ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

আসামে বাংলাদেশি বিতাড়নে তালিকা প্রকাশ নিয়ে উত্তেজনা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের আসামে আগামী রোববার মধ্যরাতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকা প্রকাশকে ঘিয়ে আসামজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই তালিকা প্রকাশকে ঘিরে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশংকা করছে রাজ্য সরকার। তাই নিরাপত্তা রক্ষায় সেখানে প্রায় ৬০ হাজার পুলিশ ও প্যারামিলিটারী মোতায়েন করা হয়েছে।

নাগরিক নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা আসামের আসামের অর্থ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আসামে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশীদের চিহ্নিত করতেই এনআরসি করা হয়েছে। এতে যাদের নাম থাকবে না, তাদের ফেরত পাঠানো হবে। এখানে আমরা কোনো সুযোগ নিচ্ছি না এবং সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই নেয়া হয়েছে।’

তবে যেসব হিন্দু বাংলাদেশী আসামে চলে গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি অনুসারে, তাদের আসামে আশ্রয় দেয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন বিশ্ব শর্মা।

ধারণা করা হয়, আসামে বিশ লক্ষেরও বেশি মুসলিম আছেন যাদের শেকড় বাংলাদেশে রয়েছে। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি তৈরিতে ১৯৫১ সালের পর প্রথমবারের মতো আসামে আদমশুমারি করা হয়। গতবছর প্রথমবারের মতো আসামের ক্ষমতায় বসে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি। নির্বাচনি প্রচারণার সময় দলটি অবৈধ মুসলিমদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার করেছিল। মুসলিমদের জন্য স্থানীয় হিন্দুরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ হিন্দুদের।

আসামের মুসলমান নেতারা বলছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মতো তাদেরও রাষ্ট্রহীন করতে এনআরসিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি আসম থেকে শুধু মুসলিমদের তাড়াতেই এই ষড়যন্ত্র করছে বলে তাদের অভিযোগ।

১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তি অনুযায়ী, যারা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ মধ্য রাত পর্যন্ত রাজ্যটিতে প্রবেশ করেছে, তারাই ভারতীয় নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত হবে। দশকের পর দশক ধরে আসামে অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে যে গোলযোগ চলছে, এনআরসি তা অবসানে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজ্যটির মুসলিম সম্প্রদায়ের (তারা রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ) ৯০ ভাগ বাংলা ভাষাভাষী। তাদেরকে এখন বাংলাদেশি বা ‘মিয়া’ হিসেবে যে গাল দেয়া হয়, এর অবসানও ঘটাতে পারে এনআরসি।

উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হাজার হাজার মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁদের বেশিরভাগই আসামে বসতি গড়েছিলেন বলে অভিযোগ করে আসছেন আসামের জাতীয়তাবাদীরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির হলেন এ আর হাফিজ উল্লাহ

আসামে বাংলাদেশি বিতাড়নে তালিকা প্রকাশ নিয়ে উত্তেজনা

আপডেট সময় ১২:৫৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের আসামে আগামী রোববার মধ্যরাতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকা প্রকাশকে ঘিয়ে আসামজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই তালিকা প্রকাশকে ঘিরে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশংকা করছে রাজ্য সরকার। তাই নিরাপত্তা রক্ষায় সেখানে প্রায় ৬০ হাজার পুলিশ ও প্যারামিলিটারী মোতায়েন করা হয়েছে।

নাগরিক নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা আসামের আসামের অর্থ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আসামে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশীদের চিহ্নিত করতেই এনআরসি করা হয়েছে। এতে যাদের নাম থাকবে না, তাদের ফেরত পাঠানো হবে। এখানে আমরা কোনো সুযোগ নিচ্ছি না এবং সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই নেয়া হয়েছে।’

তবে যেসব হিন্দু বাংলাদেশী আসামে চলে গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি অনুসারে, তাদের আসামে আশ্রয় দেয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন বিশ্ব শর্মা।

ধারণা করা হয়, আসামে বিশ লক্ষেরও বেশি মুসলিম আছেন যাদের শেকড় বাংলাদেশে রয়েছে। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি তৈরিতে ১৯৫১ সালের পর প্রথমবারের মতো আসামে আদমশুমারি করা হয়। গতবছর প্রথমবারের মতো আসামের ক্ষমতায় বসে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি। নির্বাচনি প্রচারণার সময় দলটি অবৈধ মুসলিমদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার করেছিল। মুসলিমদের জন্য স্থানীয় হিন্দুরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ হিন্দুদের।

আসামের মুসলমান নেতারা বলছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মতো তাদেরও রাষ্ট্রহীন করতে এনআরসিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি আসম থেকে শুধু মুসলিমদের তাড়াতেই এই ষড়যন্ত্র করছে বলে তাদের অভিযোগ।

১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তি অনুযায়ী, যারা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ মধ্য রাত পর্যন্ত রাজ্যটিতে প্রবেশ করেছে, তারাই ভারতীয় নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত হবে। দশকের পর দশক ধরে আসামে অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে যে গোলযোগ চলছে, এনআরসি তা অবসানে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজ্যটির মুসলিম সম্প্রদায়ের (তারা রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ) ৯০ ভাগ বাংলা ভাষাভাষী। তাদেরকে এখন বাংলাদেশি বা ‘মিয়া’ হিসেবে যে গাল দেয়া হয়, এর অবসানও ঘটাতে পারে এনআরসি।

উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হাজার হাজার মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁদের বেশিরভাগই আসামে বসতি গড়েছিলেন বলে অভিযোগ করে আসছেন আসামের জাতীয়তাবাদীরা।