অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখাই আওযামী লীগের নির্বাচনী প্রজেক্ট বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার মতে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা আওযামী লীগের নির্বাচনী প্রজেক্টের একটি অংশ।
শুক্রবার দুপুরে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির স্বাধীনতা হলে রাজনীতি, স্বার্থ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা : প্রতিবেশীর ভূমিকা শীর্ষক গণ-বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রজেক্টের মধ্যে রয়েছে ভিন্ন মত প্রকাশ করলে মিথ্যা মামলা দেয়া, ক্রস ফায়ার দেয়া, গুম করা, এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করে এলাকা থেকে বিতাড়িত করা। সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট হলো ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার অপকৌশল।
তিনি বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে খালেদা জিয়ার কোন সম্পৃক্ততা নেই। এটা সরকারও জানে। তারপরও সরকার জেনেশুনে তা করছে। কারণ, তাদের আর কোন উপায় নেই। অতীতের ভুল করছে। হয়তো বাকশাল নেই। কিন্তু কাজগুলো বাকশালের চেয়ে খারাপ।
খসরু বলেন, এই পিচ্ছিল পথে আর যাবেন না। অতীতে এই পিচ্চিল পথে গিয়ে আপনাদের উচ্চমূল্য দিতে হয়েছে। সামনে সেই পথে গেলে আরো বেশি উচ্চমূল্য দিতে হবে।
‘দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। ২০১৮ সাল হবে গনতন্ত্রের বছর, নাগরিক অধিকার ফিরে পাওয়ার বছর, দেশের মানুষের স্বাধীনতার বছর। মানুষের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না। নয়তো উচ্চমূল্য দিতে হবে’-বলেন খসরু।
তিনি আরো বলেন, রংপুর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট কমেছে ৬০ শতাংশ, বিএনপির বেড়েছে ৪০ শতাংশ। সারা দেশে আওয়ামী লীগ একটি সিটও জিতে কিনা আমার সন্দেহ। সেটা তো জাতীয় পার্টির পকেট। বিষয়টি হলো জনগণের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। সেটার প্রতিফলন আগামী নির্বাচনে ঘটবে। যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় বিএনপি শুধু জিতবে তা নয়, বিশাল ব্যবধানে জিতবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রাজনীতি মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বায়নের কারণে আমরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল তা ঠিক। তাই আমাদের পর্শ্ববর্তী দেশের ভাবনা, ও অবদান মাথায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, সার্কভুক্ত দেশ কিংবা, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অন্য দেশের সাথে বাংলাদেশের সাথে একটি মানদণ্ড হতে হবে, আর তা হলো এই দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক, নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারছে কিনা বা মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে কিনা দেখতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশের সাথে পাশবর্তী দেশের সম্পর্ক প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এতে এ দেশের গণতন্ত্রের যে ঘাটতি সেটা পূরণ করবে সন্ত্রাসীরা, জঙ্গিরা। ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তির মধ্যে একটি হলো এ অঞ্চলের নিরাপত্তা। এতে শুধু এ দেশ নয়, পার্শ্ববর্তীদেশও ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতির অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















