অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিএনপির হাজার হাজার কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিতে চায় বলে ওবায়দুল কাদের যে দাবি করেছেন, সেই বক্তব্যকে ‘রাবিশ, রাবিশ’ বলে উড়িয়ে দিয়ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার মানিকগঞ্জ সফরে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রতিক্রিয়া দেন বিএনপি মহাসচিব।
দলটির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঘিওর উপজেলার জোঁকা এলাকায় তার কবরে শ্রদ্ধা জানান ফখরুল। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
একই দিন সকালে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেন বিএনপির হাজারো কর্মী আওয়ামী লীগে আসতে চায়। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় এই যোগদান ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে।
কাদের বলেন, ‘সারা বাংলায় আমাদের নেতারা, জনপ্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন যে, ওমুক জায়গায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা যোগ দিতে চায়। আজকে বিএনপির হাজার হাজার কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় আছে।’
‘এমনকি আগে যারা বিএনপি সমর্থন করত, কর্মী-সমর্থকেরাও আজকে বিএনপি ছেড়ে যাচ্ছে।’ জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
কাদেরের এই বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মির্জা ফখরুল ‘রাবিশ, রাবিশ’- বলে তার প্রতিক্রিয়া জানান। এর বাইরে তিনি আর কিছু বলেননি।
কোনো ব্যক্তি বা বিষয়ে বিরক্ত হলে ‘রাবিশ’ বলতে পছন্দ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ নিয়ে গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা টিপ্পনীও কাটা হয়েছে বিভিন্ন সময়। অর্থমন্ত্রীর ‘রাবিশ’ নিয়ে টিপ্পনী কেটেছেন মির্জা ফখরুলও। এবার তার এই শব্দের ব্যবহারে মানিকগঞ্জে উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা হাসতে থাকেন।
এর আগে ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানো এবং দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করাই নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য।’
সকালে রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দল অংশ নেবে। আর সে নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত।
তবে বিএনপি নির্বাচনে আসবেন, এমন কিছু বলেননি মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে গণতন্ত্র নেই, মানুষের অধিকার নেই, মানবাধিকার নেই। এ বিষয়গুলো এড়িয়ে নির্বাচন করলেই গণতন্ত্র হবে না। যে নির্বাচনের প্রতি সাধারন মানুষের সমর্থন থাকবে না, সেই নির্বাচনে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা তা ভেবে দেখতে হবে।’
এর আগে বিএনপির প্রয়াত মহাসচিবের প্রশংসা করে বর্তমান মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি ও দেশের সংকটময় মহূর্তে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের হাল ধরেছিলেন। তখনও বর্তমান সময়ের মত দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও হয়রানিমূরক মামলা দিয়ে অবৈধ ভাবে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ে খন্দকার দেলোয়ার বিএনপির হাল ধরে দলকে সুসংগঠিত রেখেছিলেন।’
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জরুরি অবস্থা চলাকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন খোন্দকার দেলোয়ার। ২০০৯ সালে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে মহাসচিব করে বিএনপি। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খোন্দকার দেলোয়ার।
বিএনপির প্রয়াত মহাসচিবকে শ্রদ্ধা জানানোর এই আয়োজনে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা ইকবাল মাহমুদ টুকু, এ জেড এম জাহিদসহ জেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।
নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বে মানিকগঞ্জ বিএনপি বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে একটি অংশ খোন্দকার দেলোয়ারকে শ্রদ্ধার এই আয়োজন বর্জন করে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















