অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
পদ্মাসেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে এবং এ সেতুতে কাউকে না উঠতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের কারণে তার মাথার ‘ঘিলু’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওনার মাথায় যে ঘিলু আছে সেটা কীসের?’ ছাত্রলীগের ৭০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার বিকালে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গণভবনে মত বিনিময় করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতি এই তিন মূলমন্ত্র নিয়ে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণ থেকে যাত্রা শুরু করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। পরে সব ধর্মের মানুষদের জন্য এই সংগঠন উন্মুক্ত কর হয়, নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ। আর ভাষা আন্দোলন, স্বাধীকার আন্দোলন এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এই সংগঠনের ভূমিকা অপরিসীম।
ছাত্রলীগের এই অনুষ্ঠানে ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পদ্মাসেতু নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে যখন আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি, তখন খালেদা জিয়া বক্তৃতা দেয় যে ওই পদ্মাসেতু জোড়াতালি দিয়ে করা হয়েছে। কেউ পদ্মা সেতুতে উঠবেন না।’
এখন যার এইটুকু জ্ঞান নেই। একটা জিনিস নির্মাণ করতে হলে কীভাবে, কী পদ্ধতিতে করতে হয়, যার মাথায় ওইটুকু ঘিলু নাই।… ওনার মাথায় যে গিলু আছে সেটা কীসের? চুরি করা, টাকা বানানো, এতিমের টাকা খাওয়া, মানুষ পোড়ানো, মানুষ মারা এটাই তো? ‘একটা সেতু বানানোর মতো ওই ক্ষমতা তার নাই।’
খালেদা জিয়ার বক্তব্যের কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখন একটা সেতু নির্মাণ হচ্ছে সেটা নাকি জোড়াতালি দিয়ে। হ্যাঁ একদিকে ঠিক, যেহেতু একেকটি পার্টস (অংশ) তৈরি করে তারপর একেকটা করে বসায়।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) বুঝিয়ে দিয়েছেন ওনার কথার মধ্যে দিয়ে। নইলে যার মধ্যে এতটুকু সেন্স আছে, এতটুকু বুদ্ধি আছে বা যার এতটুকু জ্ঞানে আছে এবং সে যদি সজ্ঞানে থাকে নিশ্চয়ই এ কথা বলবে না।’
খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার দুই ছেলে দুই রত্ন। তারা মানিলন্ডারিং এ পারদর্শী। খালেদা জিয়া মানুষ পোড়ানোতে পারদর্শী।’ ‘একটা ব্যাপারে তারা পারদর্শী, মানিলন্ডারিং করা। অলরেডি তারা, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে মানিলন্ডারিং…। এটা আমরা বলছি না। মানিলন্ডারিং, এটা আমেরিকার ফেডারেল কোর্ট সেখানে ধরা পড়েছে সে ঘুষ খেয়েছে, মানিলন্ডারিং করেছে। যার জন্য তার বিচারে সাজা হয়েছে ৭ বছর কারাদণ্ড, ২০ কোটি টাকা জরিমানা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেক ছেলে, তার টাকা ধরা পড়েছে সিঙ্গাপুরে। সেই টাকা আমরা ফেরত নিয়ে এসেছি।… কাজেই তার দুই ছেলে রত্ম। তারা দুই কাজে পারদর্শী।’ খালেদা জিয়াকে উদ্দেশে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনিও কম যান না, এতিমের টাকা মেরে দিয়ে বেশ দিব্যি, সামান্য এতিম তাদের জন্য আনা পয়সা তাও মেরে দেয়। তারা দেশের মানুষকে কী দেবে।’
খালেদা জিয়ার পড়াশোনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদেরকে পড়াশোনায় মনযোগ দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, আধুনিক দুনিয়ায় টিকতে হলে জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। এ সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে কারফিউ দিয়ে দেশ চালিয়েছেন জিয়াউর রহমান। আর স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে ফিরিয়েছেন তিনি। এটাই তার বহুদলীয় গণতন্ত্র।
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ওবায়দুল কাদের এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন ছাত্র লীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















