ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

নির্বাচনি কর্মকর্তাদের আগাম ভোটের বিধান রেখে ৩১ প্রস্তাব

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বাধীন ইসির আইন সংস্কার সংক্রান্ত কমিটি বিদ্যমান আইনটি পর্যালোচনা করে সংশোধনী প্রস্তাবনা তৈরি করেছে।

এছাড়া সংশোধনী প্রস্তাবে ইসির সঙ্গে রাজনৈতিক দলসহ সুশীল সমাজের দেওয়া সুপারিশগুলোও আমলে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান আইনটি বাংলায় অনুবাদসহ ৩১টি সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ভোটিং ব্যবস্থা প্রযুক্তিনির্ভর করতে ডিজিটাল ভোটিং মেশিনে (ডিভিএম) ভোটগ্রহণের বিধান অন্তর্ভুক্তি, জামানত বৃদ্ধি, স্বতন্ত্র প্রার্থিতার জন্য শর্ত শিথিল, নির্বাচনি কর্মকর্তাদের জন্য আগাম ভোট দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সোমবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১৩তম সভায় আরপিও সংশোধনীর সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। তবে, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, সংশোধানী প্রস্তাবনায় নির্বাচনে স্বচ্ছতা বাড়াতে বেশকিছু নতুন প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা, স্বতন্ত্র প্রার্থিতা সহজ করা, নির্বাচন-প্রক্রিয়া সহজ করতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রকাশ্যে টানিয়ে দেওয়া ও ব্যয় মনিটরিংয়ে কমিটি গঠনের বিধান আরপিওতে সংযোজনের প্রস্তাব করেছে আইন সংস্কার কমিটি।

সোমবারের কমিশন বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বাধীন কমিটির তৈরি করা প্রাথমিক সুপারিশ কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সভায় তেমন কোনও আলোচনা হয়নি। তবে এসব সুপারিশ পর্যালোচনা করতে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত সুপারিশে আরপিও‘র ২০ (এ) ধারায় ইভিএম ব্যবহারের বিধান সংযোজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হলে ৩১ ধারার অধীনে গোপন ব্যালটে অথবা নির্দিষ্ট ইভিএম বা ডিভিএম এ ভোটগ্রহণ করা যাবে।

এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়েছে, নির্বাচনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইভিএম বা ডিভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের জন্য নতুন বিধান সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশোধনী প্রস্তাবে জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। যদিও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইসির সঙ্গে সংলাপে দুয়েকটি দল বাদে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই জামানত কমানোর সুপারিশ করেছিল।

সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থিতার শর্ত সহজ করার প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তবনায়। আরপিওর ১২ (৩-এ) (এ) ধারায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে এক হাজার ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তালিকা জমা দেওয়ার বিধান যুক্তের কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট আসনের মোট ভোটারের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

অর্থাৎ কোনও সংসদীয় আসনে ৫ লাখ ভোটার থাকলে ৫ হাজার ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তালিকা জমা দিতে হয়। নতুন বিধান বাস্তবায়িত হলে ভোটার সংখ্যা যতই হোক না কেন, এক হাজার ভোটারের সমর্থন থাকলেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া যাবে। এছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইসিটি অনুবিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে বিধানটি চূড়ান্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবনায় নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনতে আরপিওতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নামের তালিকা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে তিন দিনের জন্য টানিয়ে রাখার বিধান সংযোজনের কথা বলা হয়েছে। কোনও প্রার্থী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এ বিধানে সংযোজনের জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে ১২ ডিজিটের টিআইএন (ই-টিন) সনদ দাখিল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আরপিওর ২৭(১)(২) ধারায় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আগাম ভোটগ্রহণ ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে ভোট দিতে হবে বলে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে।

প্রস্তাবনায় আরপিওর ৩৮ ধারায় সংশোধনী এনে কোনও আসনে দুই বা তার বেশি প্রার্থী সমানসংখ্যক ভোট পেলে সেখানে ওইসব প্রার্থীর মধ্যে পুনরায় ভোটগ্রহণের বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে সমভোট পেলে লটারির বিধান রয়েছে।

এ বিধান সংশোধনীর বিষয়ে বলা হয়েছে, লটারির পরিবর্তে ভোটাধিকারের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচনে অবৈধ টাকার প্রভাব রোধ এবং নির্বাচনি ব্যয় নির্ধারিত টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে আরপিওর ৪৪বি (৬) ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ধারায় একটি মনিটরিং কমিটি গঠন এবং প্রত্যেক প্রার্থীর প্রতি সপ্তাহে ব্যয়ের খরচ দাখিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনি পরিবেশ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়ম, কোনও প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের বড় ধরনের অনিয়ম বা আচরণবিধি লঙ্ঘন— ইত্যাদি সম্পর্কে সরসারি খোঁজখবর নিতে তৃতীয় চোখ নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। আরপিও-এর ৯১সি (৮) ধারায় নির্বাচনি পর্যবেক্ষক নিয়োগের বিধান যুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। ৯১-এ (এ) ধারায় নির্বাচন নিয়ে জমা হওয়া অভিযোগ সম্পর্কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াসহ গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অভিযোগকারীকে জানানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমিশন সভায় আরপিও সংশোধনের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আরপিও সংশোধনের বিষয়ে কমিশন সভায় আলোচনা হয়নি।’

ইভিএম যুক্তকরণ বিষয়ে কয়েকদিন আগে ইসি সচিব বলেছিলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর হতেই হবে। আজ হোক আর কাল হোক আমাদের ভোটগ্রহণে প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকতে হবে। এ জন্য আমরা আরপিওতে ইভিএম বা ডিভিএম যুক্ত করতে চাই। তবে, আরপিওতে বিধান যুক্ত করলেও এই মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা নেই। আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় এর ব্যবহার আস্তে আস্তে বাড়াবো। এরপর ভোটারগণ এতে অভ্যস্ত হলেই জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি ঘোষিত রোডম্যাপে সাতটি কর্মপরিকল্পনার প্রথমটি হচ্ছে, ‘আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও সংস্কার’। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বাধীন আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটি ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী আরপিও, সীমানা সংক্রান্ত আইনসহ মোট সাতটি আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা করে সংযোজন বা বিয়োজন ও সংশোধনের সুপারিশ করার কাজ করছে। রোডম্যাপে ডিসেম্বরের মধ্যে আইন সংস্কারের প্রাসঙ্গিক খসড়া তৈরি ও ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা নেওয়ার সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনি কর্মকর্তাদের আগাম ভোটের বিধান রেখে ৩১ প্রস্তাব

আপডেট সময় ০৩:১৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বাধীন ইসির আইন সংস্কার সংক্রান্ত কমিটি বিদ্যমান আইনটি পর্যালোচনা করে সংশোধনী প্রস্তাবনা তৈরি করেছে।

এছাড়া সংশোধনী প্রস্তাবে ইসির সঙ্গে রাজনৈতিক দলসহ সুশীল সমাজের দেওয়া সুপারিশগুলোও আমলে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান আইনটি বাংলায় অনুবাদসহ ৩১টি সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ভোটিং ব্যবস্থা প্রযুক্তিনির্ভর করতে ডিজিটাল ভোটিং মেশিনে (ডিভিএম) ভোটগ্রহণের বিধান অন্তর্ভুক্তি, জামানত বৃদ্ধি, স্বতন্ত্র প্রার্থিতার জন্য শর্ত শিথিল, নির্বাচনি কর্মকর্তাদের জন্য আগাম ভোট দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সোমবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১৩তম সভায় আরপিও সংশোধনীর সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। তবে, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, সংশোধানী প্রস্তাবনায় নির্বাচনে স্বচ্ছতা বাড়াতে বেশকিছু নতুন প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা, স্বতন্ত্র প্রার্থিতা সহজ করা, নির্বাচন-প্রক্রিয়া সহজ করতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রকাশ্যে টানিয়ে দেওয়া ও ব্যয় মনিটরিংয়ে কমিটি গঠনের বিধান আরপিওতে সংযোজনের প্রস্তাব করেছে আইন সংস্কার কমিটি।

সোমবারের কমিশন বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বাধীন কমিটির তৈরি করা প্রাথমিক সুপারিশ কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সভায় তেমন কোনও আলোচনা হয়নি। তবে এসব সুপারিশ পর্যালোচনা করতে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত সুপারিশে আরপিও‘র ২০ (এ) ধারায় ইভিএম ব্যবহারের বিধান সংযোজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হলে ৩১ ধারার অধীনে গোপন ব্যালটে অথবা নির্দিষ্ট ইভিএম বা ডিভিএম এ ভোটগ্রহণ করা যাবে।

এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়েছে, নির্বাচনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইভিএম বা ডিভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের জন্য নতুন বিধান সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশোধনী প্রস্তাবে জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। যদিও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইসির সঙ্গে সংলাপে দুয়েকটি দল বাদে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই জামানত কমানোর সুপারিশ করেছিল।

সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থিতার শর্ত সহজ করার প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তবনায়। আরপিওর ১২ (৩-এ) (এ) ধারায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে এক হাজার ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তালিকা জমা দেওয়ার বিধান যুক্তের কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট আসনের মোট ভোটারের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

অর্থাৎ কোনও সংসদীয় আসনে ৫ লাখ ভোটার থাকলে ৫ হাজার ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তালিকা জমা দিতে হয়। নতুন বিধান বাস্তবায়িত হলে ভোটার সংখ্যা যতই হোক না কেন, এক হাজার ভোটারের সমর্থন থাকলেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া যাবে। এছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইসিটি অনুবিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে বিধানটি চূড়ান্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবনায় নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনতে আরপিওতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নামের তালিকা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে তিন দিনের জন্য টানিয়ে রাখার বিধান সংযোজনের কথা বলা হয়েছে। কোনও প্রার্থী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এ বিধানে সংযোজনের জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে ১২ ডিজিটের টিআইএন (ই-টিন) সনদ দাখিল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আরপিওর ২৭(১)(২) ধারায় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আগাম ভোটগ্রহণ ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে ভোট দিতে হবে বলে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে।

প্রস্তাবনায় আরপিওর ৩৮ ধারায় সংশোধনী এনে কোনও আসনে দুই বা তার বেশি প্রার্থী সমানসংখ্যক ভোট পেলে সেখানে ওইসব প্রার্থীর মধ্যে পুনরায় ভোটগ্রহণের বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে সমভোট পেলে লটারির বিধান রয়েছে।

এ বিধান সংশোধনীর বিষয়ে বলা হয়েছে, লটারির পরিবর্তে ভোটাধিকারের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচনে অবৈধ টাকার প্রভাব রোধ এবং নির্বাচনি ব্যয় নির্ধারিত টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে আরপিওর ৪৪বি (৬) ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ধারায় একটি মনিটরিং কমিটি গঠন এবং প্রত্যেক প্রার্থীর প্রতি সপ্তাহে ব্যয়ের খরচ দাখিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনি পরিবেশ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়ম, কোনও প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের বড় ধরনের অনিয়ম বা আচরণবিধি লঙ্ঘন— ইত্যাদি সম্পর্কে সরসারি খোঁজখবর নিতে তৃতীয় চোখ নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। আরপিও-এর ৯১সি (৮) ধারায় নির্বাচনি পর্যবেক্ষক নিয়োগের বিধান যুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। ৯১-এ (এ) ধারায় নির্বাচন নিয়ে জমা হওয়া অভিযোগ সম্পর্কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াসহ গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অভিযোগকারীকে জানানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমিশন সভায় আরপিও সংশোধনের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আরপিও সংশোধনের বিষয়ে কমিশন সভায় আলোচনা হয়নি।’

ইভিএম যুক্তকরণ বিষয়ে কয়েকদিন আগে ইসি সচিব বলেছিলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর হতেই হবে। আজ হোক আর কাল হোক আমাদের ভোটগ্রহণে প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকতে হবে। এ জন্য আমরা আরপিওতে ইভিএম বা ডিভিএম যুক্ত করতে চাই। তবে, আরপিওতে বিধান যুক্ত করলেও এই মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা নেই। আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় এর ব্যবহার আস্তে আস্তে বাড়াবো। এরপর ভোটারগণ এতে অভ্যস্ত হলেই জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি ঘোষিত রোডম্যাপে সাতটি কর্মপরিকল্পনার প্রথমটি হচ্ছে, ‘আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও সংস্কার’। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বাধীন আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটি ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী আরপিও, সীমানা সংক্রান্ত আইনসহ মোট সাতটি আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা করে সংযোজন বা বিয়োজন ও সংশোধনের সুপারিশ করার কাজ করছে। রোডম্যাপে ডিসেম্বরের মধ্যে আইন সংস্কারের প্রাসঙ্গিক খসড়া তৈরি ও ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা নেওয়ার সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে।