ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

নিয়ম না মেনে ভবন নির্মাণে রাজউকের সবাই অন্ধ: পূর্তমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভূমিদস্যুরা শহরের নিম্নাঞ্চল ভরাট করছে বলে অভিযোগ করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আপনারা ভূমিদস্যুদের নিয়ে লেখেন। আমিও দেখছি তাদের (ভূমিদস্যু) কীভাবে কী করা যায়।’

মন্ত্রী রাজউকের সমালোচনা করে বলেন, ‘রাজউকের বিধান আছে ফুটপাত থেকে পাঁচ ফিট ছেড়ে ভবন নির্মাণের। কিন্তু ৯৮ শতাংশ ভবন সেই নিয়ম মানে না। তবুও রাজউক অথরিটি চুপ। আবাসিক এলাকায় রাজউকের লোকদের সামনে বাণিজ্য স্থাপনা হচ্ছে। কী কারণে যেন সবাই অন্ধ হয়ে যায়। এরপর ভাঙার জন্য চেষ্টা করে তবুও পারে না। কিন্তু স্থাপনা নির্মাণ করার সময় কেউ কিছু বলে না।’

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এই কথা বলেন। প্রয়াত সাংবাদিক এম ওমর ফারুকের স্মরণসভা ও পরিবারকে চেক হস্তান্তর উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন খাল-বিল বেদখল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, সেগুলো উদ্ধার করতে গেলে সরকারকে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। বাধা আসে আদালত থেকেও।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিএস খতিয়ান দেখে ড্রেজার লাগিয়ে দিই। সেখানে কে কী স্থাপনা করেছে সেটা আমার দেখার কথা না। কিন্তু, এখন হাইকোর্টে গেলে দেখা যায় স্টে (স্থগিতাদেশ) করে দেয়। স্যরি, আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি―মনে হয় যেন আদালতে আমাদের মাননীয় বিচারপতিরা বসে আছেন স্থগিতাদেশ দেয়ার জন্য।’

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নগর নিয়ে যেসব সাংবাদিক কাজ করেন, তাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। আপনাদের (সাংবাদিক) থেকে কিছু চাপ থাকলে সরকার ও মন্ত্রীদের চোখে পড়বে। তাহলে নগরের উন্নয়ন হবে। নগরকে সুস্থ পরিবেশে ফরিয়ে আনতে সাংবাদিকদের লেখা উচিত। সরকার ও মন্ত্রীদের চোখে নাগরিক সমস্যা দেখানোর দায়িত্ব সাংবাদিকদের।’

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিজেরাই ফুটপাত, পার্ক নোংরা করছি। আমরা নিজেরাই নোংরা। কিন্তু বিদেশে গেলে আমরা এসব করতে পারি না।’ নদী দখল ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বে অনেক শহরের নদী ময়লা ছিল, তা এখন দর্শনার্থী স্থলে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আমাদের তুরাগ ও বালু নদীর পাশে গন্ধের কারণে পাঁচ মিনিট দাঁড়ানো যায় না।’

নগর পরিকল্পনাবিদদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা প্লান করছেন তাদেরকে ভবিষ্যৎ চিন্তা করে প্লান করতে হবে। স্যুয়ারেজ সিস্টেম আলাদা করতে না পারলে সমস্যা থেকে যাবে। স্যুয়ারেজ পাইপ কোথায় গেল তা দেখার কেউ নেই। এভাবে হলে কোনোদিন নগর সুন্দর হবে না।’ তিনি বলেন, ‘উত্তরায় ১৫ হাজার হাউজিং ও পূর্বাচলের ৭০ হাজার হাউজিংয়ের স্যুয়ারেক প্লান নিজেরাই করছেন। সেখানে ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভর করবো না।’

অনুষ্ঠানে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত এম ওমর ফারুকের পরিবারের মধ্যে অর্থসহায়তা চেক হস্তান্তর করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি অমিতোষ পালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মতিন আব্দুল্লাহর পরিচালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ হারুণ অর রশিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন, রাজউকের ডিটেইল এরিয়া প্লানের (ড্যাপ) প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা স. ম. গোলাম কিবরিয়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, স্বেচ্ছাসেবক লীগের পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আবুল ফজল রাজু, প্রয়াত সাংবাদিক এম ওমর ফারুকের স্ত্রী সানজিদা শওকত প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়ম না মেনে ভবন নির্মাণে রাজউকের সবাই অন্ধ: পূর্তমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:৩৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভূমিদস্যুরা শহরের নিম্নাঞ্চল ভরাট করছে বলে অভিযোগ করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আপনারা ভূমিদস্যুদের নিয়ে লেখেন। আমিও দেখছি তাদের (ভূমিদস্যু) কীভাবে কী করা যায়।’

মন্ত্রী রাজউকের সমালোচনা করে বলেন, ‘রাজউকের বিধান আছে ফুটপাত থেকে পাঁচ ফিট ছেড়ে ভবন নির্মাণের। কিন্তু ৯৮ শতাংশ ভবন সেই নিয়ম মানে না। তবুও রাজউক অথরিটি চুপ। আবাসিক এলাকায় রাজউকের লোকদের সামনে বাণিজ্য স্থাপনা হচ্ছে। কী কারণে যেন সবাই অন্ধ হয়ে যায়। এরপর ভাঙার জন্য চেষ্টা করে তবুও পারে না। কিন্তু স্থাপনা নির্মাণ করার সময় কেউ কিছু বলে না।’

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এই কথা বলেন। প্রয়াত সাংবাদিক এম ওমর ফারুকের স্মরণসভা ও পরিবারকে চেক হস্তান্তর উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন খাল-বিল বেদখল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, সেগুলো উদ্ধার করতে গেলে সরকারকে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। বাধা আসে আদালত থেকেও।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিএস খতিয়ান দেখে ড্রেজার লাগিয়ে দিই। সেখানে কে কী স্থাপনা করেছে সেটা আমার দেখার কথা না। কিন্তু, এখন হাইকোর্টে গেলে দেখা যায় স্টে (স্থগিতাদেশ) করে দেয়। স্যরি, আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি―মনে হয় যেন আদালতে আমাদের মাননীয় বিচারপতিরা বসে আছেন স্থগিতাদেশ দেয়ার জন্য।’

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নগর নিয়ে যেসব সাংবাদিক কাজ করেন, তাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। আপনাদের (সাংবাদিক) থেকে কিছু চাপ থাকলে সরকার ও মন্ত্রীদের চোখে পড়বে। তাহলে নগরের উন্নয়ন হবে। নগরকে সুস্থ পরিবেশে ফরিয়ে আনতে সাংবাদিকদের লেখা উচিত। সরকার ও মন্ত্রীদের চোখে নাগরিক সমস্যা দেখানোর দায়িত্ব সাংবাদিকদের।’

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিজেরাই ফুটপাত, পার্ক নোংরা করছি। আমরা নিজেরাই নোংরা। কিন্তু বিদেশে গেলে আমরা এসব করতে পারি না।’ নদী দখল ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বে অনেক শহরের নদী ময়লা ছিল, তা এখন দর্শনার্থী স্থলে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আমাদের তুরাগ ও বালু নদীর পাশে গন্ধের কারণে পাঁচ মিনিট দাঁড়ানো যায় না।’

নগর পরিকল্পনাবিদদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা প্লান করছেন তাদেরকে ভবিষ্যৎ চিন্তা করে প্লান করতে হবে। স্যুয়ারেজ সিস্টেম আলাদা করতে না পারলে সমস্যা থেকে যাবে। স্যুয়ারেজ পাইপ কোথায় গেল তা দেখার কেউ নেই। এভাবে হলে কোনোদিন নগর সুন্দর হবে না।’ তিনি বলেন, ‘উত্তরায় ১৫ হাজার হাউজিং ও পূর্বাচলের ৭০ হাজার হাউজিংয়ের স্যুয়ারেক প্লান নিজেরাই করছেন। সেখানে ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভর করবো না।’

অনুষ্ঠানে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত এম ওমর ফারুকের পরিবারের মধ্যে অর্থসহায়তা চেক হস্তান্তর করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি অমিতোষ পালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মতিন আব্দুল্লাহর পরিচালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ হারুণ অর রশিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন, রাজউকের ডিটেইল এরিয়া প্লানের (ড্যাপ) প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা স. ম. গোলাম কিবরিয়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, স্বেচ্ছাসেবক লীগের পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আবুল ফজল রাজু, প্রয়াত সাংবাদিক এম ওমর ফারুকের স্ত্রী সানজিদা শওকত প্রমুখ।