ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নতুন বিনিয়োগ আনতে ২৭ দেশে আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই প্রজন্ম হারিয়ে ফেললে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সব মামলায় জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিএফটিআই হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গবেষণার জাতীয় থিংক ট্যাংক : বাণিজ্যমন্ত্রী ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় নির্যাতন, মাদারীপুরে প্রতারণার শিকার অর্ধশতাধিক যুবক আবাসিক হোটেলে স্ত্রী হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে : ববি হাজ্জাজ প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিট ও লাউঞ্জসহ বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হবে

আসামে বাংলাদেশি বিতাড়নে তালিকা প্রকাশ নিয়ে উত্তেজনা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের আসামে আগামী রোববার মধ্যরাতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকা প্রকাশকে ঘিয়ে আসামজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই তালিকা প্রকাশকে ঘিরে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশংকা করছে রাজ্য সরকার। তাই নিরাপত্তা রক্ষায় সেখানে প্রায় ৬০ হাজার পুলিশ ও প্যারামিলিটারী মোতায়েন করা হয়েছে।

নাগরিক নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা আসামের আসামের অর্থ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আসামে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশীদের চিহ্নিত করতেই এনআরসি করা হয়েছে। এতে যাদের নাম থাকবে না, তাদের ফেরত পাঠানো হবে। এখানে আমরা কোনো সুযোগ নিচ্ছি না এবং সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই নেয়া হয়েছে।’

তবে যেসব হিন্দু বাংলাদেশী আসামে চলে গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি অনুসারে, তাদের আসামে আশ্রয় দেয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন বিশ্ব শর্মা।

ধারণা করা হয়, আসামে বিশ লক্ষেরও বেশি মুসলিম আছেন যাদের শেকড় বাংলাদেশে রয়েছে। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি তৈরিতে ১৯৫১ সালের পর প্রথমবারের মতো আসামে আদমশুমারি করা হয়। গতবছর প্রথমবারের মতো আসামের ক্ষমতায় বসে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি। নির্বাচনি প্রচারণার সময় দলটি অবৈধ মুসলিমদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার করেছিল। মুসলিমদের জন্য স্থানীয় হিন্দুরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ হিন্দুদের।

আসামের মুসলমান নেতারা বলছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মতো তাদেরও রাষ্ট্রহীন করতে এনআরসিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি আসম থেকে শুধু মুসলিমদের তাড়াতেই এই ষড়যন্ত্র করছে বলে তাদের অভিযোগ।

১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তি অনুযায়ী, যারা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ মধ্য রাত পর্যন্ত রাজ্যটিতে প্রবেশ করেছে, তারাই ভারতীয় নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত হবে। দশকের পর দশক ধরে আসামে অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে যে গোলযোগ চলছে, এনআরসি তা অবসানে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজ্যটির মুসলিম সম্প্রদায়ের (তারা রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ) ৯০ ভাগ বাংলা ভাষাভাষী। তাদেরকে এখন বাংলাদেশি বা ‘মিয়া’ হিসেবে যে গাল দেয়া হয়, এর অবসানও ঘটাতে পারে এনআরসি।

উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হাজার হাজার মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁদের বেশিরভাগই আসামে বসতি গড়েছিলেন বলে অভিযোগ করে আসছেন আসামের জাতীয়তাবাদীরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন বিনিয়োগ আনতে ২৭ দেশে আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ

আসামে বাংলাদেশি বিতাড়নে তালিকা প্রকাশ নিয়ে উত্তেজনা

আপডেট সময় ১২:৫৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের আসামে আগামী রোববার মধ্যরাতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকা প্রকাশকে ঘিয়ে আসামজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই তালিকা প্রকাশকে ঘিরে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশংকা করছে রাজ্য সরকার। তাই নিরাপত্তা রক্ষায় সেখানে প্রায় ৬০ হাজার পুলিশ ও প্যারামিলিটারী মোতায়েন করা হয়েছে।

নাগরিক নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা আসামের আসামের অর্থ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আসামে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশীদের চিহ্নিত করতেই এনআরসি করা হয়েছে। এতে যাদের নাম থাকবে না, তাদের ফেরত পাঠানো হবে। এখানে আমরা কোনো সুযোগ নিচ্ছি না এবং সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই নেয়া হয়েছে।’

তবে যেসব হিন্দু বাংলাদেশী আসামে চলে গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি অনুসারে, তাদের আসামে আশ্রয় দেয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন বিশ্ব শর্মা।

ধারণা করা হয়, আসামে বিশ লক্ষেরও বেশি মুসলিম আছেন যাদের শেকড় বাংলাদেশে রয়েছে। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি তৈরিতে ১৯৫১ সালের পর প্রথমবারের মতো আসামে আদমশুমারি করা হয়। গতবছর প্রথমবারের মতো আসামের ক্ষমতায় বসে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি। নির্বাচনি প্রচারণার সময় দলটি অবৈধ মুসলিমদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার করেছিল। মুসলিমদের জন্য স্থানীয় হিন্দুরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ হিন্দুদের।

আসামের মুসলমান নেতারা বলছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মতো তাদেরও রাষ্ট্রহীন করতে এনআরসিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি আসম থেকে শুধু মুসলিমদের তাড়াতেই এই ষড়যন্ত্র করছে বলে তাদের অভিযোগ।

১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তি অনুযায়ী, যারা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ মধ্য রাত পর্যন্ত রাজ্যটিতে প্রবেশ করেছে, তারাই ভারতীয় নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত হবে। দশকের পর দশক ধরে আসামে অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে যে গোলযোগ চলছে, এনআরসি তা অবসানে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজ্যটির মুসলিম সম্প্রদায়ের (তারা রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ) ৯০ ভাগ বাংলা ভাষাভাষী। তাদেরকে এখন বাংলাদেশি বা ‘মিয়া’ হিসেবে যে গাল দেয়া হয়, এর অবসানও ঘটাতে পারে এনআরসি।

উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হাজার হাজার মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁদের বেশিরভাগই আসামে বসতি গড়েছিলেন বলে অভিযোগ করে আসছেন আসামের জাতীয়তাবাদীরা।