ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চুক্তি স্বাক্ষরই শেষ নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সমঝোতা চুক্তি সইয়ের মধ্যেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি শেষ হয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। তিনি বলেছেন, এ নিয়ে ভয় নয়, প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী দূত সম্মেলনের শেষ দিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপ এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত থাকবে। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিরসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে সেটা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি আমরা।’

এটাকে একটা চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এই রকম নয় যে, চুক্তি স্বাক্ষর করলাম, আর শেষ হয়ে গেল। এটা বাস্তবায়নে নানা রকম চড়াই-উতরাই থাকবে। এতে ভয় পেলে চলবে না, আমাদের কাজ আমরা চালিয়ে যাব।’

বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়া মিযানমারের রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারে সে দেশের স্টেট কাউন্সিলর সু চির দপ্তরে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পারসন্স ফ্রম রাখাইন স্টেট’ শীর্ষক সমঝোতা চুক্তিতে সেই করে। এই চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হয়নি বলে দাবি করছেন বিএনপির নেতারা।

গোটা পৃথিবী মিয়ানমারকে চাপ দিতে বাংলাদেশকে সমর্থন করছে বলে দাবি করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় মনে হতে পারে কেউ কেউ আমাদের বিরোধিতা করছে। ব্যাপারটা ভুল। সবার সমর্থনের যে প্রকৃতি সেটা জাতিসংঘের সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিষদের যে বৈঠক হয়েছিল তাতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। সবাই কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট সমর্থন করেছে।’

মিয়ানমারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিষয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দলের কাজ হচ্ছে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা। কিন্তু সেটা না করে, না জেনেশুনে, না পড়ে বলছে দেশ বিক্রি করে দিল। এটা তো দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক বিষয়ে সব সময় বিরোধী দলের উচিত দেশের পক্ষে সমর্থন দেওয়া।’

মিয়ানমারের সঙ্গে করা সমঝোতা চুক্তিটি সবাইকে পড়ার অনুরোধ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দয়া করে না দেখে শুনে নিন্দা করবেন না, এটা ঠিক না। কেউ যদি আলাদাভাবে চায় আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দিয়ে দিব। এটা সবার পড়া দরকার এবং এটার মধ্যে কী আছে সেটা সবার জানা দরকার।’

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দূত সম্মেলনের সমাপনী আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক।

দূত সম্মেলনের তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে এ সম্মেলন। রবিবার ‘জনগণ ও শান্তির জন্য কূটনীতি’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ সম্মেলনে ৫৮ দেশে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও আবাসিক প্রতিনিধিরা বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চুক্তি স্বাক্ষরই শেষ নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:১০:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সমঝোতা চুক্তি সইয়ের মধ্যেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি শেষ হয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। তিনি বলেছেন, এ নিয়ে ভয় নয়, প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী দূত সম্মেলনের শেষ দিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপ এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত থাকবে। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিরসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে সেটা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি আমরা।’

এটাকে একটা চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এই রকম নয় যে, চুক্তি স্বাক্ষর করলাম, আর শেষ হয়ে গেল। এটা বাস্তবায়নে নানা রকম চড়াই-উতরাই থাকবে। এতে ভয় পেলে চলবে না, আমাদের কাজ আমরা চালিয়ে যাব।’

বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়া মিযানমারের রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারে সে দেশের স্টেট কাউন্সিলর সু চির দপ্তরে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পারসন্স ফ্রম রাখাইন স্টেট’ শীর্ষক সমঝোতা চুক্তিতে সেই করে। এই চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হয়নি বলে দাবি করছেন বিএনপির নেতারা।

গোটা পৃথিবী মিয়ানমারকে চাপ দিতে বাংলাদেশকে সমর্থন করছে বলে দাবি করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় মনে হতে পারে কেউ কেউ আমাদের বিরোধিতা করছে। ব্যাপারটা ভুল। সবার সমর্থনের যে প্রকৃতি সেটা জাতিসংঘের সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিষদের যে বৈঠক হয়েছিল তাতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। সবাই কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট সমর্থন করেছে।’

মিয়ানমারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিষয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দলের কাজ হচ্ছে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা। কিন্তু সেটা না করে, না জেনেশুনে, না পড়ে বলছে দেশ বিক্রি করে দিল। এটা তো দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক বিষয়ে সব সময় বিরোধী দলের উচিত দেশের পক্ষে সমর্থন দেওয়া।’

মিয়ানমারের সঙ্গে করা সমঝোতা চুক্তিটি সবাইকে পড়ার অনুরোধ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দয়া করে না দেখে শুনে নিন্দা করবেন না, এটা ঠিক না। কেউ যদি আলাদাভাবে চায় আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দিয়ে দিব। এটা সবার পড়া দরকার এবং এটার মধ্যে কী আছে সেটা সবার জানা দরকার।’

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দূত সম্মেলনের সমাপনী আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক।

দূত সম্মেলনের তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে এ সম্মেলন। রবিবার ‘জনগণ ও শান্তির জন্য কূটনীতি’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ সম্মেলনে ৫৮ দেশে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও আবাসিক প্রতিনিধিরা বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।