ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমরা ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি : মির্জা ফখরুল বেনজিরকে ফেরাতে ল’ফার্ম নিয়োগ করেছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের প্রতিবাদে যাত্রাবাড়ীতে বিএনপির বিক্ষোভ ডিএনসিসি প্রশাসক ও এমপির ওপর হামলার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী যুবক ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চান: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ঢাকার চারপাশে নৌপথ সচল করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বেনজীরকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ঢাকায় ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে ফায়ার সার্ভিস নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ডিজি সরকারের আশ্বাসে প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহার দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীরের জামিন: যা জানা গেল

বিচার বিভাগের স্বার্থেই রাজনৈতিক বক্তব্য : প্রধান বিচারপতি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আইনমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘কারো কাছে যদি মনে হয় প্রধান বিচারপতির বক্তব্য রাজনৈতিক, তাহলে আমি বলবো বিচার বিভাগের স্বার্থে প্রয়োজনে আরও রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যাব।’ সদ্য অবসরে যাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার আজীবন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নারী বিচারকদের পথ প্রদর্শক হচ্ছেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। পৃথিবীর যেকোন দেশের চেয়ে আমাদের দেশে নারী বিচারকেরা অগ্রগামী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা এ দেশ এবং বিচার বিভাগের ইতিহাসের অংশ। তিনি এদেশের বিচার বিভাগের অহংকার। তাকে অনুসরণ করে অনেক নারী এই পেশায় এসেছেন। আজ তাই দেশে ২৪ শতাংশ নারী বিচারক রয়েছেন।’ অনুষ্ঠানে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, আমি আমার বিচারিক জীবনে ন্যায়বিচার করে গেছি। কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা অবহেলায় ভুল বিচার করিনি।’

নারী বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রিয় নারী বিচারকেরা মনে রাখবেন বিচারকের জীবন মানেই ন্যায় বিচারের দায়িত্ব কাঁধে নেয়া। আর এই দায়িত্ব পালন করা খুব কঠিন ও পরিশ্রমের।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে উচ্চ আদালতে নারী বিচারপতির সংখা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ মহিলা জজ এসোসিয়েশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ও দেশের নারী বিচারকরা উপস্থিত ছিলেন।বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা শুধু উচ্চ আদালতেরই প্রথম নারী বিচারপতি ছিলেন না। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রথম নারী বিচারক।

নাজমুন আরা সুলতানা ফতোয়া বিষয়ক মামলা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ির মামলা, চারদলীয় জোট সরকার আমলে বাদপড়া ১০ বিচারপতির মামলা, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত বিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ বিষয়ক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বিচারক ছিলেন।

১৯৭২ সালে ময়মনসিংহ জেলা আদালতে তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ১৯৭৫ সালের ২০ ডিসেম্বর মুনসেফ (সহকারি জজ) হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৯০ সালে জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। তিনিই দেশের প্রথম নারী জেলা জজ। ২০০০ সালের ২৮ মে নাজমুন আরা সুলতানা হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০০২ সালের ২৮ মে হাইকোর্টে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি : মির্জা ফখরুল

বিচার বিভাগের স্বার্থেই রাজনৈতিক বক্তব্য : প্রধান বিচারপতি

আপডেট সময় ০৬:২০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুলাই ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আইনমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘কারো কাছে যদি মনে হয় প্রধান বিচারপতির বক্তব্য রাজনৈতিক, তাহলে আমি বলবো বিচার বিভাগের স্বার্থে প্রয়োজনে আরও রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যাব।’ সদ্য অবসরে যাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার আজীবন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নারী বিচারকদের পথ প্রদর্শক হচ্ছেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। পৃথিবীর যেকোন দেশের চেয়ে আমাদের দেশে নারী বিচারকেরা অগ্রগামী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা এ দেশ এবং বিচার বিভাগের ইতিহাসের অংশ। তিনি এদেশের বিচার বিভাগের অহংকার। তাকে অনুসরণ করে অনেক নারী এই পেশায় এসেছেন। আজ তাই দেশে ২৪ শতাংশ নারী বিচারক রয়েছেন।’ অনুষ্ঠানে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, আমি আমার বিচারিক জীবনে ন্যায়বিচার করে গেছি। কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা অবহেলায় ভুল বিচার করিনি।’

নারী বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রিয় নারী বিচারকেরা মনে রাখবেন বিচারকের জীবন মানেই ন্যায় বিচারের দায়িত্ব কাঁধে নেয়া। আর এই দায়িত্ব পালন করা খুব কঠিন ও পরিশ্রমের।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে উচ্চ আদালতে নারী বিচারপতির সংখা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ মহিলা জজ এসোসিয়েশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ও দেশের নারী বিচারকরা উপস্থিত ছিলেন।বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা শুধু উচ্চ আদালতেরই প্রথম নারী বিচারপতি ছিলেন না। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রথম নারী বিচারক।

নাজমুন আরা সুলতানা ফতোয়া বিষয়ক মামলা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ির মামলা, চারদলীয় জোট সরকার আমলে বাদপড়া ১০ বিচারপতির মামলা, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত বিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ বিষয়ক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বিচারক ছিলেন।

১৯৭২ সালে ময়মনসিংহ জেলা আদালতে তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ১৯৭৫ সালের ২০ ডিসেম্বর মুনসেফ (সহকারি জজ) হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৯০ সালে জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। তিনিই দেশের প্রথম নারী জেলা জজ। ২০০০ সালের ২৮ মে নাজমুন আরা সুলতানা হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০০২ সালের ২৮ মে হাইকোর্টে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।