অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বাহিনী প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৪ বছর পর স্থায়ী সদর দফতর পাচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্পের পাশে হতে যাওয়া এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯৫ কোটি টাকা।
রবিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘র্যাব ফোর্সেস সদর দফতর নির্মাণ শীর্ষক’ প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।
একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল প্রকল্পগুলো সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে র্যাবের সদর দফতরের জন্য কোনো স্থায়ী অবকাঠামো নেই। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স হিসেবে গঠিত র্যাবের সদর দপ্তরে বর্তমানে ১ হাজার ৪৮৬ জন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ১৪ তলার ভিতসহ ১৩ তলাবিশিষ্ট অফিস ভবন নির্মাণ ও ১২ তলার ভিতসহ ১২ তলাবিশিষ্ট ব্যাচেলর অফিসার্স কোয়ার্টার নির্মাণ করা হবে।
এ ছাড়া ১০ তলাবিশিষ্ট ফোর্স ব্যারাক, ৮তলা বিশিষ্ট এমটি শেড কাম উপ-পরিচালক মেস নির্মাণ, ১০ তলাবিশিষ্ট আবাসিক কোয়াটার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে বলে মন্ত্রী জানান।
পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, রাজধানীর মিরপুর ৬ নং সেকশনে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ২৮৮টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং চট্টগ্রামে বিমানসেনা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প সভায় অনুমোদন পেয়েছে।
এই তিনটি নতুন প্রকল্প ছাড়াও আটটি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৭ হাজার ৪২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যার পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেক হাওর অঞ্চলের জন্য আলাদা আলাদা প্রকল্প নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মাছের জন্য ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ, মাছ বাজারজাতকরণে ভ্যান কেনাসহ বিকল্প ফসল উৎপাদন ও বিকল্প আয়ের পথ খুঁজে বের করতে হবে। এ জন্য প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় ও হাওর উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় রাজস্ব ভবন ২০ তলার পরিবর্তে ১২ তলা করার নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিমান বন্দর কাছাকাছি থাকায় এটি ২০ তলা করা যাচ্ছে না।
এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকল্প প্রণয়নের সুযোগ নেই। প্রকল্পের কম্পোনেন্ট (কার্যক্রম) ও আওতা বাড়ায় সংশোধিত আকারে প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এতে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে গেছে এমনটা ভাবার সুযোগ নেই।
একনেকে অনুমোদন পাওয়া সংশোধিত প্রকল্পসমূহ হচ্ছে- উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রকল্প, বৃহত্তর ফরিদপুর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্যায়), ‘বৃহত্তর ফরিদপুর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প, সমন্বিত কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সজার মহাসড়কের ইন্দ্রপুল হতে চক্রশালা পর্যন্ত বাঁক সরলীকরণ প্রকল্প, চট্টগ্রাম বিএফ ঘাঁটি জহুরুল হক বিমান সেনা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প, বরিশাল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ উন্নীতকরণ প্রকল্প, জামালপুরের মাদারগঞ্জে শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট প্রকল্প এবং জাতীয় রাজস্ব ভবন নির্মাণ (সংশোধিত) প্রকল্প।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















