আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
কুমিল্লার লাকসামে এক মেয়েকে ঘর নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মেয়ের পরিবারের দাবি তাকে অপহরণ করা হয়েছে। এদিকে গ্রামবাসী জানান, পরিবার বিয়ে মেনে না নেয়ায় মেয়েকে আটকে রাখে। স্বামী তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
বুধবার লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলী দুই পরিবারে দীর্ঘদিনের বিবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অপহৃত কিশোরী তাহমিনা আক্তার স্মৃতি (১৬) লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়ের হারাখাল গ্রামের প্রবাসী আলম মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় গণউদ্যােগ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। স্বামী মো. মাসুদ (৩২) ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা। সম্পর্কে তিনি স্মৃতির চাচাতো মামা হন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাহমিনা আক্তার স্মৃতির সঙ্গে মো. মাসুদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ফেব্রুয়রিতে মাসুদ স্মৃতিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর স্মৃতির পরিবারের পক্ষ থেকে লাকসাম থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ১৭ দিন পর তাকে উদ্ধার করেন। অপহরণের দায়ে মো. মাসুদকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক স্মৃতিকে পরিবারের জিম্মায় দিয়ে অপহৃত মাসুদকে কারাগারে পাঠান। এক সপ্তাহ আগে মাসুদ জামিনে জেল থেকে বের হন। সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার দলবল নিয়ে স্মৃতির বাড়িতে যান। এক পর্যায়ে ছাদের ওপর দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে দ্বিতীয় তলা থেকে ফিল্মি স্টাইলে কিশোরী স্মৃতিকে নিচে নামিয়ে আনেন। ভিডিওতে দেখা যায় স্মৃতি স্বাভাবিক ভাবে নেমে চলে যাচ্ছেন।
এ ঘটনার ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে আরও দেখা গেছে, একটি ডুপ্লেক্স ভবনের ছাদ থেকে এক তরুণীকে কাঁধে করে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন যুবক। এ সময় বাড়ির আঙিনা ও ভবনের আশপাশে মানুষের সমাগম ছিল।
কিশোরীর পিতা আলম মিয়া বলেন, এর আগেও মাসুদ আমার মেয়েকে একবার অপহরণ করে। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ১৭দিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়। সোমবার রাতে সে আবারও বহু গুণ্ডাবাহিনী নিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আমাদের ব্যাপক মারধর করা হয়।
এদিকে ছেলের পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, ছেলে মেয়ের মধ্যে প্রেম-বিয়ে হয়েছে। পরিবার না মেনে মামলা ও জেলে দেয়ার কারণে বিষয়টি এ পর্যন্ত গড়িয়েছে। মেয়ে এ নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে ভিডিও বক্তব্য দিয়েছিলো। সেখানে সে মাসুদের সাথে তার বিয়ে হয়েছে, তাকে অপহরণ করা হয়নি বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, ছেলে মেয়ের দূর সম্পর্কের মামা হন। পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। মেয়ের বয়স কম, বিয়ে হলে কি হবে? আমরা অপহরণ মামলা নিয়েছি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















