অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায়কে সামনে রেখে গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তার দাবি, যাদেরকে ধরা হচ্ছে তাদের সবার বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে।
রবিবার দুপুরে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবে ঢাকা মহানগর উওর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।
গত ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্টের সামনে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলার পর পাঁচ দিনে সারাদেশে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযানকে বর্ষার মাসের অঝর ধারার সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, ‘শ্রাবণের ধারার মতো গ্রেপ্তারের ধারা বয়ে যাচ্ছে, তৈরি করা হচ্ছে ভীতিকর পরিবেশ।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে গণগ্রেপ্তারের বিষয়ে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ নিয়ে চিরকুটে প্রশ্ন পাঠানো হয় তার কাছে। পরে তিনি গত ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্টের সামনে প্রিজন ভ্যানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলার বিষয়টি তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন পুলিশের রাইফেলগুলোকে কীভাবে টুকরো টুকরো করে ভেঙেছে, কীভাবে প্রিজন ভ্যান ভেঙেছে, বেগম খালেদা জিয়া যাওয়ার সময় তার পাশে খেকে কী ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।’
‘পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা বাহিনী ভিডিও ফুটেজ দেখে যারা অপরাধী তাদেরকে এরেস্ট করছে। কোনো নিরাপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।’
৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে সবধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তত আছে বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
‘আমরা বাংলাদেশে আর কোনো ধরনের নাশকতা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হবে দেবো না। সেটি এ দেশের মানুষ সহ্য করবে না। আমরা ২০২১ মধ্যম আয়ের দেশ হতে চাই, আমরা উন্নত বাংলাদেশ চাই। আমরা অন্ধকারে যেতে চাই না। যদি কোনো নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা কেউ করে তাহলে এ দেশের জনগণকে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।’
২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনে নাশকতা, সন্ত্রাসের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের নেতাকর্মী এবং জনগণ নাশকতাকে প্রতিহত করেছে। এটা একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এবারও যদি এরকম পরিস্থিতি হয় তাহলে তা প্রতিহত করা হবে।’
একই আলোচনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘৮ ফেব্রয়ারি খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
হানিফ বলেন, ‘৮ ফেব্রুয়ারি বিশেষ কোনো দিন নয়। তত্ত্বাবধারক সরকারের সময় এই মামলাটি হয়েছে। যদি তিনি (খালেদা জিয়া) দোষী হন তাহলে তার বিরুদ্ধে রায় হবে। এটা আদালতের এখতিয়ার। যদি তিনি এতিমের টাকা আত্মসাৎ না করেন থাকেন তাহলে তাকে তা আদালতে প্রমাণ করতে হবে। আর যদি আত্মসাৎ করে থাকেন তাহলে তার বিচার হবে। এ নিয়ে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া হবে না।’
‘যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে দোষী ব্যক্তি শাস্তি পাবেন, এটাই আইন, এটাই বিধান। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।’
হানিফ বলেন, ‘চুরি করবেন আত্মসাৎ করবেন, আবার বিচারের রায় মানবেন না, এটা জনগণ মানবে না।’
আগামী জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে শনিবার দলের নির্বাহী কমিটির সভায় খালেদা জিয়ার তোলা দবির বিষয়ে হানিফ বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে হবে। বর্তমান সরকারে অধীনেই হবে।’
‘আপনিই এক সময় বলেছিলেন নিরপেক্ষ কেউ নেই আবার আপনিই এখন চাইছেন নিরপেক্ষ সরকার?’।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমত উল্লাহর সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় উপস্থি ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসান প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















