ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

যথাযথ সরঞ্জাম পেলে অনেক যাত্রীরই জীবন বাঁচানো যেত

কাঠমান্ডুতে দুর্ঘটনা কবলিত ইউএস বাংলার বিমান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যথাযথ উদ্ধার সরঞ্জাম প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ছিল।

বিমান দুর্ঘটনা পরবর্তী উদ্ধার কাজে নিয়োজিত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সূত্রকে উদ্ধৃত করে নেপালের দৈনিক হিমালয়ান টাইমস বলছে, যথাযথ সরঞ্জাম পাওয়া গেলে অনেক যাত্রীরই জীবন বাঁচানো যেত।

বিমান দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে জড়িত এক দমকল কর্মী পত্রিকাটিকে বলেন, দুর্ঘটনার পর ২২জনকে বিমানের এমন জায়গা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, বিমানের যেদিকটাই তখনো আগুন ধরেনি। যেদিকটাই আগুন লাগে সেদিকে যাওয়ার মতো উপযুক্ত সরঞ্জাম তাদের ছিলই না। এমনকি অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি আগুন নির্বাপনের পোশাক না থাকায় আধা ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করে থাকতে হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের নিয়মনুযায়ী যে কোনো বিমান দুর্ঘটনার তিন মিনিটের মধ্যে যথাযথ সরঞ্জাম সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক। ত্রিভুবনে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনার পর যেটা পরিলক্ষিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত কাজে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বরাতে হিমালয়ান টাইমস বলছে, এ দুর্ঘটনায় নিহত ৫১ জনের মধ্যে বেশিরভাগই নিহত হয়েছেন বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে। অন্যদিকে এক উদ্ধারকারী বলেন, তাদেরকেই বাঁচানো সম্ভব হয়েছে, যারা ভাগ্যক্রমে আগুন থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

নেপালের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (সিএএএন) কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, উদ্ধারকারীদের জন্য শুধু অগ্নিনির্বাপক পোশাক (স্যুট) ইস্যু করা হয়েছে, যা ওইদিনের দুর্ঘটনার জন্য যথেষ্ট ছিল না। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেন, বিমানের যেখানে আগুন ছিল, সেখানে যাওয়ার মতো পোশাক ও সরঞ্জাম ছিল না। থাকলে উদ্ধারকারীরা আরো মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে পারতো।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ২৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহরিন আহমেদকে উদ্ধৃত করে হিমালয়ান টাইমস বলছে, তিনি (শাহরিন) দেখেছেন- অন্য যাত্রীরা পুড়ছে, চিৎকার করছে এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাজ্যে মানব পাচারকারী চক্রের ২১ সদস্যের কারাদণ্ড

যথাযথ সরঞ্জাম পেলে অনেক যাত্রীরই জীবন বাঁচানো যেত

আপডেট সময় ০৫:৫৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যথাযথ উদ্ধার সরঞ্জাম প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ছিল।

বিমান দুর্ঘটনা পরবর্তী উদ্ধার কাজে নিয়োজিত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সূত্রকে উদ্ধৃত করে নেপালের দৈনিক হিমালয়ান টাইমস বলছে, যথাযথ সরঞ্জাম পাওয়া গেলে অনেক যাত্রীরই জীবন বাঁচানো যেত।

বিমান দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে জড়িত এক দমকল কর্মী পত্রিকাটিকে বলেন, দুর্ঘটনার পর ২২জনকে বিমানের এমন জায়গা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, বিমানের যেদিকটাই তখনো আগুন ধরেনি। যেদিকটাই আগুন লাগে সেদিকে যাওয়ার মতো উপযুক্ত সরঞ্জাম তাদের ছিলই না। এমনকি অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি আগুন নির্বাপনের পোশাক না থাকায় আধা ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করে থাকতে হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের নিয়মনুযায়ী যে কোনো বিমান দুর্ঘটনার তিন মিনিটের মধ্যে যথাযথ সরঞ্জাম সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক। ত্রিভুবনে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনার পর যেটা পরিলক্ষিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত কাজে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বরাতে হিমালয়ান টাইমস বলছে, এ দুর্ঘটনায় নিহত ৫১ জনের মধ্যে বেশিরভাগই নিহত হয়েছেন বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে। অন্যদিকে এক উদ্ধারকারী বলেন, তাদেরকেই বাঁচানো সম্ভব হয়েছে, যারা ভাগ্যক্রমে আগুন থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

নেপালের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (সিএএএন) কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, উদ্ধারকারীদের জন্য শুধু অগ্নিনির্বাপক পোশাক (স্যুট) ইস্যু করা হয়েছে, যা ওইদিনের দুর্ঘটনার জন্য যথেষ্ট ছিল না। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেন, বিমানের যেখানে আগুন ছিল, সেখানে যাওয়ার মতো পোশাক ও সরঞ্জাম ছিল না। থাকলে উদ্ধারকারীরা আরো মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে পারতো।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ২৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহরিন আহমেদকে উদ্ধৃত করে হিমালয়ান টাইমস বলছে, তিনি (শাহরিন) দেখেছেন- অন্য যাত্রীরা পুড়ছে, চিৎকার করছে এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।