির প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে তাকে জেতাতে কাজ করেছি। আমি আমার দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছি। এবার আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নিজেকেও জেতাতে পারব। এই হিসাবেও আমি মনে করি ধানের শীষ এবার আমি পাব।’
মেয়র মনি ভোটের আগে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, আধুনিক নগরায়নসহ বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে অগ্রগতি কম।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দৈনিক আকাশকে মেয়র বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েক মাস আমাকে বরখাস্ত করে রাখা হয়েছিলো। তাছাড়া বিরোধী দলের মেয়র হওয়ায় রাজনৈতিক মামলা জেলসহ নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি। যার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নগরবাসীর জন্য অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করেত পারিনি।’
‘তবে নানা প্রতিকুল পরিবেশের মধ্যে নগরবাসীর সেবা করে যাচ্ছি। আগামীতে আমি মেয়র নির্বাচিত হলে সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আপ্রান চেষ্টা করে যাব।’
বিএনপিতে মনোনয়নের লড়াই দুই জনের মধ্যে হলেও আওয়ামী লীগে প্রার্থিতা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করা তালুকদার আবদুল খালেক খুলনা নগরীকে পাল্টে দিয়েছিলেন অনেকটাই। সেই তুলনায় মেয়র মনির সাফল্য অনেক কম। তারপরও খালেক এবার ভোটে আগ্রহী নন। তিনি বাগেরহাট-৩ আসনের (রামপাল-মংলা) সংসদ সদস্য থাকতেই আগ্রহী বেশি।
খালেক তার মনোভাব জানানোর পর সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী ও নগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সরদার আনিসুর রহমান পপলু ভোটে নৌকা প্রতীক পাওয়ার চেষ্টায় আছেন। তবে এদের মধ্য থেকেই মনোনয়ন মিলবে-এটা নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
২০১৩ সালের ১৫ জুন খুলনা সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচনে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৩ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক তখন পেয়েছিলেন এক লাখ ১৯ হাজার ৪২২ ভোট।
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মনি। পরের বছরের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী খালেকের কাছে প্রায় ২৫ হাজার ভোটে হেরেছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















