ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই থেকে পুরোদমে শুরু ফ্যামিলি-কৃষক-ইমাম কার্ড কর্মসূচি : আইনমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড বিশাল জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত করতে পারেন শিক্ষকেরাই : শিক্ষামন্ত্রী বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশিক রুবাইয়াতের পদত্যাগ যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালাল ইসরায়েল মেসির গোলে বাংলাদেশের উৎসব পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমে অবরোধ ভেঙে হরমুজ ছাড়ল ইরানি জাহাজ, তেলের দাম কমল ইউরোপে পোশাক রপ্তানির আয় তিন মাসে কমেছে ২০ শতাংশ

দুই বাংলা এক হবে: পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কাঁটাতারের বেড়া দুই বাংলার বন্ধনকে আটকাতে পারবে না উল্লেখ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছেন, ২০ বছরের মধ্যে গোটা বাংলা এক হয়ে যাবে।

বুধবার সকালে বেনাপোল জিরো পয়েন্টে আয়োজিত ভাষাপ্রেমীদের মিলনমেলায় তিনি একথা বলেন। বেনাপোল পৌরসভা আর পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ পৌরসভা যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে সকাল থেকে গান, আবৃত্তি আর দুই বাংলার কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-রাজনীতিবিদ ও সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে জিরো পয়েন্ট।

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলির সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য বলেন, আজ দুই বাংলা একত্রে বাঙালির অর্জনকে উপলক্ষ করে মিলিত হয়েছে। এটা খুবই গর্বের বিষয়। দুই দেশের সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মৈত্রীতে এটা অনুপ্রেরণা যোগাবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁটাতারের বিভেদ ভুলে ভাষাপ্রেমীরা মিলেছে শূণ্যরেখায়। দুই বাংলার মানুষের অংশগ্রহণে সীমান্তের ‘জিরো পয়েন্ট’ পরিণত হয়েছে প্রাণের মেলায়। ‘বাংলা আমার মায়ের ভাষা, বাংলা আমার প্রানের ভাষা’- এই সুরই যেন প্রাণে বেজে জলছিল সকলের। কয়েক ঘণ্টার জন্য উধাও হয়ে যায় সীমান্তের কাঁটাতার। দুই পারের মানুষ মিলিত হয় পরষ্পরের কুশল বিনিময়ে। জমে ওঠে প্রানখোলা আড্ডা ও স্মৃতিচারণ।

এ উপলক্ষে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের রপ্তানি টার্মিনালে তৈরি করা হয় একটি মঞ্চ। আর বেনাপোল জিরো পয়েন্টে তৈরি করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চ’। দুই দেশের শিল্পীরা সেই মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

জিরো পয়েন্ট অস্থায়ী ভাবে নির্মিত শহীদ বেদিতে সকাল ৯ টায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এ সময় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রী শ্রী বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলির সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল হক, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানসহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিল্পী ফাতেমাতুজ্জোহরা, কিরণ চন্দ্র রায় এবং ভারতের শিল্পী অনুপম রায় সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া আবৃত্তি করেন ভারতের লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশের অভিনেতা ও আবৃত্তিকার জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য ‘ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা-পদ্মা ভাষা ও মৈত্রী সমিতি’ ২০০২ সালে প্রথমবার এই মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। এবার ষোল বছরে এসে পড়েছে এই মেলা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই থেকে পুরোদমে শুরু ফ্যামিলি-কৃষক-ইমাম কার্ড কর্মসূচি : আইনমন্ত্রী

দুই বাংলা এক হবে: পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:২০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কাঁটাতারের বেড়া দুই বাংলার বন্ধনকে আটকাতে পারবে না উল্লেখ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছেন, ২০ বছরের মধ্যে গোটা বাংলা এক হয়ে যাবে।

বুধবার সকালে বেনাপোল জিরো পয়েন্টে আয়োজিত ভাষাপ্রেমীদের মিলনমেলায় তিনি একথা বলেন। বেনাপোল পৌরসভা আর পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ পৌরসভা যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে সকাল থেকে গান, আবৃত্তি আর দুই বাংলার কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-রাজনীতিবিদ ও সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে জিরো পয়েন্ট।

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলির সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য বলেন, আজ দুই বাংলা একত্রে বাঙালির অর্জনকে উপলক্ষ করে মিলিত হয়েছে। এটা খুবই গর্বের বিষয়। দুই দেশের সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মৈত্রীতে এটা অনুপ্রেরণা যোগাবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁটাতারের বিভেদ ভুলে ভাষাপ্রেমীরা মিলেছে শূণ্যরেখায়। দুই বাংলার মানুষের অংশগ্রহণে সীমান্তের ‘জিরো পয়েন্ট’ পরিণত হয়েছে প্রাণের মেলায়। ‘বাংলা আমার মায়ের ভাষা, বাংলা আমার প্রানের ভাষা’- এই সুরই যেন প্রাণে বেজে জলছিল সকলের। কয়েক ঘণ্টার জন্য উধাও হয়ে যায় সীমান্তের কাঁটাতার। দুই পারের মানুষ মিলিত হয় পরষ্পরের কুশল বিনিময়ে। জমে ওঠে প্রানখোলা আড্ডা ও স্মৃতিচারণ।

এ উপলক্ষে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের রপ্তানি টার্মিনালে তৈরি করা হয় একটি মঞ্চ। আর বেনাপোল জিরো পয়েন্টে তৈরি করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চ’। দুই দেশের শিল্পীরা সেই মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

জিরো পয়েন্ট অস্থায়ী ভাবে নির্মিত শহীদ বেদিতে সকাল ৯ টায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এ সময় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রী শ্রী বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলির সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল হক, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানসহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিল্পী ফাতেমাতুজ্জোহরা, কিরণ চন্দ্র রায় এবং ভারতের শিল্পী অনুপম রায় সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া আবৃত্তি করেন ভারতের লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশের অভিনেতা ও আবৃত্তিকার জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য ‘ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা-পদ্মা ভাষা ও মৈত্রী সমিতি’ ২০০২ সালে প্রথমবার এই মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। এবার ষোল বছরে এসে পড়েছে এই মেলা।