ঢাকা ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের কথা শুনে বিচলিত হয়ে পড়েন পোপ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কথা শুনে বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। তিনি রোহিঙ্গাদের ধৈর্য ধরতে এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে বলেন। একইসঙ্গে তাদের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাবেন বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। ঢাকায় পোপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা রোহিঙ্গারা এসব কথা বলেন।

পোপের ঢাকা সফরে গত শুক্রবার রাজধানীতে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ১৫ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদল। কক্সবাজারে ফেরার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসে তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।

পোপের সাক্ষাৎ পাওয়া রোহিঙ্গা সর্দার আয়ুব আলী মাঝি বলেন, ‘ওইদিন আমরা ১৫ জন নারী-পুরুষ পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে দেখা করতে যাই। তিনি প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। আমাদের কথা পোপকে এক ব্যক্তি বুঝিয়ে দেন। সব শুনে পোপ বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি আমাদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন; আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে বলেন।’

আয়ুব মাঝি আরও বলেন, ‘আমরা যখন সাক্ষাতের জন্য পোপের সামনে দাঁড়াই, তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলাম না। এ সময় পাশে উপস্থিত অনেকেই কেঁদে ফেলেন। এমনকি বাংলাদেশের রাজার (রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ) চোখেও পানি ছলছল করছিল।’

প্রতিনিধি দলের আরেক সদস্য রোহিঙ্গা সর্দার লালু মাঝি বলেন, ‘পোপের সঙ্গে দেখা করে আমাদের অধিকারের কথা বলেছি। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের কথা বলেছি। মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিকত্ব এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পেলে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার কথাও বলেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পোপ আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলে সঠিক সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। পোপের কথা শুনে এবং তার সঙ্গে দেখা করার পর আমাদের খুব ভাল লেগেছে। আমরা বিশ্বাস করি, একদিন না একদিন শান্তিপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবো।’

শুধু আয়ুব মাঝি ও লালু মাঝিই নন; পোপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন রোহিঙ্গা ফয়েজ আহমদ মাঝি, জাফর আলম, হাজেরা খাতুনসহ ১৫ জন। তারা প্রত্যেকেই তাদের দুর্দশার কথা পোপকে বলেছেন। যেকোনও উপায়ে দেশে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য তার কাছে সহায়তা চেয়েছেন। চেয়েছেন নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা।

গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নিধনযজ্ঞ শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ছয় লাখ ৩৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘প্রামাণ্য উদাহরণ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। সম্প্রতি একে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বলেছে যুক্তরাষ্ট্রও।সব মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

বাংলাদেশ আসার আগে মিয়ানমার সফর করেন পোপ ফ্রান্সিস। মিয়ানমারে তিনি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ না করে সব জাতিগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশে এসে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের কথা শুনে বিচলিত হয়ে পড়েন পোপ

আপডেট সময় ০৭:১৬:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কথা শুনে বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। তিনি রোহিঙ্গাদের ধৈর্য ধরতে এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে বলেন। একইসঙ্গে তাদের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাবেন বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। ঢাকায় পোপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা রোহিঙ্গারা এসব কথা বলেন।

পোপের ঢাকা সফরে গত শুক্রবার রাজধানীতে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ১৫ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদল। কক্সবাজারে ফেরার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসে তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।

পোপের সাক্ষাৎ পাওয়া রোহিঙ্গা সর্দার আয়ুব আলী মাঝি বলেন, ‘ওইদিন আমরা ১৫ জন নারী-পুরুষ পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে দেখা করতে যাই। তিনি প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। আমাদের কথা পোপকে এক ব্যক্তি বুঝিয়ে দেন। সব শুনে পোপ বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি আমাদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন; আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে বলেন।’

আয়ুব মাঝি আরও বলেন, ‘আমরা যখন সাক্ষাতের জন্য পোপের সামনে দাঁড়াই, তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলাম না। এ সময় পাশে উপস্থিত অনেকেই কেঁদে ফেলেন। এমনকি বাংলাদেশের রাজার (রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ) চোখেও পানি ছলছল করছিল।’

প্রতিনিধি দলের আরেক সদস্য রোহিঙ্গা সর্দার লালু মাঝি বলেন, ‘পোপের সঙ্গে দেখা করে আমাদের অধিকারের কথা বলেছি। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের কথা বলেছি। মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিকত্ব এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পেলে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার কথাও বলেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পোপ আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলে সঠিক সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। পোপের কথা শুনে এবং তার সঙ্গে দেখা করার পর আমাদের খুব ভাল লেগেছে। আমরা বিশ্বাস করি, একদিন না একদিন শান্তিপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবো।’

শুধু আয়ুব মাঝি ও লালু মাঝিই নন; পোপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন রোহিঙ্গা ফয়েজ আহমদ মাঝি, জাফর আলম, হাজেরা খাতুনসহ ১৫ জন। তারা প্রত্যেকেই তাদের দুর্দশার কথা পোপকে বলেছেন। যেকোনও উপায়ে দেশে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য তার কাছে সহায়তা চেয়েছেন। চেয়েছেন নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা।

গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নিধনযজ্ঞ শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ছয় লাখ ৩৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘প্রামাণ্য উদাহরণ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। সম্প্রতি একে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বলেছে যুক্তরাষ্ট্রও।সব মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

বাংলাদেশ আসার আগে মিয়ানমার সফর করেন পোপ ফ্রান্সিস। মিয়ানমারে তিনি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ না করে সব জাতিগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশে এসে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেন তিনি।