অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চি রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর এই প্রথমবার রাখাইন সফরে গিয়েছেন। সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সু চি তাঁর একদিনের সফরে রাখাইনের দুটি শহর পরিদর্শন করবেন। রয়টার্স জানিয়েছে, তাদের একজন সাংবাদিক বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিটুয়েতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সু চিকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে চড়তে দেখেছেন।
সরকারের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, সু চি বর্তমানে রাখাইনের সিটুয়েতে অবস্থান করছেন। এরপর তিনি মংডু এবং বুথিডং এলাকা সফর করবেন। এই দুটো এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকেই মূলত হাজার-হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তবে সু চির সফর সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে চায়নি তাঁর দফতর। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ড এবং দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কোন অবস্থান না নেয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে এরই মধ্যে বেশ সমালোচিত হয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর দিক থেকে হুমকি আসতে পারে, এমন আশংকায় মিস সু চি তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে চান না।
গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের দুই ডজনের অধিক পুলিশ ও সেনাক্যাম্পে হামলার ঘটনা ঘটে। একে কেন্দ্র করে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্বিচারে নির্যাতন-হত্যা চালায়। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। প্রতিদিন নতুন করে বাংলাদেশ সীমান্তে এসে ভিড় করছে রোহিঙ্গা সদস্যরা। এ ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনের ধ্রুপদি’ উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ।
তবে কোনো ধরনের নির্যাতন-হত্যা-ধর্ষণের অভিযোগ বরাবরই নাকচ করে আসছে দেশটির সেনাবাহিনী ও অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি। রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় সারা বিশ্বেই সমালোচনার মুখে পড়েন নোবেল পুরস্কারজয়ী সু চি। প্রায় দেড় দশকের অধিক সময় গৃহবন্দি থাকা সু চি পাঁচ দশক ধরে দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ক্ষমতা নেন দুই বছরের কম সময় আগে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















