ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্যক্তি না হলেও দায়িত্বে আমরা নিরপেক্ষ: সিইসি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘ব্যক্তি হিসেবে আমরা নিরপেক্ষ না থাকতে পারি, কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমাদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে। যখন আমরা কোনো দায়িত্ব পালন করি তখন আর আমাদের কোনো পক্ষ থাকে না।’

রবিবার নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে সিইসি এসব কথা বলেন। রংপুর সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের কিছু নির্বাচন নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর। নির্বাচন কর্মকর্তারা আপনাদের সাহায্য, সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। এর বাইরে কোনো কিছু নেই।’

কেএম নূরুল হুদা বলেন, ‘একজন ভোটার ভোট দিতে যেতে পারবেন। তিনি কোনো বাধার সম্মুখীন হবেন না। যাতে ইচ্ছা তাকে ভোট দিতে পারবেন এবং ভোট দিয়ে তিনি আবার নিরাপদে বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন। এর মধ্যে তিনি কোথাও বাধার সম্মুখীন হবেন না। অবাধে যেতে পারবেন, কেউ বাধা দেবে না।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, ‘একটি বিষয়ে সতর্ক করে বলতে চাই, আপনারা যেমন সাহায্য সহযোগিতা করেন। আবার যদি কেউ ব্যত্যয় ঘটায়, যদি তার দায়িত্ব পালন না করেন, গাফিলতি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তাহলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আমাদের হাতে যে আইন আছে, সরকার যে আইন আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে সেই আইনে প্রত্যেকের দায়িত্ব নির্ধারিত আছে। সেই নির্ধারিত দায়িত্বের ব্যত্যয় কেউ করলে আমরা আইনের মাধ্যমেই তার ব্যবস্থা নেব। কমিশন এই ব্যাপারে এতোটুকু আপস করবে না।’

সিইসি বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে তাতে আমরা খুব খুশি। আমাদের লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া। আর এটা প্রকাশ হবে আমাদের নির্বাচনী যে অঙ্গীকার, নির্বাচনে আপনাদের যে ভূমিকা তার সফল বাস্তবায়ন হবে এটা আপনাদের কাছে আমরা প্রত্যাশা করি। নির্বাচন অবাধ হবে, গ্রহণযোগ্য হবে, বিশ্বাসযোগ্য হবে এবং স্বচ্ছ হবে।’

নূরুল হুদা বলেন, ‘স্বচ্ছতা বলতে আমাদের কর্মকাণ্ডগুলো পরিষ্কার করা, দৃশ্যমান করা। আমাদের কোনো কাজ গোপন নয়। গোপন শুধু গোপন ভোটকক্ষে গিয়ে ভোটারদের ভোট দেয়া। তারা এটা ভোটারদের বিষয় তারা কাকে ভোট দেবে। এছাড়া নির্বাচন কর্মকাণ্ডে আপনার আমার সব কাজ সবাই দেখতে পারবে, বুঝতে পারবে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কোনো বাধা ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং ভোট দিয়ে তারা নিরাপদে বাসায় যাবে এটা নিশ্চিত করতে হবে। সব প্রার্থী যাতে সমান সুযোগ পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।’

সিইসি আরও বলেন, ‘ভোট গণনার সময় যাদের দেখার দরকার তারা দেখবেন। তাছাড়া ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু সময় ব্যালট পেপার ও বাক্স সবাই দেখবে যাতে কারো কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’

সুষ্ঠু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রে কোনো রকম ঝামেলা হবে না। কোনো রকমের হাঙ্গামা হবে না। ভোট দিতে কাউকে বাধা দেয়া হবে না এবং সেখানে যে ভোটাররা যাবেন তারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যক্তি না হলেও দায়িত্বে আমরা নিরপেক্ষ: সিইসি

আপডেট সময় ১১:১৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘ব্যক্তি হিসেবে আমরা নিরপেক্ষ না থাকতে পারি, কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমাদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে। যখন আমরা কোনো দায়িত্ব পালন করি তখন আর আমাদের কোনো পক্ষ থাকে না।’

রবিবার নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে সিইসি এসব কথা বলেন। রংপুর সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের কিছু নির্বাচন নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর। নির্বাচন কর্মকর্তারা আপনাদের সাহায্য, সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। এর বাইরে কোনো কিছু নেই।’

কেএম নূরুল হুদা বলেন, ‘একজন ভোটার ভোট দিতে যেতে পারবেন। তিনি কোনো বাধার সম্মুখীন হবেন না। যাতে ইচ্ছা তাকে ভোট দিতে পারবেন এবং ভোট দিয়ে তিনি আবার নিরাপদে বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন। এর মধ্যে তিনি কোথাও বাধার সম্মুখীন হবেন না। অবাধে যেতে পারবেন, কেউ বাধা দেবে না।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, ‘একটি বিষয়ে সতর্ক করে বলতে চাই, আপনারা যেমন সাহায্য সহযোগিতা করেন। আবার যদি কেউ ব্যত্যয় ঘটায়, যদি তার দায়িত্ব পালন না করেন, গাফিলতি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তাহলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আমাদের হাতে যে আইন আছে, সরকার যে আইন আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে সেই আইনে প্রত্যেকের দায়িত্ব নির্ধারিত আছে। সেই নির্ধারিত দায়িত্বের ব্যত্যয় কেউ করলে আমরা আইনের মাধ্যমেই তার ব্যবস্থা নেব। কমিশন এই ব্যাপারে এতোটুকু আপস করবে না।’

সিইসি বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে তাতে আমরা খুব খুশি। আমাদের লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া। আর এটা প্রকাশ হবে আমাদের নির্বাচনী যে অঙ্গীকার, নির্বাচনে আপনাদের যে ভূমিকা তার সফল বাস্তবায়ন হবে এটা আপনাদের কাছে আমরা প্রত্যাশা করি। নির্বাচন অবাধ হবে, গ্রহণযোগ্য হবে, বিশ্বাসযোগ্য হবে এবং স্বচ্ছ হবে।’

নূরুল হুদা বলেন, ‘স্বচ্ছতা বলতে আমাদের কর্মকাণ্ডগুলো পরিষ্কার করা, দৃশ্যমান করা। আমাদের কোনো কাজ গোপন নয়। গোপন শুধু গোপন ভোটকক্ষে গিয়ে ভোটারদের ভোট দেয়া। তারা এটা ভোটারদের বিষয় তারা কাকে ভোট দেবে। এছাড়া নির্বাচন কর্মকাণ্ডে আপনার আমার সব কাজ সবাই দেখতে পারবে, বুঝতে পারবে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কোনো বাধা ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং ভোট দিয়ে তারা নিরাপদে বাসায় যাবে এটা নিশ্চিত করতে হবে। সব প্রার্থী যাতে সমান সুযোগ পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।’

সিইসি আরও বলেন, ‘ভোট গণনার সময় যাদের দেখার দরকার তারা দেখবেন। তাছাড়া ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু সময় ব্যালট পেপার ও বাক্স সবাই দেখবে যাতে কারো কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’

সুষ্ঠু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রে কোনো রকম ঝামেলা হবে না। কোনো রকমের হাঙ্গামা হবে না। ভোট দিতে কাউকে বাধা দেয়া হবে না এবং সেখানে যে ভোটাররা যাবেন তারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা।’