ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী ‘শিক্ষকরা কোনো দলের নেতা নন, রাজনীতি করলে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন’:কায়সার কামাল দেশে তেলের সংকট নেই, কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে: মির্জা ফখরুল টিকা সংকটে হামের উচ্চ ঝুঁকিতে দেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ

সাংবাদিকদের এড়িয়ে গেলেন শিক্ষামন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘উচ্চ পর্যায়ের’ বৈঠক। দীর্ঘ বৈঠকে ছয়টি লিখিত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। কী করা যায়, এ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিলেন স্বরাষ্ট্র ও আইসিটি মন্ত্রী এবং ছয়জন সচিব। সাধারণত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই ধরনের বৈঠকের পর কথা বলেন মন্ত্রী নিজে। কিন্তু আজ তার মুখ থেকে একটি কথাও বের করা গেল না।

মঙ্গলবার বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রীর বক্তব্য নিতে উন্মুখ হয়েছিলেন গণমাধ্যম কর্মীরা। কিন্তু সবার অনুরোধ পায়ে ঠেলে মন্ত্রী চলে যান তার কক্ষে। পরে শিক্ষাসচিব মন্ত্রীর কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিকাল সাড়ে তিনটায় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকটি শুরু হয়। দুই ঘণ্টা চলে রুদ্ধদ্বার এই বৈঠক। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার উপস্থিতও ছিলেন।

বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বৈঠক শেষ হলে প্রথমে বের হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তিনি কীভাবে বের হয়ে যান সেটি টের পাননি সাংবাদিকরা। এরপর বের হন আইসিটি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। তিনি বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরেন।

আইসিটি মন্ত্রী প্রথমে কিছু বলতে রাজি না হলেও পীড়াপীড়িতে তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করার আমরা সেটা করব। সে বিষয়টিই আমি বৈঠকে জানিয়েছি।’ এটুকু বলেই তিনি ঠেলে বের হয়ে যান।

এরপর বের হন শিক্ষামন্ত্রী। তাকেও সাংবাদিকরা ঘিরে ধরেন। কিন্তু তিনি সাংবাদিকদের ঠেলে চলে যেতে থাকেন। বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না।’

এরপর মন্ত্রী তার দপ্তরের প্রধান দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে দরজা তালাবদ্ধ করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিক্ষাসচিব মন্ত্রীর দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

সাধারণত শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন বিষয় সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন। তার আজকের মনোভাব সাংবাদিকদেরকে অনেকটাই হতবাক করেছে।

চলমান এসএসসি পরীক্ষা শুরুর এক সপ্তাহ আগে গত ২৫ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে ব্রিফিং করেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষার প্রথম দিন রাজধানীর একটি কেন্দ্র পরিদর্শনে যান তিনি।

পরীক্ষার শুরু থেকেই প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে গণমাধ্যম খবর আসতে থাকলে শুরুর দিকে মন্ত্রী দৈনিক আকাশসহ কিছু গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু ইদানীং তিনি ব্যক্তিগতভাবেও কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন না।

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু মন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন। আর তিনি নিজে থেকে সরে না গেলে তাকে বরখাস্ত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

একই দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের প্রস্তাব দেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তাকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন।

অবশ্য এখনও শিক্ষামন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯ ফেব্রুয়ারির সংবাদ সম্মেলনে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, মন্ত্রী তো প্রশ্ন ফাঁস করে না, তাকে কেন সরে যেতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই মিডিয়ার সামনে কথা বলছেন না। এ বিষয়ে উপর থেকে তার উপর কোনো নির্দেশনা থাকতে পারে। যে কারণে তিনি গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাংবাদিকদের এড়িয়ে গেলেন শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:১০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘উচ্চ পর্যায়ের’ বৈঠক। দীর্ঘ বৈঠকে ছয়টি লিখিত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। কী করা যায়, এ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিলেন স্বরাষ্ট্র ও আইসিটি মন্ত্রী এবং ছয়জন সচিব। সাধারণত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই ধরনের বৈঠকের পর কথা বলেন মন্ত্রী নিজে। কিন্তু আজ তার মুখ থেকে একটি কথাও বের করা গেল না।

মঙ্গলবার বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রীর বক্তব্য নিতে উন্মুখ হয়েছিলেন গণমাধ্যম কর্মীরা। কিন্তু সবার অনুরোধ পায়ে ঠেলে মন্ত্রী চলে যান তার কক্ষে। পরে শিক্ষাসচিব মন্ত্রীর কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিকাল সাড়ে তিনটায় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকটি শুরু হয়। দুই ঘণ্টা চলে রুদ্ধদ্বার এই বৈঠক। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার উপস্থিতও ছিলেন।

বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বৈঠক শেষ হলে প্রথমে বের হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তিনি কীভাবে বের হয়ে যান সেটি টের পাননি সাংবাদিকরা। এরপর বের হন আইসিটি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। তিনি বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরেন।

আইসিটি মন্ত্রী প্রথমে কিছু বলতে রাজি না হলেও পীড়াপীড়িতে তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করার আমরা সেটা করব। সে বিষয়টিই আমি বৈঠকে জানিয়েছি।’ এটুকু বলেই তিনি ঠেলে বের হয়ে যান।

এরপর বের হন শিক্ষামন্ত্রী। তাকেও সাংবাদিকরা ঘিরে ধরেন। কিন্তু তিনি সাংবাদিকদের ঠেলে চলে যেতে থাকেন। বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না।’

এরপর মন্ত্রী তার দপ্তরের প্রধান দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে দরজা তালাবদ্ধ করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিক্ষাসচিব মন্ত্রীর দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

সাধারণত শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন বিষয় সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন। তার আজকের মনোভাব সাংবাদিকদেরকে অনেকটাই হতবাক করেছে।

চলমান এসএসসি পরীক্ষা শুরুর এক সপ্তাহ আগে গত ২৫ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে ব্রিফিং করেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষার প্রথম দিন রাজধানীর একটি কেন্দ্র পরিদর্শনে যান তিনি।

পরীক্ষার শুরু থেকেই প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে গণমাধ্যম খবর আসতে থাকলে শুরুর দিকে মন্ত্রী দৈনিক আকাশসহ কিছু গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু ইদানীং তিনি ব্যক্তিগতভাবেও কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন না।

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু মন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন। আর তিনি নিজে থেকে সরে না গেলে তাকে বরখাস্ত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

একই দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের প্রস্তাব দেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তাকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন।

অবশ্য এখনও শিক্ষামন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯ ফেব্রুয়ারির সংবাদ সম্মেলনে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, মন্ত্রী তো প্রশ্ন ফাঁস করে না, তাকে কেন সরে যেতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই মিডিয়ার সামনে কথা বলছেন না। এ বিষয়ে উপর থেকে তার উপর কোনো নির্দেশনা থাকতে পারে। যে কারণে তিনি গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন।