ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তরুণরা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রধান শক্তি: ড. আতিউর রহমান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

“আমরা বাংলাদেশকে একটি উচ্চ আয়ের দেশ হিসেবে দেখতে চাই, যার ডিডিপি প্রবৃদ্ধির হার হবে দুই অঙ্কের, থাকবে না কোন ক্ষুধা বা দারিদ্র্য। এমন সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তারুণ্য হবে অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি” বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

গতকাল (০৯ ডিসেম্বর ২০১৭) ফিফথ নিউ জেনারেশন সেমিনার-২০১৭ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সেমিনারটি আয়োজন করেছিলো রোটারি ক্লাব অফ ঢাকা বুড়িগঙ্গা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফিরোজ আহমেদ এবং সভাপতিত্ব করেন রোটারিয়ান ড. রুবিনা হুসাইন।

ড. আতিউর বলেন যে বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বাংলাদেশের পক্ষে রয়েছে (অর্থাৎ মোট জনবলের বড় অংশটিই অপেক্ষাকৃত তরুণ)। কিন্তু জনবলের বড় অংশ তরুণ হওয়াই যথেষ্ট নয়। এই তরুণ জন সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য উদ্যোক্তা তৈরি করা, নেতৃত্ব উৎসাহিত করা, তরুণদের মধ্যে কার্যকর দক্ষতা তৈরি করা এবং তাদের যথাযথ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা দরকার।

বর্তমান সময়ে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনায় ড. আতিউর বলেন, “আজকের নেতাদের অবশ্যই নতুন ধরনের মানব সম্পদের ব্যবস্থাপনা এবং তাদের দিক নির্দেশনা দেয়ার মতো যোগ্য হতে হবে। এই নতুন ধরনের মানব সম্পদ আগের তুলনায় অনেক বেশি গতিশীল, দলগতভাবে কাজ করতে অভ্যস্ত, প্রযুক্তি নির্ভর, এবং সর্বোপরি সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্রময়। পাশাপাশি আজকের কর্মীরা চিন্তায় চেতনায় বহুগুণে আন্তর্জাতিক।”

তিনি আরও বলেন যে নতুন নেতা ও উদ্যোক্তাদের নয়া অর্থনীতিতে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে প্রথাগত সীমানাগুলো ভেঙে পড়েছে, পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনীতির ধারণাতেও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে মানব সম্পদ উন্নয়ন করতে হবে যাতে তার মধ্যমে নতুন চাহিদাগুলো দক্ষতার সাথে এবং কার্যকরভাবে মেটানো যায়। বাংলাদেশে খুব দ্রুত ডিজিটাল প্রযুক্তিগুলো আত্মিকৃত হয়েছে এবং ব্যবসার ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ সরকারি ও ব্যক্তি খাতে যুক্ত থাকা উদ্যোগি ও সৃজনশীল তরুণরা বলে মনে করেন ড. আতিউর।

যথাযথ কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রসঙ্গে ড. আতিউর বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন যে, কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার কম হওয়ার পরও আমাদের দেশের মোট গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশের কারগরি ডিগ্রী রয়েছে। বক্তব্যের শেষ ভাগে তিনি দেশের তরুণ কর্মী বাহিনীর শক্তিকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য সরকার, শিল্প/সেবা খাত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠনগুলোকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণরা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রধান শক্তি: ড. আতিউর রহমান

আপডেট সময় ১১:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

“আমরা বাংলাদেশকে একটি উচ্চ আয়ের দেশ হিসেবে দেখতে চাই, যার ডিডিপি প্রবৃদ্ধির হার হবে দুই অঙ্কের, থাকবে না কোন ক্ষুধা বা দারিদ্র্য। এমন সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তারুণ্য হবে অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি” বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

গতকাল (০৯ ডিসেম্বর ২০১৭) ফিফথ নিউ জেনারেশন সেমিনার-২০১৭ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সেমিনারটি আয়োজন করেছিলো রোটারি ক্লাব অফ ঢাকা বুড়িগঙ্গা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফিরোজ আহমেদ এবং সভাপতিত্ব করেন রোটারিয়ান ড. রুবিনা হুসাইন।

ড. আতিউর বলেন যে বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বাংলাদেশের পক্ষে রয়েছে (অর্থাৎ মোট জনবলের বড় অংশটিই অপেক্ষাকৃত তরুণ)। কিন্তু জনবলের বড় অংশ তরুণ হওয়াই যথেষ্ট নয়। এই তরুণ জন সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য উদ্যোক্তা তৈরি করা, নেতৃত্ব উৎসাহিত করা, তরুণদের মধ্যে কার্যকর দক্ষতা তৈরি করা এবং তাদের যথাযথ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা দরকার।

বর্তমান সময়ে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনায় ড. আতিউর বলেন, “আজকের নেতাদের অবশ্যই নতুন ধরনের মানব সম্পদের ব্যবস্থাপনা এবং তাদের দিক নির্দেশনা দেয়ার মতো যোগ্য হতে হবে। এই নতুন ধরনের মানব সম্পদ আগের তুলনায় অনেক বেশি গতিশীল, দলগতভাবে কাজ করতে অভ্যস্ত, প্রযুক্তি নির্ভর, এবং সর্বোপরি সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্রময়। পাশাপাশি আজকের কর্মীরা চিন্তায় চেতনায় বহুগুণে আন্তর্জাতিক।”

তিনি আরও বলেন যে নতুন নেতা ও উদ্যোক্তাদের নয়া অর্থনীতিতে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে প্রথাগত সীমানাগুলো ভেঙে পড়েছে, পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনীতির ধারণাতেও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে মানব সম্পদ উন্নয়ন করতে হবে যাতে তার মধ্যমে নতুন চাহিদাগুলো দক্ষতার সাথে এবং কার্যকরভাবে মেটানো যায়। বাংলাদেশে খুব দ্রুত ডিজিটাল প্রযুক্তিগুলো আত্মিকৃত হয়েছে এবং ব্যবসার ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ সরকারি ও ব্যক্তি খাতে যুক্ত থাকা উদ্যোগি ও সৃজনশীল তরুণরা বলে মনে করেন ড. আতিউর।

যথাযথ কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রসঙ্গে ড. আতিউর বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন যে, কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার কম হওয়ার পরও আমাদের দেশের মোট গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশের কারগরি ডিগ্রী রয়েছে। বক্তব্যের শেষ ভাগে তিনি দেশের তরুণ কর্মী বাহিনীর শক্তিকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য সরকার, শিল্প/সেবা খাত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠনগুলোকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।