ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

পাঁচ সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে তফসিলের আগে প্রধানমন্ত্রীর সফর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভাগীয় শহরগুলোতে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তফসিল ঘোষণার পর যেহেতু আইনিভাবে তার সেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই, তাই তফসিল ঘোষণার আগেই এই সফর শেষ করবেন তিনি। শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী বৈঠকে শেখ হাসিনা এ সিদ্ধান্ত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বৈঠকে ‍উপস্থিত একাধিক নেতা।

২০১৩ সালের ১৫ জুন রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট হয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই চার সিটিতেই আওয়ামী লীগ সমর্থিক প্রার্থীরা জিতলেও আওয়ামী লীগ আমলের ভোটে হেরে যান দল সমর্থিত প্রার্থীরা। এরপর একই বছরের ৬ জুন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান থাকা গাজীপুরেও হেরে যান আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী।

পাঁচ বিভাগীয় শহরেই আবার বাজতে যাচ্ছে ভোটের দামামা। এবার ভোট হবে দলীয় প্রতীকে। আর জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব শহরে ভোট হবে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গোটা দেশবাসীর নজরে থাকবে এই নির্বাচন আর এখানে জয় পরাজয় আগামী সংসদ নির্বাচনে কী ফলাফল আসতে যাচ্ছে তার আভাসও পাওয়া যাবে।

এ কারণে আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। আর এর অংশ হিসেবেই শহরগুলোতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। পাঁচ বছর আগের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থীর হারের পেছনে অন্যান্য অনেক কারণের সঙ্গে দলীয় কোন্দলকেও চিহ্নিত করা হয়েছিল সে সময়। এবার আগেভাবেই প্রধানমন্ত্রী শহরগুলোতে গিয়ে নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে চান। সেই সঙ্গে দলের কর্মী সমর্থকদেরকেও উৎসাহী করতে চান। জনগণের কাছে সরকারের উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরতে চান।

আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এ সফর শুরু হবে। পাঁচ সিটিতে সফর শেষ করে এর বাইরে আরও তিন বিভাগীয় শহর রংপুর, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহেও যাবেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে যেসব সিটি করপোরশনে ভোট হবে, যেসব এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে কথা হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে উপ-নির্বাচন নিয়েও। শেখ হাসিনা বলেন, তফসিল ঘোষণার পরে স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন। তবে যাকে সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে সেই আতিকুল ইসলামকে মানুষের দরজায় দরজায় যেতে হবে।

বৈঠকে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বদরউদ্দিন কামরান সিলেট সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তুলে ধরেন। বলেন, ওখানে সরকার বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বর্তমান মেয়র আরিফুল হক এসকল কৃতিত্ব নিজের ও বিএনপির ঘরে তুলছেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলোর প্রচারে আপনাদের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। ভোটের চিন্তায় আমি উন্নয়ন কাজ কখনো বন্ধ করতে পারবো না। সব জায়গায় সমানভাবে উন্নয়ন করা আমার লক্ষ্য। উন্নয়ন এক জিনিস ভোট আরেক জিনিস।’

এ সময় শেখ হাসিনা সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে আগামী যত নির্বাচন আসবে তাতে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন ও বিএনপি-জামায়াত জোটের অপকর্মের কথা তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন। শেখ হাসিনার বিভাগীয় সফরের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলা সফরেরও সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। কারা কোন জেলায় যাচ্ছেন, সেই দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে কমিটিও করা হয়েছে।

‘সব এমপি মনোনয়ন পাবেন না’

আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য মানেই তিনি মনোনয়ন পাবেন, এমন ধারণা থাকলে তা ভুলে যেতে বলেছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। বলেছেন সংসদ সদস্যদের মধ্যে কারা কী কাজ করছেন, তার সব রিপোর্ট তার কাছে রয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেয়া হবে।

পাশাপাশি মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের অনুসারী যেসব নেতা বর্তমান সংসদ সদস্যকে বিপদে ফেলতে তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন তাদেরকেও সতর্ক করতে নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বলেছেন, এসব অভিযোগের কারণে বিএনপি সমালোচনার সুযোগ পায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিপাইনে ৩৫৯ জনকে নিয়ে ডুবল ফেরি, ১৫ জনের মৃত্যু

পাঁচ সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে তফসিলের আগে প্রধানমন্ত্রীর সফর

আপডেট সময় ১২:২১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভাগীয় শহরগুলোতে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তফসিল ঘোষণার পর যেহেতু আইনিভাবে তার সেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই, তাই তফসিল ঘোষণার আগেই এই সফর শেষ করবেন তিনি। শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী বৈঠকে শেখ হাসিনা এ সিদ্ধান্ত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বৈঠকে ‍উপস্থিত একাধিক নেতা।

২০১৩ সালের ১৫ জুন রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট হয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই চার সিটিতেই আওয়ামী লীগ সমর্থিক প্রার্থীরা জিতলেও আওয়ামী লীগ আমলের ভোটে হেরে যান দল সমর্থিত প্রার্থীরা। এরপর একই বছরের ৬ জুন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান থাকা গাজীপুরেও হেরে যান আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী।

পাঁচ বিভাগীয় শহরেই আবার বাজতে যাচ্ছে ভোটের দামামা। এবার ভোট হবে দলীয় প্রতীকে। আর জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব শহরে ভোট হবে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গোটা দেশবাসীর নজরে থাকবে এই নির্বাচন আর এখানে জয় পরাজয় আগামী সংসদ নির্বাচনে কী ফলাফল আসতে যাচ্ছে তার আভাসও পাওয়া যাবে।

এ কারণে আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। আর এর অংশ হিসেবেই শহরগুলোতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। পাঁচ বছর আগের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থীর হারের পেছনে অন্যান্য অনেক কারণের সঙ্গে দলীয় কোন্দলকেও চিহ্নিত করা হয়েছিল সে সময়। এবার আগেভাবেই প্রধানমন্ত্রী শহরগুলোতে গিয়ে নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে চান। সেই সঙ্গে দলের কর্মী সমর্থকদেরকেও উৎসাহী করতে চান। জনগণের কাছে সরকারের উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরতে চান।

আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এ সফর শুরু হবে। পাঁচ সিটিতে সফর শেষ করে এর বাইরে আরও তিন বিভাগীয় শহর রংপুর, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহেও যাবেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে যেসব সিটি করপোরশনে ভোট হবে, যেসব এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে কথা হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে উপ-নির্বাচন নিয়েও। শেখ হাসিনা বলেন, তফসিল ঘোষণার পরে স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন। তবে যাকে সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে সেই আতিকুল ইসলামকে মানুষের দরজায় দরজায় যেতে হবে।

বৈঠকে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বদরউদ্দিন কামরান সিলেট সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তুলে ধরেন। বলেন, ওখানে সরকার বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বর্তমান মেয়র আরিফুল হক এসকল কৃতিত্ব নিজের ও বিএনপির ঘরে তুলছেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলোর প্রচারে আপনাদের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। ভোটের চিন্তায় আমি উন্নয়ন কাজ কখনো বন্ধ করতে পারবো না। সব জায়গায় সমানভাবে উন্নয়ন করা আমার লক্ষ্য। উন্নয়ন এক জিনিস ভোট আরেক জিনিস।’

এ সময় শেখ হাসিনা সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে আগামী যত নির্বাচন আসবে তাতে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন ও বিএনপি-জামায়াত জোটের অপকর্মের কথা তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন। শেখ হাসিনার বিভাগীয় সফরের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলা সফরেরও সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। কারা কোন জেলায় যাচ্ছেন, সেই দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে কমিটিও করা হয়েছে।

‘সব এমপি মনোনয়ন পাবেন না’

আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য মানেই তিনি মনোনয়ন পাবেন, এমন ধারণা থাকলে তা ভুলে যেতে বলেছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। বলেছেন সংসদ সদস্যদের মধ্যে কারা কী কাজ করছেন, তার সব রিপোর্ট তার কাছে রয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেয়া হবে।

পাশাপাশি মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের অনুসারী যেসব নেতা বর্তমান সংসদ সদস্যকে বিপদে ফেলতে তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন তাদেরকেও সতর্ক করতে নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বলেছেন, এসব অভিযোগের কারণে বিএনপি সমালোচনার সুযোগ পায়।