ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশেই চীন: চীনা মন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘে দুই বার বাংলাদেশের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিলেও চীন বাংলাদেশের পাশেই আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুন। আর চীনা সহযোগিতা পেলে এই সংকট থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে জানিয়ছেন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা।

রাজধানীতে একটি হোটেলে বাংলাদেশে তিন দিনের সরকারি সফরে আসা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১৯ তম জাতীয় কংগ্রেস আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ইয়াজুন এ কথা বলেন। চীনা সহকারী মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা যে কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমাদের সহযোগিতার দরজা সবসময় খোলা থাকবে। কারণ আমরা চাই আমাদের প্রতিবেশীরা সবসময় ভালো থাকুক।’

মিয়ানমারের সেনা অভিযানের ‍মুখে ১৯৭৮ সাল থেকেই নানা সময় বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। তবে চলতি বছর শরণার্থীদের সবচেয়ে বড় ঢল নামে। গত তিন মাসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে দেশে এসেছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান বিশ্বজুড়েই আলোচনা তৈরি করেছে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে এই সংকট সমাধানের তাগিদ দিয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিষয়টি জাতিসংঘে তুলে ধরেছেন।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ করা এবং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে গত ১৬ নভেম্বর জাতিসংঘে পাস হয় বাংলাদেশের তোলা একটি প্রস্তাব। প্রস্তাবের পক্ষে ১৩৫টি এবং বিপক্ষে ১০টি ভোট পড়ে। যারা বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল তাদের মধ্যে আছে চীন। ৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশের তোলা আরও একটি প্রস্তাব পাস হয়। এই প্রস্তাবে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট পড়ে ৩৩টি এবং বিপক্ষে পড়ে তিনটি। এই তিনটি দেশের মধ্যেও একটি চীন।

বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে বেড়েছে। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় রয়েছে বলে বাংলাদেশ সফর করে বলে গেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। এরপরও চীনের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশে সমালোচনা আছে। চীন রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে চায় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। এ কারণেই দেশটি মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে।

তবে চীনা সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় চীন। ইতমধ্যে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন। এতে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার যে শান্তিপূর্ণ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এটাতে আমরা খুশি। বাংলাদেশ সঠিক পথেই আছে। দুই দেশের মধ্যে সংকট সমাধানে চুক্তি সাক্ষরিত হওয়ায় আমরা আনন্দিত।’

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি করছে, সে দিকেও সচেতন খাতার কথা জানিয়েছেন চীনা নেতা। বলেন, ‘বাংলাদেশ সব ক্ষেত্রেই ভালো অবস্থানে আছে। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা সামাজিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে এবং পরিবেশগতভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে। সব ক্ষেত্রেই তাদের ক্ষতি হয়েছে। আমরা এতে উদ্বিগ্ন। তাই আমরা চাই এই সংকটের সমাধান হোক।’

সম্পদের চেয়ে প্রতিবেশীর শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান আমাদের কাছে অনেক বেশি গুরত্বপূর্ণ। আমরা চাই এই অঞ্চলে শান্তি বিরাজ করুক, এতে আমরা খুশি হই। শুধু বাংলাদেশ-মিয়ানমার নয় সব প্রতিবেশী ভালো থাকুক এটাই আমাদের কাম্য। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত গঠন করা ছাড়াও মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সই হয়েছে সমঝোতা স্মারক। আর দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে আশাবাদী ঢাকা।

বাংলাদেশের অবস্থানের প্রশংসা করে চীনা সহকারী মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরত্ব বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেন দুই দেশের মধ্যে সমস্যা সমাধানের সহায়ক হয়। যেহেতু এটা খুব বড় ধরনের সমস্যা তাই সমাধানে সময় লাগতে পারে। এটা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।’

আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন যদি তাদের পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় আমরা খুব সহসাই সমাধানের পথ খুঁজে পাব। চীন বাংলাদেশের খুব ভালো বন্ধু। তারা অবশ্যই সমাধানের উদ্যেগ নেবেন।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিং চিয়াং। আওয়ামী লীগের আমন্ত্রনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে তিন দিনের সরকারী সফরে রয়েছে। চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মহাপরিচালক জাং সুয়ে, পরিচালক হু জিয়াওদং, তান উই ও মি এবং ফু উইরাং।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশেই চীন: চীনা মন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:৫২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘে দুই বার বাংলাদেশের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিলেও চীন বাংলাদেশের পাশেই আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুন। আর চীনা সহযোগিতা পেলে এই সংকট থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে জানিয়ছেন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা।

রাজধানীতে একটি হোটেলে বাংলাদেশে তিন দিনের সরকারি সফরে আসা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১৯ তম জাতীয় কংগ্রেস আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ইয়াজুন এ কথা বলেন। চীনা সহকারী মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা যে কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমাদের সহযোগিতার দরজা সবসময় খোলা থাকবে। কারণ আমরা চাই আমাদের প্রতিবেশীরা সবসময় ভালো থাকুক।’

মিয়ানমারের সেনা অভিযানের ‍মুখে ১৯৭৮ সাল থেকেই নানা সময় বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। তবে চলতি বছর শরণার্থীদের সবচেয়ে বড় ঢল নামে। গত তিন মাসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে দেশে এসেছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান বিশ্বজুড়েই আলোচনা তৈরি করেছে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে এই সংকট সমাধানের তাগিদ দিয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিষয়টি জাতিসংঘে তুলে ধরেছেন।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ করা এবং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে গত ১৬ নভেম্বর জাতিসংঘে পাস হয় বাংলাদেশের তোলা একটি প্রস্তাব। প্রস্তাবের পক্ষে ১৩৫টি এবং বিপক্ষে ১০টি ভোট পড়ে। যারা বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল তাদের মধ্যে আছে চীন। ৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশের তোলা আরও একটি প্রস্তাব পাস হয়। এই প্রস্তাবে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট পড়ে ৩৩টি এবং বিপক্ষে পড়ে তিনটি। এই তিনটি দেশের মধ্যেও একটি চীন।

বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে বেড়েছে। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় রয়েছে বলে বাংলাদেশ সফর করে বলে গেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। এরপরও চীনের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশে সমালোচনা আছে। চীন রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে চায় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। এ কারণেই দেশটি মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে।

তবে চীনা সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় চীন। ইতমধ্যে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন। এতে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার যে শান্তিপূর্ণ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এটাতে আমরা খুশি। বাংলাদেশ সঠিক পথেই আছে। দুই দেশের মধ্যে সংকট সমাধানে চুক্তি সাক্ষরিত হওয়ায় আমরা আনন্দিত।’

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি করছে, সে দিকেও সচেতন খাতার কথা জানিয়েছেন চীনা নেতা। বলেন, ‘বাংলাদেশ সব ক্ষেত্রেই ভালো অবস্থানে আছে। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা সামাজিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে এবং পরিবেশগতভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে। সব ক্ষেত্রেই তাদের ক্ষতি হয়েছে। আমরা এতে উদ্বিগ্ন। তাই আমরা চাই এই সংকটের সমাধান হোক।’

সম্পদের চেয়ে প্রতিবেশীর শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান আমাদের কাছে অনেক বেশি গুরত্বপূর্ণ। আমরা চাই এই অঞ্চলে শান্তি বিরাজ করুক, এতে আমরা খুশি হই। শুধু বাংলাদেশ-মিয়ানমার নয় সব প্রতিবেশী ভালো থাকুক এটাই আমাদের কাম্য। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত গঠন করা ছাড়াও মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সই হয়েছে সমঝোতা স্মারক। আর দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে আশাবাদী ঢাকা।

বাংলাদেশের অবস্থানের প্রশংসা করে চীনা সহকারী মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরত্ব বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেন দুই দেশের মধ্যে সমস্যা সমাধানের সহায়ক হয়। যেহেতু এটা খুব বড় ধরনের সমস্যা তাই সমাধানে সময় লাগতে পারে। এটা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।’

আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন যদি তাদের পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় আমরা খুব সহসাই সমাধানের পথ খুঁজে পাব। চীন বাংলাদেশের খুব ভালো বন্ধু। তারা অবশ্যই সমাধানের উদ্যেগ নেবেন।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিং চিয়াং। আওয়ামী লীগের আমন্ত্রনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে তিন দিনের সরকারী সফরে রয়েছে। চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মহাপরিচালক জাং সুয়ে, পরিচালক হু জিয়াওদং, তান উই ও মি এবং ফু উইরাং।