ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চিকিৎসা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাপানে ৭.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প মেট্রোরেলসহ গণপরিবহনে সহযোগিতা বাড়াতে একমত বাংলাদেশ-জাপান মিরপুর কলেজের দেয়াল ধসে নিহত ২, আহত ৬ ট্রাম্পের স্ত্রীকে বিষ প্রয়োগে হত্যার পরিকল্পনা, নিশানায় ছেলেও স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্ভুল অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা চাপে পড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করবে শুভেন্দু সরকার

এক-এগারোর হিসাব নিকাশ ‘পরে’ নেবেন প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যারা গ্রেপ্তার করিয়েছিলেন, তাদের হিসাব নিকাশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এই কাজ কারা করিয়েছেন, সেটা তিনি জানেন।

সংবিধান স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারি করে ২০০৭ সালের জানুয়ারি থেকে দুই বছর দায়িত্ব পালন করা ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার সেনা সমর্থিত বলে পরিচিত হলেও ওই সরকারের আমলে বাংলাদেশের কয়েকজন সম্পাদক এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা প্রভাবশালী হয়ে উঠেন। কেউ কেউ এটা ‘আমাদের সরকার’ বলেও পরিচয় দিতেন।

ওই সরকারের মেয়াদ শেষে ফখরুদ্দীন আহমদ এবং চাকরির মেয়াদ শেষে মঈন উ আহমেদ বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান। তবে তাদের বিরুদ্ধে এবং ‘আমাদের সরকার’ দাবি করা লোকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাব-নিকাশের কথা বললেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগের স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন দলের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে নানা সময় কী কী ষড়যন্ত্র হয়েছে উল্লেখ করে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে তাকে গ্রেপ্তারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বলেন, ‘এরপর আসল এমার্জেন্সি সরকার। দেখবেন, আমাকেই আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি তো সে সময় সরকারেও ছিলাম না। কারা করিয়েছে, সেটা এখন অন্তত জানি। সে হিসাব নিকাশ পরে নেব আমরা।’

বিএনপি সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনে ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু বিএনপি তখন নির্বাচনের মাঠে ছিল।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে ভোটের ১১ দিন আগে হস্তক্ষেপ করে সেনাবাহিনী। জারি হয় জরুরি অবস্থা, স্থগিত হয় সংবিধান।

পরে বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে গঠন করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আর বিএনপি আমলে নিয়োগ পাওয়া সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদ পেছন থেকে কলকাঠি নাড়াতেন বলে ধারণা করা হয়।

ওই আমলে দুই প্রধান নেত্রী শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া-দুই জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে প্রথমে গ্রেপ্তার হক আওয়ামী লীগ সভাপতি। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ধানমন্ডিতে সুধা সদন থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। ১১ মাস পর ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি পান তিনি।

দেড় মাসেরও বেশি সময় পর ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন খালেদা জিয়া। এক বছর আট দিন পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জামিনে মুক্তি পান।

সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর বদলে শেখ হাসিনাকে আগে গ্রেপ্তার করা নিয়ে সে সময় কথা উঠেছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চিকিৎসা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

এক-এগারোর হিসাব নিকাশ ‘পরে’ নেবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:২৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যারা গ্রেপ্তার করিয়েছিলেন, তাদের হিসাব নিকাশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এই কাজ কারা করিয়েছেন, সেটা তিনি জানেন।

সংবিধান স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারি করে ২০০৭ সালের জানুয়ারি থেকে দুই বছর দায়িত্ব পালন করা ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার সেনা সমর্থিত বলে পরিচিত হলেও ওই সরকারের আমলে বাংলাদেশের কয়েকজন সম্পাদক এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা প্রভাবশালী হয়ে উঠেন। কেউ কেউ এটা ‘আমাদের সরকার’ বলেও পরিচয় দিতেন।

ওই সরকারের মেয়াদ শেষে ফখরুদ্দীন আহমদ এবং চাকরির মেয়াদ শেষে মঈন উ আহমেদ বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান। তবে তাদের বিরুদ্ধে এবং ‘আমাদের সরকার’ দাবি করা লোকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাব-নিকাশের কথা বললেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগের স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন দলের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে নানা সময় কী কী ষড়যন্ত্র হয়েছে উল্লেখ করে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে তাকে গ্রেপ্তারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বলেন, ‘এরপর আসল এমার্জেন্সি সরকার। দেখবেন, আমাকেই আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি তো সে সময় সরকারেও ছিলাম না। কারা করিয়েছে, সেটা এখন অন্তত জানি। সে হিসাব নিকাশ পরে নেব আমরা।’

বিএনপি সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনে ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু বিএনপি তখন নির্বাচনের মাঠে ছিল।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে ভোটের ১১ দিন আগে হস্তক্ষেপ করে সেনাবাহিনী। জারি হয় জরুরি অবস্থা, স্থগিত হয় সংবিধান।

পরে বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে গঠন করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আর বিএনপি আমলে নিয়োগ পাওয়া সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদ পেছন থেকে কলকাঠি নাড়াতেন বলে ধারণা করা হয়।

ওই আমলে দুই প্রধান নেত্রী শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া-দুই জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে প্রথমে গ্রেপ্তার হক আওয়ামী লীগ সভাপতি। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ধানমন্ডিতে সুধা সদন থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। ১১ মাস পর ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি পান তিনি।

দেড় মাসেরও বেশি সময় পর ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন খালেদা জিয়া। এক বছর আট দিন পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জামিনে মুক্তি পান।

সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর বদলে শেখ হাসিনাকে আগে গ্রেপ্তার করা নিয়ে সে সময় কথা উঠেছিল।