ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল: মির্জা ফখরুল ক্ষমতায় গেলে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: তারেক রহমান একটা বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হবে না : আবুল কালাম শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প আত্মসাৎ: ৩১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নতুন যে বার্তা দিল জাতিসংঘ বিশ্বকাপ খেলতে চায় বাংলাদেশও, বন্ধ হয়নি সব দরজা : বুলবুল নিউজিল্যান্ডে ভয়াবহ ভূমিধস, বহু মানুষ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান জোরদার ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিল জার্মানি তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনি জনসভা, সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসমুদ্র ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী এখনো ওত পেতে আছে : উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

খালেদা জিয়াকে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্ত করা হবে: ফখরুল

জাতীয় প্রেসক্লাবে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কারাবন্দী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্ত করা হবে। মনে রাখতে হবে একটি ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি লড়াই করছে। এই লড়াইয়ে খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সুতরাং তার মুক্তির জন্য সবাইকে রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদ করতে হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি একথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ।

সংগঠনের সভাপতি ও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডক্টর’স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন, শিক্ষক নেতা অধ্যাপক ড. আকতার হোসেন, অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, অধ্যাপক ড. খলিলুর রহমান, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, রুহুল আমিন গাজী, এমএ আজিজ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, ইলিয়াস খান, কাদের গণি চৌধুরী, ডা: একেএম আজিজুল হক, ডা: রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, শিক্ষক নেতা জাকির হোসেন, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, আব্দুল করীম, ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী প্রমূখ।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়া যেন অংশ নিতে না পারেন এজন্য চক্রান্ত চলছে।

তিনি বলেন, অবৈধ ও অনৈতিক সরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। এই নীলনকশা হচ্ছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা।

তিনি বলেন, দলমত-নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতার প্রতীক খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনতে হবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আগামী নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত করতে অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে সরকারের উদ্দেশে আহ্বানও জানান মির্জা ফখরুল।

এদিকে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির গঠনতন্ত্র নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘুম হারাম না করে তাদের নিজের চরকায় তেল দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্র নিয়ে ক্ষমতাসীনদের ঘুম নেই। বিএনপি কাকে চেয়ারম্যান করলো কি করলো না তা নিয়ে ক্ষমতাসীনদের মাথ্যাব্যাথা কেন? বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়েছেন। গঠনতন্ত্রে এই বিষয়টি আছে, চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন।’

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্র নিয়ে না ভেবে নিজের চরকায় তেল দেন। নিজেদের পার্টির অবস্থা দেখুন। ক্ষমতায় না থাকলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন সেটি চিন্তা করুন।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আলোচনা সভার আয়োজন করে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি।

এতে বক্তব্য দেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনালের (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এনপিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, জাগপার রেহেনা আক্তার প্রধান, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।

সরকার একদলীয় শাসনের দিকে যাচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এদেশের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে। পার পেয়ে যাবেন বলে এত সহজ মনে করবেন না। বিএনপির মুখ বন্ধ করতে পারবেন, কিন্তু ষোল কোটি মানুষের মুখ বন্ধ করতে পারবেন না।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘একনায়কের চেহারা’ দেখতে পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের কল্যাণে কি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার তার বক্তব্যে তা শোনা যায়নি। উল্টো একজন নেত্রী যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী তার সম্পর্কে যে বক্তব্য রাখলেন, তা কোন রাজনীতির ভাষা হতে পারেনা।’

সরকারকে অহংকার-দাম্ভিকতা পরিহার করে দেশ রক্ষায় রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল: মির্জা ফখরুল

খালেদা জিয়াকে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্ত করা হবে: ফখরুল

আপডেট সময় ০৯:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কারাবন্দী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্ত করা হবে। মনে রাখতে হবে একটি ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি লড়াই করছে। এই লড়াইয়ে খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সুতরাং তার মুক্তির জন্য সবাইকে রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদ করতে হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি একথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ।

সংগঠনের সভাপতি ও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডক্টর’স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন, শিক্ষক নেতা অধ্যাপক ড. আকতার হোসেন, অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, অধ্যাপক ড. খলিলুর রহমান, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, রুহুল আমিন গাজী, এমএ আজিজ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, ইলিয়াস খান, কাদের গণি চৌধুরী, ডা: একেএম আজিজুল হক, ডা: রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, শিক্ষক নেতা জাকির হোসেন, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, আব্দুল করীম, ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী প্রমূখ।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়া যেন অংশ নিতে না পারেন এজন্য চক্রান্ত চলছে।

তিনি বলেন, অবৈধ ও অনৈতিক সরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। এই নীলনকশা হচ্ছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা।

তিনি বলেন, দলমত-নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতার প্রতীক খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনতে হবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আগামী নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত করতে অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে সরকারের উদ্দেশে আহ্বানও জানান মির্জা ফখরুল।

এদিকে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির গঠনতন্ত্র নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘুম হারাম না করে তাদের নিজের চরকায় তেল দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্র নিয়ে ক্ষমতাসীনদের ঘুম নেই। বিএনপি কাকে চেয়ারম্যান করলো কি করলো না তা নিয়ে ক্ষমতাসীনদের মাথ্যাব্যাথা কেন? বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়েছেন। গঠনতন্ত্রে এই বিষয়টি আছে, চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন।’

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্র নিয়ে না ভেবে নিজের চরকায় তেল দেন। নিজেদের পার্টির অবস্থা দেখুন। ক্ষমতায় না থাকলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন সেটি চিন্তা করুন।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আলোচনা সভার আয়োজন করে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি।

এতে বক্তব্য দেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনালের (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এনপিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, জাগপার রেহেনা আক্তার প্রধান, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।

সরকার একদলীয় শাসনের দিকে যাচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এদেশের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে। পার পেয়ে যাবেন বলে এত সহজ মনে করবেন না। বিএনপির মুখ বন্ধ করতে পারবেন, কিন্তু ষোল কোটি মানুষের মুখ বন্ধ করতে পারবেন না।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘একনায়কের চেহারা’ দেখতে পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের কল্যাণে কি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার তার বক্তব্যে তা শোনা যায়নি। উল্টো একজন নেত্রী যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী তার সম্পর্কে যে বক্তব্য রাখলেন, তা কোন রাজনীতির ভাষা হতে পারেনা।’

সরকারকে অহংকার-দাম্ভিকতা পরিহার করে দেশ রক্ষায় রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।