ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধে গেছে ৪৪৯ কোটি ডলার ধামরাইয়ে স্বামীর মারধরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার জুলাই গণহত্যায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে সতর্কতার নির্দেশ প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী শহীদুল্লাহ হলে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ তদন্তকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ পাকিস্তানে ‘শান্তি সমাবেশ’ চলাকালে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩ ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম ‘জনগণকে মালিক মনে করে সরকার কাজ করছে’ ‘নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না’

চালের দাম বৃদ্ধিতে সিন্ডিকেট, মিডিয়াও দায়ী: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চালের দাম বৃদ্ধির জন্য মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের পাশাপাশি মিডিয়ার ‘অতি প্রচারকেও’ দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দাবি, গণমাধ্যমে অতিরিক্ত প্রচার হতে থাকলে ব্যবসায়ীরা উৎসাহী হয়ে বাড়তি লাভের জন্য দাম আরও বাড়িয়ে দেয়।

সোমবার গণভবনে করা সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘চালের দাম বাড়ানোতে যেমন সিন্ডিকেট আছে, আবার আপনারা মিডিয়া বেশি প্রচার করে আরও বাড়ান দাম। এটা হলো বাস্তবতা।’

‘একটু যদি বাড়ে এমন প্রচার শুরু করেন, তখন যারা ব্যবসা করছে তখন ভাবে যে আমি একটু বাড়িয়ে দেই। আরেকটু পয়সা কামাই করে নেই।’

গত বছর বোরো মৌসুমে অকাল বন্যায় হাওরে ফসলহানি এবং পরে দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার পর চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এক পর্ায়ে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা এবং চিকন চালের দাম ৭০ টাকা ছড়ায়। এরপর সরকার চাল আমদানির পাশাপাশি বেসরকারি খাতে আমদানিকে উৎসাহ করতে শুল্ক তুলে নেয়। আর বাজারে সরবরাহ বাড়ার পর দাম কিছুটা কমে আসে। তবে গত বছর একই সময়ের তুলনায় এখনও চালের দাম ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ বেশি।

চালের দাম কমাতে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে- এমন প্রশ্ন ছিল সরকার প্রধানের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘একটা হচ্ছে কিছুটা দাম বাড়ানো হয়েছে কৃষকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। কৃষকরা তার উৎপাদিত পণ্যের মূল্যটাও পায়, তারা যেন ভালো থাকে, সে জন্য দাম কিছু সরকার বৃদ্ধি করেছে।’

‘আর কিছুটা দাম সিন্ডিকেট করেও বাড়ানো হয়েছে, সেখানে কোনো সন্দেহ নাই।’

নিম্ন আয়ের মানুষরা যেন কষ্ট না পায়, সে জন্য কার্ড করে ৫০ লক্ষ পরিবারকে ১০ টাকায় চাল বিতরণ, ভিজিএফ, ভিজিডির মাধ্যমে খাবার দেয়া, ওএমএস চালুর কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘এতদিন আমরা কাজের বিনিময়ে টাকা দিতাম, এবার আমি সেটা পরিবর্তন করে দিয়েছি, কাজের বিনিময়ে খাদ্য দেবো। খাদ্যটা দিলে সেটা গ্রামে চলে যাবে। গ্রামে চলে গেলে পরে ওটা তো বিক্রি করতেই হবে। সেটা তখন মার্কেটে চলে যাবে। মার্কেটে চলে গেলে মার্কেটটা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। সেভাবে আমরা কিছু কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি।’

চালের দাম বৃদ্ধির জন্য মিল মালিকদের কারসাজি আছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু আধুনিক চালের মিল তৈরি হয়েছে। এই মিলগুলো যারা চালায় তারা কিন্তু আমাদের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমাদের যারা আছে তারা ঠিক আছে, কিন্তু কিছু ভিন্ন মতাবলম্বীরা আছে। আমরা এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। যারা এভাবে যারা মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা অবশ্যই আমরা নেব।’

বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকারের পদক্ষেপ বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখনই আমরা দেখেছি বন্যা হয়েছে, খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে, তখনই আমরা নগদ পয়সা দিয়ে… বহু বছর আমাদের খাদ্য বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়নি।’

‘আমরা আমদানিতে ট্যাক্স কমিয়ে দিয়েছি। সাথে সাথে আমরা খাবার আমদানিও করেছি। আমাদের মজুদ বৃদ্ধি করে রেখেছি, কোনো রকমে খাদ্যের যেন কোনো কষ্ট না হয়।’

চালের মজুদ ঠিক রাখতে আধুনিক গুদাম ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা নতুন কিছু সাইলো তৈরি করেছি সান্তাহারে। ওগুলো কিন্তু আধুনিক। এরপর আমাদের যখন বেশি খাবার হবে তখন সেখানে রেখে দেব, সেখানে চার কি তিন বছর ভালো থাকবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধে গেছে ৪৪৯ কোটি ডলার

চালের দাম বৃদ্ধিতে সিন্ডিকেট, মিডিয়াও দায়ী: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:৩২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চালের দাম বৃদ্ধির জন্য মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের পাশাপাশি মিডিয়ার ‘অতি প্রচারকেও’ দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দাবি, গণমাধ্যমে অতিরিক্ত প্রচার হতে থাকলে ব্যবসায়ীরা উৎসাহী হয়ে বাড়তি লাভের জন্য দাম আরও বাড়িয়ে দেয়।

সোমবার গণভবনে করা সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘চালের দাম বাড়ানোতে যেমন সিন্ডিকেট আছে, আবার আপনারা মিডিয়া বেশি প্রচার করে আরও বাড়ান দাম। এটা হলো বাস্তবতা।’

‘একটু যদি বাড়ে এমন প্রচার শুরু করেন, তখন যারা ব্যবসা করছে তখন ভাবে যে আমি একটু বাড়িয়ে দেই। আরেকটু পয়সা কামাই করে নেই।’

গত বছর বোরো মৌসুমে অকাল বন্যায় হাওরে ফসলহানি এবং পরে দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার পর চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এক পর্ায়ে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা এবং চিকন চালের দাম ৭০ টাকা ছড়ায়। এরপর সরকার চাল আমদানির পাশাপাশি বেসরকারি খাতে আমদানিকে উৎসাহ করতে শুল্ক তুলে নেয়। আর বাজারে সরবরাহ বাড়ার পর দাম কিছুটা কমে আসে। তবে গত বছর একই সময়ের তুলনায় এখনও চালের দাম ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ বেশি।

চালের দাম কমাতে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে- এমন প্রশ্ন ছিল সরকার প্রধানের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘একটা হচ্ছে কিছুটা দাম বাড়ানো হয়েছে কৃষকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। কৃষকরা তার উৎপাদিত পণ্যের মূল্যটাও পায়, তারা যেন ভালো থাকে, সে জন্য দাম কিছু সরকার বৃদ্ধি করেছে।’

‘আর কিছুটা দাম সিন্ডিকেট করেও বাড়ানো হয়েছে, সেখানে কোনো সন্দেহ নাই।’

নিম্ন আয়ের মানুষরা যেন কষ্ট না পায়, সে জন্য কার্ড করে ৫০ লক্ষ পরিবারকে ১০ টাকায় চাল বিতরণ, ভিজিএফ, ভিজিডির মাধ্যমে খাবার দেয়া, ওএমএস চালুর কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘এতদিন আমরা কাজের বিনিময়ে টাকা দিতাম, এবার আমি সেটা পরিবর্তন করে দিয়েছি, কাজের বিনিময়ে খাদ্য দেবো। খাদ্যটা দিলে সেটা গ্রামে চলে যাবে। গ্রামে চলে গেলে পরে ওটা তো বিক্রি করতেই হবে। সেটা তখন মার্কেটে চলে যাবে। মার্কেটে চলে গেলে মার্কেটটা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। সেভাবে আমরা কিছু কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি।’

চালের দাম বৃদ্ধির জন্য মিল মালিকদের কারসাজি আছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু আধুনিক চালের মিল তৈরি হয়েছে। এই মিলগুলো যারা চালায় তারা কিন্তু আমাদের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমাদের যারা আছে তারা ঠিক আছে, কিন্তু কিছু ভিন্ন মতাবলম্বীরা আছে। আমরা এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। যারা এভাবে যারা মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা অবশ্যই আমরা নেব।’

বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকারের পদক্ষেপ বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখনই আমরা দেখেছি বন্যা হয়েছে, খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে, তখনই আমরা নগদ পয়সা দিয়ে… বহু বছর আমাদের খাদ্য বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়নি।’

‘আমরা আমদানিতে ট্যাক্স কমিয়ে দিয়েছি। সাথে সাথে আমরা খাবার আমদানিও করেছি। আমাদের মজুদ বৃদ্ধি করে রেখেছি, কোনো রকমে খাদ্যের যেন কোনো কষ্ট না হয়।’

চালের মজুদ ঠিক রাখতে আধুনিক গুদাম ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা নতুন কিছু সাইলো তৈরি করেছি সান্তাহারে। ওগুলো কিন্তু আধুনিক। এরপর আমাদের যখন বেশি খাবার হবে তখন সেখানে রেখে দেব, সেখানে চার কি তিন বছর ভালো থাকবে।’