ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উত্তরায় কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ড ঢাকাসহ তিন জেলায় নামছে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি নির্বাচিত হলে নাগরিক সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি ইশরাকের নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে কুমিল্লাকে বিভাগ করা হবে প্রতিশ্রুতি আসিফ মাহমুদের ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের কথা বলা জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি: সালাহউদ্দিন প্লেব্যাক থেকে বিদায় নিলেন অরিজিৎ, জানালেন একাধিক কারণ কোন উস্কানিমূলক কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডে পা দিবে না বিএনপির: মির্জা আব্বাস জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে: প্রধান উপদেষ্টা গতকালের ঘটনার পরে অসহিষ্ণুতা দেখতে পাচ্ছি: নাহিদ ইসলাম কাজ দেওয়ার নামে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে

বিচারপতি সিনহার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে অপেক্ষা করছে সরকার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুদকের উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ বলে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ মনে করলেও সংস্থাটির কোনো তৎপরতা নেই। এক্ষেত্রে ‘অপেক্ষা করতে’ বলছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম উভয়ই।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে দীর্ঘ ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর সেখান থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বিচারপতি সিনহা। বিদেশ যাওয়ার আগে তার দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো বিরল এক বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে ১১টি ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের’ কথা বলা হয়।

এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ, যা রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে পেয়েছেন বলে সর্বোচ্চ আদালতে তার অন্য সহকর্মীরা জানান। যে রায় দিয়ে বিচারপতি সিনহা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে এনেছেন, এই ধরনের অভিযোগ উঠলে তাই এখন অপসারণের পদ্ধতি।

বিচারপতি সিনহা নিজেই পদত্যাগ করায় তার আর প্রয়োজন নেই। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে ফৌজদারি অভিযোগ উঠেছে, তার কী হবে?

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে যে ১১টি অভিযোগ উত্থাপন করে সুপ্রিম কোর্ট বিবৃতি দিয়েছিল, তার ভিত্তিতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত করা উচিৎ।

“এর ভিত্তিতে তদন্ত করতে কোনো বাধা নেই। কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন, প্রধান বিচারপতিও নন,” বলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক এই সভাপতি। “তদন্তে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেলে মামলা দায়ের করে সামনে অগ্রসর হওয়া যাবে। তখন নোটিস যাবে, সেক্ষেত্রে যে কেউ হোক।”

এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনার গত সরকারের মন্ত্রী শফিক বলেন, “যে ধরনের অপরাধ, তাতে তার বিচার হলে কিংবা দণ্ড হলে নানা প্রক্রিয়ায় তাকে কানাডা থেকেও ফেরত আনা সম্ভব।” বিচারপতি সিনহা অস্ট্রেলিয়ায় বড় মেয়ের কাছে কিছু দিন থেকে এখন কানাডায় ছোট মেয়ের কাছে আছেন। কানাডা যাওয়ার পথে সিঙ্গাপুর থেকে তিনি গত ১১ নভেম্বর পদত্যাগপত্র পাঠান; যা ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়ে বিচারপতি সিনহা বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতাসীনদের আচরণে বিব্রত ও শঙ্কিত। তার পরদিন সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতি আসে; যাতে আপিল বিভাগে তার সহকর্মীদের উদ্ধৃত করে তাদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির এক বৈঠকে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ আসার কথা জানানো হয়।

শফিক আহমেদ মনে করেন, বিচারপতি সিনহার দেশ ছাড়ার আগেই সুপ্রিম কোর্টের তাদের বিবৃতি প্রকাশ করা উচিৎ ছিল। বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের বিষয়ে পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

পরে কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, “উনি দুর্নীতি করেছেন, অর্থ পাচার করেছেন, কেবল এই তথ্য পেলেই আমার জন্য তা যথেষ্ট না। “উনি কত টাকা লন্ডারিং করেছেন, কোথায় করেছেন- সুনির্দিষ্টভাবে লাগবে। কোন দুর্নীতি করেছেন, কোথায় করেছেন, কীভাবে করেছেন, তার সুনির্দিষ্ট ডাটা লাগবে।

“দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুসারে মামলা দায়েরের পর তদন্ত হয়। অনুসন্ধান করতে হলে আমাকে প্রাথমিক একটা উপাদান তো পেতে হবে।” তেমন কিছু দুদকের হাতে এখনও আসেনি বলে জানান খুরশীদ আলম।

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আসা এ সব অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী হবে, জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুলে আলম পুরো বিষয়টির ভার রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারের উপর দেন। তিনি বলেন, “আসলে অভিযোগগুলো কী কী, সেটা আমিও জানি না। যদি নৈতিক স্খলন জাতীয় কিছু হয়, তাহলে পদত্যাগের সাথে সাথে এগুলো অকার্যকর হয়ে গেছে।

“অন্য কোনো ব্যাপার যদি থাকে, সেগুলো কীভাবে নেবে, রাষ্ট্রপতির কাছে কী তথ্য আছে, সেগুলো রাষ্ট্রপতির ব্যাপার, সরকারের ব্যাপার।”

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে তার দায়িত্ব রয়েছে কি না- এই প্রশ্নে মাহবুবে আলম বলেন, “আমি এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারব না। আমার কাছে যেগুলো মামলা আসে, আমরা সেগুলো করি। আমি তো পলিসি মেকার না। এটা রাষ্ট্রপতি বা আইন মন্ত্রণালয় তাদের বিষয়।”

“আমি বিস্তারিত তথ্য জানিও না। এগুলো দুর্নীতি দমন কমিশন করবে, না কি পুলিশ করবে, না কি পুলিশের বিশেষ বিভাগ করবে, যারা পলিসি মেকার তারা জানবেন।”

বিচারপতি সিনহাকে নিয়ে আলোচনার মধ্যে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিষয়ে তদন্ত করছে দুদক। ওই তদন্ত আটকানোর অভিযোগও ওঠে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে।

ওই বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে মাহবুবে আলম বলেন, “জয়নুল আবেদীনের ব্যাপারে আজ যা হচ্ছে, সেটা আজকে ৭ বছর যাবত চলছে। অপেক্ষা করেন কী হয়, সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো কী হয়।”

বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

প্রধান বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে, তার অনুসন্ধান হবে এবং তা দুদকের মাধ্যমে করা হবে বলে আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিতে পারে বলে সংস্থাটির আইনজীবীর মন্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমি কিন্তু বলেছি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।”

“নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলে এজন্য অপেক্ষা করতে বলেন আনিসুল হক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ড

বিচারপতি সিনহার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে অপেক্ষা করছে সরকার

আপডেট সময় ০৯:০১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুদকের উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ বলে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ মনে করলেও সংস্থাটির কোনো তৎপরতা নেই। এক্ষেত্রে ‘অপেক্ষা করতে’ বলছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম উভয়ই।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে দীর্ঘ ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর সেখান থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বিচারপতি সিনহা। বিদেশ যাওয়ার আগে তার দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো বিরল এক বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে ১১টি ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের’ কথা বলা হয়।

এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ, যা রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে পেয়েছেন বলে সর্বোচ্চ আদালতে তার অন্য সহকর্মীরা জানান। যে রায় দিয়ে বিচারপতি সিনহা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে এনেছেন, এই ধরনের অভিযোগ উঠলে তাই এখন অপসারণের পদ্ধতি।

বিচারপতি সিনহা নিজেই পদত্যাগ করায় তার আর প্রয়োজন নেই। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে ফৌজদারি অভিযোগ উঠেছে, তার কী হবে?

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে যে ১১টি অভিযোগ উত্থাপন করে সুপ্রিম কোর্ট বিবৃতি দিয়েছিল, তার ভিত্তিতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত করা উচিৎ।

“এর ভিত্তিতে তদন্ত করতে কোনো বাধা নেই। কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন, প্রধান বিচারপতিও নন,” বলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক এই সভাপতি। “তদন্তে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেলে মামলা দায়ের করে সামনে অগ্রসর হওয়া যাবে। তখন নোটিস যাবে, সেক্ষেত্রে যে কেউ হোক।”

এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনার গত সরকারের মন্ত্রী শফিক বলেন, “যে ধরনের অপরাধ, তাতে তার বিচার হলে কিংবা দণ্ড হলে নানা প্রক্রিয়ায় তাকে কানাডা থেকেও ফেরত আনা সম্ভব।” বিচারপতি সিনহা অস্ট্রেলিয়ায় বড় মেয়ের কাছে কিছু দিন থেকে এখন কানাডায় ছোট মেয়ের কাছে আছেন। কানাডা যাওয়ার পথে সিঙ্গাপুর থেকে তিনি গত ১১ নভেম্বর পদত্যাগপত্র পাঠান; যা ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়ে বিচারপতি সিনহা বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতাসীনদের আচরণে বিব্রত ও শঙ্কিত। তার পরদিন সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতি আসে; যাতে আপিল বিভাগে তার সহকর্মীদের উদ্ধৃত করে তাদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির এক বৈঠকে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ আসার কথা জানানো হয়।

শফিক আহমেদ মনে করেন, বিচারপতি সিনহার দেশ ছাড়ার আগেই সুপ্রিম কোর্টের তাদের বিবৃতি প্রকাশ করা উচিৎ ছিল। বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের বিষয়ে পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

পরে কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, “উনি দুর্নীতি করেছেন, অর্থ পাচার করেছেন, কেবল এই তথ্য পেলেই আমার জন্য তা যথেষ্ট না। “উনি কত টাকা লন্ডারিং করেছেন, কোথায় করেছেন- সুনির্দিষ্টভাবে লাগবে। কোন দুর্নীতি করেছেন, কোথায় করেছেন, কীভাবে করেছেন, তার সুনির্দিষ্ট ডাটা লাগবে।

“দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুসারে মামলা দায়েরের পর তদন্ত হয়। অনুসন্ধান করতে হলে আমাকে প্রাথমিক একটা উপাদান তো পেতে হবে।” তেমন কিছু দুদকের হাতে এখনও আসেনি বলে জানান খুরশীদ আলম।

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আসা এ সব অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী হবে, জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুলে আলম পুরো বিষয়টির ভার রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারের উপর দেন। তিনি বলেন, “আসলে অভিযোগগুলো কী কী, সেটা আমিও জানি না। যদি নৈতিক স্খলন জাতীয় কিছু হয়, তাহলে পদত্যাগের সাথে সাথে এগুলো অকার্যকর হয়ে গেছে।

“অন্য কোনো ব্যাপার যদি থাকে, সেগুলো কীভাবে নেবে, রাষ্ট্রপতির কাছে কী তথ্য আছে, সেগুলো রাষ্ট্রপতির ব্যাপার, সরকারের ব্যাপার।”

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে তার দায়িত্ব রয়েছে কি না- এই প্রশ্নে মাহবুবে আলম বলেন, “আমি এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারব না। আমার কাছে যেগুলো মামলা আসে, আমরা সেগুলো করি। আমি তো পলিসি মেকার না। এটা রাষ্ট্রপতি বা আইন মন্ত্রণালয় তাদের বিষয়।”

“আমি বিস্তারিত তথ্য জানিও না। এগুলো দুর্নীতি দমন কমিশন করবে, না কি পুলিশ করবে, না কি পুলিশের বিশেষ বিভাগ করবে, যারা পলিসি মেকার তারা জানবেন।”

বিচারপতি সিনহাকে নিয়ে আলোচনার মধ্যে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিষয়ে তদন্ত করছে দুদক। ওই তদন্ত আটকানোর অভিযোগও ওঠে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে।

ওই বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে মাহবুবে আলম বলেন, “জয়নুল আবেদীনের ব্যাপারে আজ যা হচ্ছে, সেটা আজকে ৭ বছর যাবত চলছে। অপেক্ষা করেন কী হয়, সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো কী হয়।”

বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

প্রধান বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে, তার অনুসন্ধান হবে এবং তা দুদকের মাধ্যমে করা হবে বলে আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিতে পারে বলে সংস্থাটির আইনজীবীর মন্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমি কিন্তু বলেছি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।”

“নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলে এজন্য অপেক্ষা করতে বলেন আনিসুল হক।