অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
স্ত্রী ও ভাইয়ের পরিবারসহ পাঁচজন মিলে নেপালে যাচ্ছিলেন মেহেদি হাসান। কিন্তু ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিজে প্রাণে বেঁচে গেলেও নিজের ভাই ও ভাতিজি চলে গেছেন পরপারে।
বলছিলাম গত ১২মার্চ নেপালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান দুর্ঘটনায় হতাহত ২৬ বাংলাদেশিসহ ৪৩জন যাত্রীর কথা। আহতদের মধ্যে একজন হলেন মেহেদি হাসান। নেপাল থেকে তাকে বাংলাদেশে এনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
সোমবার স্বজনদের জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মেহেদি এসেছিলেন বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে। এখনো হাতে রয়েছে, স্যালাইন দেওয়ার ক্যানোলা, ঘাড়ে রয়েছে আলাদা সাপোর্ট।
নিহতদের মরদেহগুলো যখন শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে আর্মি স্টেডিয়ামে আনা হয় তখন স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। শারীরিক এমন অবস্থায়ও হাসপাতালে শুয়ে থাকতে পারেননি এই যুবক। মনের টানে ছুটে এসেছেন স্বজনদের শেষ বিদায় জানাতে। সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভাই আর বাবুটাকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছি।’
গত সোমবার ইউএস-বাংলার বিএস-২১১ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন ৪৯ জন। ওই বিমানে ছিলেন- মেহেদি হাসান, তার স্ত্রী সৈয়দ কামরুন্নাহার স্বর্ণা, ভাই ফারুক হোসেন প্রিয়ক, ভাইয়ের স্ত্রী আলামুন নাহার অ্যানি ও ভাইয়ের ছোট্ট মেয়ে তামারা প্রিয়ন্ময়ী। দুর্ঘটনায় নিহত হন, প্রিয়ক ও তার মেয়ে প্রিয়ন্ময়ী। আহত হন বাকিরা।
নেপালে চিকিৎসার পর দেশে এসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারা।
আর্মি স্টেডিয়ামে বসে বসে গায়ে থাকা চাদর দিয়ে বারবার মুখ ঢেকে কাঁদছিলেন মেহেদি। বলেন, উড়োজাহাজের পেছনের দিকের পাঁচটি আসনে পাশাপাশি বসেছিলেন সবাই। মেহেদি বসেছিলেন জানালার পাশে। বিধ্বস্ত হওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে অবতরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। সবাইকে সিট বেল্ট বাঁধতে বলা হয়। সবাই সিট বেল্ট বাঁধেন। ঘোষণা দেওয়ার পরপরই মেহেদি জানালা দিয়ে দেখেন ল্যান্ডিং গিয়ার বের হয়েছে। উড়োজাহাজটি অনেক নিচু দিয়েই উড়ছিল বেশ কয়েক মিনিট ধরে। সবই স্বাভাবিক ছিল। প্রথমে ভূমি স্পর্শ করে ছিটকে পড়ে উড়োজাহাজটি। ভেঙে যায়। মেহেদি ও তাঁর স্ত্রী সামনের ভাঙা অংশ দিয়ে নামতে পারেন। মেহেদি নেমেই নিচে কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে উদ্ধারকারীরা এসে তাদের নিয়ে যান।
জানাজা শেষে আবারও হাসপাতালে চলে যান মেহেদি হাসান।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















