ঢাকা ০২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই থেকে পুরোদমে শুরু ফ্যামিলি-কৃষক-ইমাম কার্ড কর্মসূচি : আইনমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড বিশাল জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত করতে পারেন শিক্ষকেরাই : শিক্ষামন্ত্রী বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশিক রুবাইয়াতের পদত্যাগ যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালাল ইসরায়েল মেসির গোলে বাংলাদেশের উৎসব পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমে অবরোধ ভেঙে হরমুজ ছাড়ল ইরানি জাহাজ, তেলের দাম কমল ইউরোপে পোশাক রপ্তানির আয় তিন মাসে কমেছে ২০ শতাংশ

আ.লীগকে ক্ষমতায় আনার বিনিময়ে কিছুই পাইনি: এরশাদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগকে তিনবার ক্ষমতায় এনেছেন। তবে ক্ষমতায় আনার বিনিময়ে কিছুই পাননি বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। সোমবার জাপার ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন এরশাদ।

জাপার জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা প্রমুখ।

সভার আগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করে জাপা। এতে ব্যাপক শোডাউন করে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা ও তাদের সমর্থকরা। রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে তারা জড়ো হয় রমনায়। সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির নির্বাচনী এলাকা শ্যামপুর-কদমতলী থেকে আসা মিছিলে প্রেস ক্লাব থেকে শাহবাগমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বছরের প্রথম দিনে যানজটে পড়েন যাত্রীরা।

মিছিলে এরশাদ, রওশনসহ দলীয় নেতাদের প্রতিকৃতিবহন করেন কর্মীরা। ব্যানার, ফেস্টুন ও ব্যান্ড পার্টির বাজনায় উৎসবমুখর র‌্যালি হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জাপার কেন্দ্রীয় নেতা সুজন দে, শেখ মাসুক রহমান, কাওসার আহমেদ। ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টু, নারায়গঞ্জ-৫ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার নেতৃত্বে আলাদা র‌্যালি বের হয়।

সভায় এরশাদ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ তিনবার আমাদের সহযোগিতায় ক্ষমতায় এসেছে। বিনিময়ে কিছুই পাইনি। ১৯৯৬ সালে বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব দিয়েছিল, তা প্রত্যাখান করে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছিলাম।’

এরশাদের অভিযোগ, ‘বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল আওয়ামী লীগ। জাপার তৎকালীন মহাসচিব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে দিয়ে দল ভাঙ্গায়। জাপার ৩৫ এমপির ১৪ জনকে কিনে নেয়।’

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচন করে বঞ্চনার শিকার হন বলেও দাবি করেন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘কথা ছিল ৪৮টি আসন দেবে। কিন্তু দেয়া হয় মাত্র ৩৩টি। এর মধ্যে ২৯টিতে জয়ী হয় জাপা। বিএনপি পায় ৩০টি। ১৫টি আসন কেড়ে না নিলে জাপাই প্রধান বিরোধীদল হতো। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা হতে দেয়নি।’

বিএনপিবিহীন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাপার একাংশ অংশ নেয়। এরশাদ দাবি করেন, ‘জাপা নির্বাচনে অংশ না নিলে ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো।’ তিনি অভিযোগ করেন, এবারও তাকে ও জাপাকে মূল্যায়ন করেনি আওয়ামী লীগ।

বিএনপির সমালোচনা করেন এরশাদ। তিনি বলেন, সীমাহীন অত্যাচার করে বিএনপি জাপাকে নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিল। তাকে ‘বিনা দোষে’ কারাবন্দি করে রাখে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে এরশাদ বলেন, ‘আল্লাহ আছেন, বিচার আছে। আমাকে জেল দিয়েছিলেন। এখন জেল আপানার (খালেদা জিয়া) অতি সন্নিকটে। অনেক অন্যায় করেছেন, তার প্রতিফল পাচ্ছেন।’

সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতায় আসা এরশাদ দাবি করেছেন, তার শাসনামল বৈধ ছিল। রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে তার হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন। ক্ষমতা থেকে পতনের পর জাপার ভোট দিন দিন কমছে। তবে এরশাদের দাবি, ‘গত মাসে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাপা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

রওশন এরশাদ বলেন, ‘জনগণ এখন সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। জাপাও তাই চায়। রংপুরে এর প্রতিফলন ঘটেছে।’ জাপাকে সংগঠিত করতে নেতাকর্মীদের কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কারো দাবার গুটি হতে চাই না। রাজা হতে চাই। দেশবাসীর ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে চাই।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই থেকে পুরোদমে শুরু ফ্যামিলি-কৃষক-ইমাম কার্ড কর্মসূচি : আইনমন্ত্রী

আ.লীগকে ক্ষমতায় আনার বিনিময়ে কিছুই পাইনি: এরশাদ

আপডেট সময় ১২:০৩:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগকে তিনবার ক্ষমতায় এনেছেন। তবে ক্ষমতায় আনার বিনিময়ে কিছুই পাননি বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। সোমবার জাপার ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন এরশাদ।

জাপার জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা প্রমুখ।

সভার আগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করে জাপা। এতে ব্যাপক শোডাউন করে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা ও তাদের সমর্থকরা। রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে তারা জড়ো হয় রমনায়। সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির নির্বাচনী এলাকা শ্যামপুর-কদমতলী থেকে আসা মিছিলে প্রেস ক্লাব থেকে শাহবাগমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বছরের প্রথম দিনে যানজটে পড়েন যাত্রীরা।

মিছিলে এরশাদ, রওশনসহ দলীয় নেতাদের প্রতিকৃতিবহন করেন কর্মীরা। ব্যানার, ফেস্টুন ও ব্যান্ড পার্টির বাজনায় উৎসবমুখর র‌্যালি হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জাপার কেন্দ্রীয় নেতা সুজন দে, শেখ মাসুক রহমান, কাওসার আহমেদ। ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টু, নারায়গঞ্জ-৫ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার নেতৃত্বে আলাদা র‌্যালি বের হয়।

সভায় এরশাদ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ তিনবার আমাদের সহযোগিতায় ক্ষমতায় এসেছে। বিনিময়ে কিছুই পাইনি। ১৯৯৬ সালে বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব দিয়েছিল, তা প্রত্যাখান করে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছিলাম।’

এরশাদের অভিযোগ, ‘বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল আওয়ামী লীগ। জাপার তৎকালীন মহাসচিব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে দিয়ে দল ভাঙ্গায়। জাপার ৩৫ এমপির ১৪ জনকে কিনে নেয়।’

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচন করে বঞ্চনার শিকার হন বলেও দাবি করেন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘কথা ছিল ৪৮টি আসন দেবে। কিন্তু দেয়া হয় মাত্র ৩৩টি। এর মধ্যে ২৯টিতে জয়ী হয় জাপা। বিএনপি পায় ৩০টি। ১৫টি আসন কেড়ে না নিলে জাপাই প্রধান বিরোধীদল হতো। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা হতে দেয়নি।’

বিএনপিবিহীন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাপার একাংশ অংশ নেয়। এরশাদ দাবি করেন, ‘জাপা নির্বাচনে অংশ না নিলে ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো।’ তিনি অভিযোগ করেন, এবারও তাকে ও জাপাকে মূল্যায়ন করেনি আওয়ামী লীগ।

বিএনপির সমালোচনা করেন এরশাদ। তিনি বলেন, সীমাহীন অত্যাচার করে বিএনপি জাপাকে নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিল। তাকে ‘বিনা দোষে’ কারাবন্দি করে রাখে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে এরশাদ বলেন, ‘আল্লাহ আছেন, বিচার আছে। আমাকে জেল দিয়েছিলেন। এখন জেল আপানার (খালেদা জিয়া) অতি সন্নিকটে। অনেক অন্যায় করেছেন, তার প্রতিফল পাচ্ছেন।’

সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতায় আসা এরশাদ দাবি করেছেন, তার শাসনামল বৈধ ছিল। রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে তার হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন। ক্ষমতা থেকে পতনের পর জাপার ভোট দিন দিন কমছে। তবে এরশাদের দাবি, ‘গত মাসে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাপা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

রওশন এরশাদ বলেন, ‘জনগণ এখন সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। জাপাও তাই চায়। রংপুরে এর প্রতিফলন ঘটেছে।’ জাপাকে সংগঠিত করতে নেতাকর্মীদের কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কারো দাবার গুটি হতে চাই না। রাজা হতে চাই। দেশবাসীর ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে চাই।’