ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সীমান্তে পুশ ইন তৎপরতায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে: সাইফুল হক ফ্যামিলি কার্ড অস্বচ্ছল পরিবারের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠবে’:ফরিদা খানম কৃতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আড্ডায় মাতলেন জাইমা রহমান বিমানভর্তি অর্থ দিয়ে ইরানকে চুক্তিতে রাজি করিয়েছিলেন ওবামা: ডোনাল্ড ট্রাম্প সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন চাইলেন জামায়াত এমপি আইফোন চুরির অপবাদে স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, বিক্ষোভ-ভাঙচুর এবারের বাজেট চানাচুরের মতো, শুনতে ভালো খেলে পেট খারাপ: সংসদে আমির হামজা হামের টিকাদানে গাফিলতি থাকলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্জ্য সংগ্রহে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় হলে নতুন ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসক

মায়ের লিভারে শিশু আমানের নতুন জীবন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মায়ের দেয়া লিভারে নতুন জীবন পেলো ৩ বছর বয়সী আমান জাওয়াদ উদ্দিন। দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালে লিভার প্রতিস্থাপন করা হয় এই বাংলাদেশি শিশুর। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে চিকিৎসকরা শিশু আমানের অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আমান জাওয়াদকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে জানা যায় হেপাটাইটিস-এ এর কারণে শিশুটির লিভার বিকল হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে শিশুটির লিভার প্রতিস্থাপন করাতে বলেন। তার পরিবার দিল্লির অ্যাপলো হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর ভারতীয় হাই কমিশন ‘রেকর্ড সময়ের’ দ্রুততায় ভিসা ইস্যু করে আমানের জন্য।

হাসপাতালে ভর্তির পর পরীক্ষা করে দেখা যায়, আমানের মা তানজিম রাহার লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত। ২০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে পৌঁছার ৩৬ ঘন্টার মধ্যেই শিশুটির লিভার প্রতিস্থাপনের অপারেশন শুরু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, লিভার প্রতিস্থাপনটি সফল ছিলো। অপারেশনের ৫ম দিনের মাথায় আমান তার পরিবারকে চিনতে পারে এবং কথা বলতে শুরু করে।লিভার প্রতিস্থাপনের সঙ্গে যুক্ত অ্যাপোলো হাসপাতালের গ্রুপ মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. অনুপম সিবাল বলেন, অপারেশনটি ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ শিশুটি ইতোমধ্যেই হেপাটনিক এনকেফেলাপ্যাথি’র তৃতীয় পর্যায়ে থাকার কারণে লিভার দেহ থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে পারছিলো না। এর ফলে মস্তিষ্কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলো।

‘এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভাবে লিভার প্রতিস্থাপনই ছিল শিশুটিকে বাঁচানোর একমাত্র উপায়। আমরা এমন একটি জটিল কাজ বিপদমুক্তভাবে করতে পেরে অত্যন্ত খুশি।’

১৯৯৮ সালে দিল্লি অ্যাপোলো হাসপাতালে প্রথমবারের মত সফল লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়। তখন থেকে অ্যাপোলো’তে দুই হাজার নয়শ’র বেশি লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৩৫ জন শিশু। বাংলাদেশের বারডেম হাসপাতাল ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো স্বল্প পরিসরে লিভার প্রতিস্থাপন শুরু করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান চুক্তির শর্তাবলী কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না, যা বললেন ভ্যান্স

মায়ের লিভারে শিশু আমানের নতুন জীবন

আপডেট সময় ১১:০২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মায়ের দেয়া লিভারে নতুন জীবন পেলো ৩ বছর বয়সী আমান জাওয়াদ উদ্দিন। দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালে লিভার প্রতিস্থাপন করা হয় এই বাংলাদেশি শিশুর। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে চিকিৎসকরা শিশু আমানের অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আমান জাওয়াদকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে জানা যায় হেপাটাইটিস-এ এর কারণে শিশুটির লিভার বিকল হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে শিশুটির লিভার প্রতিস্থাপন করাতে বলেন। তার পরিবার দিল্লির অ্যাপলো হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর ভারতীয় হাই কমিশন ‘রেকর্ড সময়ের’ দ্রুততায় ভিসা ইস্যু করে আমানের জন্য।

হাসপাতালে ভর্তির পর পরীক্ষা করে দেখা যায়, আমানের মা তানজিম রাহার লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত। ২০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে পৌঁছার ৩৬ ঘন্টার মধ্যেই শিশুটির লিভার প্রতিস্থাপনের অপারেশন শুরু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, লিভার প্রতিস্থাপনটি সফল ছিলো। অপারেশনের ৫ম দিনের মাথায় আমান তার পরিবারকে চিনতে পারে এবং কথা বলতে শুরু করে।লিভার প্রতিস্থাপনের সঙ্গে যুক্ত অ্যাপোলো হাসপাতালের গ্রুপ মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. অনুপম সিবাল বলেন, অপারেশনটি ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ শিশুটি ইতোমধ্যেই হেপাটনিক এনকেফেলাপ্যাথি’র তৃতীয় পর্যায়ে থাকার কারণে লিভার দেহ থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে পারছিলো না। এর ফলে মস্তিষ্কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলো।

‘এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভাবে লিভার প্রতিস্থাপনই ছিল শিশুটিকে বাঁচানোর একমাত্র উপায়। আমরা এমন একটি জটিল কাজ বিপদমুক্তভাবে করতে পেরে অত্যন্ত খুশি।’

১৯৯৮ সালে দিল্লি অ্যাপোলো হাসপাতালে প্রথমবারের মত সফল লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়। তখন থেকে অ্যাপোলো’তে দুই হাজার নয়শ’র বেশি লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৩৫ জন শিশু। বাংলাদেশের বারডেম হাসপাতাল ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো স্বল্প পরিসরে লিভার প্রতিস্থাপন শুরু করে।